আমেরিকা

আলাস্কার হিমশীতল সাগরে উল্টে যাওয়া নৌকায় দুই দিন ভেসে থেকে বাঁচল কিশোর

আলাস্কার বেরিং সাগরের হিমশীতল পানিতে উল্টে যাওয়া একটি নৌকার ওপর বসে দুই দিন কাটানোর পর ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বড় ভাই ও এক চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা কিশোরটির নাম ডেরেক পার্কার আগনাঙ্গা বলে জানিয়েছেন। নৌকাটিতে থাকা তিনজনের মধ্যে একমাত্র সে-ই বেঁচে ফিরেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড জানায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার তারা আলাস্কার উপকূলের সেন্ট লরেন্স দ্বীপ থেকে মাছ ধরতে বেরিয়েছিল। পরদিন রোববার বিকেলে তাদের ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু ১৮ ফুটের মাছ ধরার নৌকাটি নির্ধারিত সময়ে ফিরে না আসায় কোস্ট গার্ড অনুসন্ধান শুরু করে। সোমবার সকালে কোস্ট গার্ডের একটি বিমান নৌকাটি শনাক্ত করে। তখন কিশোরটি উল্টে যাওয়া নৌকার ওপর বসে ছিল। কাছাকাছি থাকা একটি মাছ ধরার নৌকা দ্রুত সেখানে গিয়ে তাকে নিরাপদে তুলে নেয়। একই নৌকাটি পরে কিশোরটির বড় ভাই ও চাচাতো ভাইয়ের মরদেহও উদ্ধার করে। কোস্ট গার্ডের আর্কটিক ডিস্ট্রিক্টের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল বব লিটল বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত দুই নাবিকের পরিবার, বন্ধু ও সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের প্রতি তাদের গভীর সমবেদনা রয়েছে। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, উদ্ধারের সময় কিশোরটির শরীরে হাইপোথার্মিয়ার লক্ষণ দেখা যায়। অর্থাৎ দীর্ঘ সময় প্রচণ্ড ঠান্ডায় থাকার কারণে তার শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে গিয়েছিল। কিশোরটিকে উদ্ধারকারী মাছ ধরার নৌকার ক্যাপ্টেন অ্যাডাম হোয়াইট স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেটিইউইউ-টিভিকে জানান, কিশোরটি প্রচণ্ড ঠান্ডা ও অন্ধকারের মধ্যেও উল্টে যাওয়া নৌকাটি আঁকড়ে ধরে ছিল। ওই সময় পানির তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৫০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হোয়াইট বলেন, “ছেলেটি সত্যিই অনেক সাহসী।” তিনি জানান, উদ্ধার হওয়ার সময় দাঁতে দাঁত লেগে কাঁপছিল কিশোরটি। সে বলেছিল, তার বড় ভাই তখনও নৌকার নিচে আটকে আছেন। এরপর সে জানায়, আগের রাতে তার চাচাতো ভাই নৌকা থেকে পিছলে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন। কিশোরটির মা ভিনা কুলোউইয়ি ফেসবুকে লিখেছেন, শনিবার তাদের মাছ ধরার নৌকাটি উল্টে যায়। এরপর দুই দিন সমুদ্রে খাবার ও পানি ছাড়াই নৌকার ওপর থাকতে হয় তার ছেলেকে। তিনি জানান, তার ছেলেরা মাছ ধরতে ভালোবাসত এবং নিজেদের সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতেই তারা সাগরে গিয়েছিল। আলাস্কার উপকূলের সেন্ট লরেন্স দ্বীপের সাভোঙ্গা গ্রামের অনেক বাসিন্দার স্থানীয় দোকান থেকে সবসময় মাংস কেনার সুযোগ থাকে না। প্রায় ৮০০ মানুষের এই গ্রামটিতে মূলত সাইবেরিয়ান ইউপিক জনগোষ্ঠীর বসবাস। সেখানে ইংরেজির পাশাপাশি সেন্ট লরেন্স আইল্যান্ড ইউপিক ভাষাও প্রচলিত। কুলোউইয়ি বলেন, তার ছেলেরা ছোটবেলা থেকেই পরিবার ও সম্প্রদায়ের জন্য খাবার সংগ্রহ করে দেওয়ার ঐতিহ্যের মধ্যে বড় হয়েছে। শিকার করা, খাবার সংগ্রহ করা এবং তা অন্য পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া তাদের সংস্কৃতির অংশ। উদ্ধারের পর বেঁচে যাওয়া কিশোরটি এখন বাড়িতে থেকে সুস্থ হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন তার মা। ছেলের বেঁচে ফেরাকে অবিশ্বাস্য ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরো সময় কিশোরটি ভয় পায়নি। বরং নৌকার ওপর বসে সে পুরো সময় প্রার্থনা করছিল।