আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে ৭ শতাংশের কাছাকাছি বন্ধকি ঋণের সুদ, বাড়ছে বাড়ি কেনার চাপ

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার জন্য ঋণ নেওয়ার খরচ আবারও বাড়ছে। ৩০ বছরের নির্দিষ্ট সুদের বন্ধকি ঋণের গড় হার ৭ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় সম্ভাব্য ক্রেতাদের জন্য বাড়ি কেনা আরও কঠিন হয়ে উঠছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফ্রেডি ম্যাকের হিসাবে, ৩০ বছরের বন্ধকি ঋণের গড় সুদ ছিল ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ, যা আগের সপ্তাহের ৬ দশমিক ৭১ শতাংশের চেয়ে বেশি। গত কয়েক মাস ধরেই বন্ধকি ঋণের সুদ বাড়ছে। ১০ সেপ্টেম্বরের ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ ছিল ২০২৫ সালের একই সময়ের ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশের চেয়েও বেশি। অন্যান্য ঋণদাতা ও বাজারভিত্তিক সূচকেও সাম্প্রতিক সময়ে ৩০ বছরের বন্ধকি ঋণের সুদ ৭ শতাংশের কাছাকাছি বা তার ওপরে উঠেছে। সুদের হার বাড়লে বাড়ি কেনার জন্য মাসিক কিস্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ফলে একই আয় ও ঋণ সক্ষমতা থাকলেও একজন ক্রেতা আগের তুলনায় কম দামের বাড়ি কেনার সামর্থ্য রাখেন। অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা তাই সুদের হার কমার অপেক্ষায় বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজার বেশ কিছুদিন ধরেই চাপের মধ্যে রয়েছে। মহামারির সময়ের তুলনামূলক কম সুদের হার থেকে ২০২২ সালের পর বন্ধকি ঋণের সুদ দ্রুত বাড়তে শুরু করে। এর সঙ্গে বাড়ির দাম বৃদ্ধি এবং দেশজুড়ে দীর্ঘদিনের আবাসন ঘাটতি যুক্ত হওয়ায় অনেক ক্রেতার জন্য বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। বন্ধকি ঋণের সুদের হার সরাসরি ফেডারেল রিজার্ভ নির্ধারণ করে না। তবে মূল্যস্ফীতি, ফেডের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বন্ডবাজারের পরিস্থিতি এর ওপর প্রভাব ফেলে। সাধারণত ১০ বছরের মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারের সঙ্গে বন্ধকি ঋণের সুদের একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এদিকে, গত বুধবার ফেডারেল রিজার্ভ তাদের মূল সুদের হার এক-চতুর্থাংশ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করেছে। ফেড জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি এখনো তুলনামূলকভাবে বেশি থাকায় মূল্যস্ফীতিকে ২ শতাংশের লক্ষ্যে ফেরাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফেডের সিদ্ধান্তের পর বন্ধকি ঋণের সুদের হার আরও বাড়বে কি না, তা নিয়ে বাজারে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সুদের হার যে হারে বেড়েছে, তার মধ্যে ফেডের সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের প্রত্যাশার কিছু প্রভাব ইতোমধ্যে থাকতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে সুদের হার কতটা বাড়বে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বাড়ি বিক্রির বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আগে থেকে মালিকানাধীন বাড়ির বিক্রি প্রায় স্থবির ছিল এবং ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে নিচু পর্যায়ের কাছাকাছি ছিল। চলতি বছরও বাড়ির ঋণের খরচ বাড়তে থাকায় বাজারে ক্রেতাদের আগ্রহ কমার চাপ তৈরি হয়েছে। সুদের হার কমলে ক্রেতারা একই মাসিক কিস্তিতে তুলনামূলক বেশি দামের বাড়ি কেনার সুযোগ পান। বিপরীতে সুদের হার বাড়লে তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। তবে কোনো নির্দিষ্ট ক্রেতা শেষ পর্যন্ত কত সুদে ঋণ পাবেন, তা তার আয়, ক্রেডিট স্কোর, ঋণের পরিমাণ এবং অন্যান্য আর্থিক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বাড়ি কেনার খরচ ও ঋণের সুদ—দুটিই ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকছে।