সান ফ্রান্সিসকোতে ফেন্টানিলের চেয়েও শক্তিশালী নতুন এক সিনথেটিক ওপিওয়েড ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাইক্লোরফিন (Cychlorphine) নামের এই মাদকটির সঙ্গে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যুর যোগসূত্র পাওয়ার পর চার সন্দেহভাজন মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এপ্রিল মাসে ওই কিশোরের মৃত্যুর পর তার ময়নাতদন্তে শরীরে সাইক্লোরফিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়। সান ফ্রান্সিসকোতে এটিই এখন পর্যন্ত এই মাদকের সঙ্গে যুক্ত প্রথম পরিচিত প্রাণহানির ঘটনা। শহরের কর্মকর্তাদের দাবি, মাদকটি ফেন্টানিলের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী হতে পারে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রচলিত ফেন্টানিল টেস্ট স্ট্রিপে সাইক্লোরফিন শনাক্ত করা যায় না। ফলে কালোবাজারে বিক্রি হওয়া নকল ওষুধের মধ্যে এটি থাকলেও সাধারণ পরীক্ষায় তা ধরা নাও পড়তে পারে। কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, দেখতে বৈধ ওষুধের মতো হলেও এসব নকল বড়িতে কী উপাদান রয়েছে তা বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই।
পুলিশের কয়েক মাসের তদন্তের পর ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে ২০ হাজারের বেশি নকল বড়ি, ফেন্টানিলসহ বিভিন্ন মাদক এবং তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এসব বড়ির মধ্যে নকল জ্যানাক্স ও অক্সিকোডোনও ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। জব্দ করা বড়ির কোনোটিতে সাইক্লোরফিন ছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে ফেডারেল ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সঙ্গে কাজ করছে পুলিশ।
তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরাই ওই কিশোরকে মৃত্যুর কারণ হওয়া মাদক সরবরাহ করেছিল—এমন প্রমাণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। তদন্তকারীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
সান ফ্রান্সিসকোর জেলা অ্যাটর্নি ব্রুক জেনকিন্স জানিয়েছেন, বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ার নিয়ন্ত্রিত মাদকের তালিকায় সাইক্লোরফিনের নাম নির্দিষ্টভাবে নেই। তাই এটি বিক্রির ঘটনায় মামলা করতে আইনগত কিছু জটিলতা তৈরি হচ্ছে। তিনি রাজ্য আইনসভাকে দ্রুত মাদকটিকে অবৈধ মাদকের তালিকায় যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, সাইক্লোরফিনে আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস মারাত্মকভাবে ধীর হয়ে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে নালোক্সোন, যা নারকান নামে পরিচিত, ব্যবহার করা উচিত। তবে নতুন এই মাদক নিয়ে অভিজ্ঞতা সীমিত হওয়ায় চিকিৎসা কত দ্রুত কার্যকর হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো জানা যায়নি।
সান ফ্রান্সিসকোর মেয়র ড্যানিয়েল লুরি বলেছেন, শহরে নতুন এই মাদকের বিস্তার ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ মাদকটির উৎস শনাক্ত এবং বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত সাইক্লোরফিনের সঙ্গে যুক্ত আর কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে টেস্ট কিটে মাদকটি শনাক্ত না হওয়ায় এর প্রকৃত বিস্তার আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।