মালিবুতে নিজের বাড়ি রক্ষায় সরকারি সৈকত থেকে অবৈধভাবে বালু সরানোর অভিযোগ ওঠার পর এবার জনসাধারণকে ২০ লাখ ডলার মূল্যের একটি সমুদ্রসৈকতের সম্পত্তি দিচ্ছেন মিলওয়াকি ব্রুয়ার্সের মালিক মার্ক অ্যাটানাসিও। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মালিবু উপকূল পুনরুদ্ধারেও সম্মত হয়েছেন তিনি।
ক্যালিফোর্নিয়া কোস্টাল কমিশন (সিসিসি) বৃহস্পতিবার সর্বসম্মতভাবে একটি সমঝোতা অনুমোদন করার পর এ সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়। অ্যাটানাসিওর প্রতিষ্ঠান ২এক্সএমডি পার্টনার্স এলএলসি ২০২৪ সালে তার মালিবুর বাড়ির সামনে সমুদ্রতীর রক্ষায় সরকারি সৈকতের বালু ব্যবহার করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়া কোস্টাল কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মালিবুর ব্রড বিচ রোডের ৩১৪০০ ব্লকে অ্যাটানাসিওর বাড়ির সামনে থাকা সিওয়াল বা প্রতিরোধ দেয়াল ভরাট করতে প্রতিষ্ঠানটি একটি খননযন্ত্র ব্যবহার করে বালু, নুড়িপাথর ও বড় পাথর সরিয়ে নেয়। ওই এলাকা একটি সংরক্ষিত সামুদ্রিক অঞ্চল।
এ ছাড়া অনুমতি ছাড়াই নির্মিত একটি ব্যক্তিগত সিঁড়ি ও পাথরের দেয়াল দিয়ে সাধারণ মানুষের সৈকতে প্রবেশের পথও বাধাগ্রস্ত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে কমিশন।
কমিশন জানিয়েছে, ওই এলাকায় খননকাজের ফলে গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে সামুদ্রিক তারা, বিরল শৈবাল, কেল্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের আবাসস্থল রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলটি পয়েন্ট ডুম স্টেট মেরিন কনজারভেশন এলাকার অংশ।
সমঝোতা অনুযায়ী, অ্যাটানাসিওর প্রতিষ্ঠান পূর্ব মালিবুর একটি সম্পত্তি জনসাধারণের জন্য দান করবে। কমিশনের মতে, প্রায় ২০ লাখ ডলার মূল্যের এই সম্পত্তি উপকূলের এমন একটি অংশে জনসাধারণের প্রবেশের সুযোগ তৈরি করবে, যেখানে এতদিন মানুষের যাতায়াত বেশ কঠিন ছিল।
একই সঙ্গে সম্পত্তিটি উপকূলের প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং পরিবেশগত সুরক্ষা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
ক্যালিফোর্নিয়া কোস্টাল কমিশনের এনফোর্সমেন্ট বিভাগের ডেপুটি চিফ অ্যারন ম্যাকলেন্ডন সম্পত্তিটিকে ‘অত্যন্ত অনন্য’ বলে উল্লেখ করেছেন। কমিশনের নির্বাহী পরিচালক কেট হাকেলব্রিজ বলেন, মালিবুতে সাধারণ মানুষের জন্য সৈকতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার এটি একটি বিরল সুযোগ।
তিনি বলেন, একটি খারাপ পরিস্থিতিকে ক্যালিফোর্নিয়ার মানুষের জন্য বড় ধরনের ইতিবাচক ঘটনায় পরিণত করতে যারা কাজ করেছেন, তাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ।
লস এঞ্জেলেস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি বালু নেওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির ওপর জরিমানা আরোপের পরিবর্তে এই সম্পত্তি দানের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। অর্থাৎ, অভিযোগের নিষ্পত্তিতে প্রচলিত আর্থিক জরিমানার বদলে জনসাধারণের জন্য সৈকত সম্পত্তি দান করার পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।