ট্রাম্প প্রশাসনের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের নীতি বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতের বিচারক। শুক্রবার দেওয়া রায়ে বিচারক বলেছেন, এ ধরনের নীতি নেওয়ার আইনগত ক্ষমতা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেই।
ম্যানহাটনের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক জেনেট ভার্গাস বলেন, জানুয়ারিতে পররাষ্ট্র দপ্তর যে নীতি ঘোষণা করেছিল, সেটি ‘স্পষ্টতই বেআইনি’ এবং দেশটির অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
রায়ে বলা হয়, আইন অনুযায়ী কনস্যুলার কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিত। তাই কোনো আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে পুরো একটি দেশের নাগরিকদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া আইনসম্মত নয়।
বিচারক বলেন, জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা দেওয়া নিষিদ্ধ করার এই নীতি বিদ্যমান আইনি কাঠামোর সরাসরি লঙ্ঘন।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতির আওতায় লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ের মতো দেশ ছিল। বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও আলবেনিয়া, দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান ও বাংলাদেশও তালিকায় ছিল। এ ছাড়া আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বহু দেশের নাগরিকও এই স্থগিতাদেশের আওতায় পড়েছিলেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানুয়ারিতে জানিয়েছিল, এসব দেশের আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি। এ কারণে তাদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে বলে দপ্তরটি জানিয়েছিল।
তবে শুক্রবারের রায়ের বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এই মামলাটি দায়ের করেছিল অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা কয়েকটি সংগঠন। তাদের সঙ্গে মামলায় যুক্ত ছিলেন ভিসার আবেদনকারী এবং যুক্তরাষ্ট্রের এমন নাগরিকেরা, যারা তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিক পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য স্পনসর করেছিলেন।
বিচারক জেনেট ভার্গাস সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারক।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করেছেন। প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য দেশের নিরাপত্তা জোরদার করা।
তবে অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর অভিযোগ, প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে বৈষম্যমূলকভাবে আইন প্রয়োগ ও ‘রেসিয়াল প্রোফাইলিং’ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
শুক্রবারের রায়ের ফলে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার নীতিতে বড় ধরনের আইনি বাধা তৈরি হলো। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই রায়ের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম