লস এঞ্জেলেস

অ্যানাহেইমে ইনডোর মার্কেটে অবৈধ জ্যানাক্স বিক্রির অভিযোগ, ৫ জন গ্রেপ্তার

ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যানাহেইমে একটি ইনডোর সোয়াপ মিটে অবৈধ ওষুধ বিক্রির অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে অ্যানাহেইম মার্কেটপ্লেসে অভিযান চালিয়ে তিনটি দোকানে তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, প্রেসক্রিপশন ছাড়াই এসব দোকান থেকে বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে জ্যানাক্সের মতো ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছিল। অ্যানাহেইম পুলিশ জানিয়েছে, মার্কেটপ্লেসের তিনটি দোকানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত চলছিল। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর বুধবার সেখানে তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়। অভিযানের সময় পুলিশ ফার্মাপ্রাম নামের ওষুধের বেশ কিছু বোতল জব্দ করে। ফার্মাপ্রাম হলো যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ব্যবহৃত অ্যালপ্রাজোলামের একটি ব্র্যান্ড, যা জ্যানাক্সের জেনেরিক রূপ। পুলিশের দাবি, দোকানগুলো থেকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে এসব ওষুধ বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিষয়টি যাচাই করতে পুলিশ গোপনে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহার করে ওষুধ কিনেছিল বলেও জানিয়েছে। অ্যানাহেইম পুলিশের সার্জেন্ট ম্যাট সাটার বলেন, তদন্তে তিনটি দোকানের তিন বিক্রেতাকে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই যেকোনো ব্যক্তির কাছে অবৈধভাবে জ্যানাক্স বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তকারীরা জানান, এসব ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে অরেঞ্জ কাউন্টিতে আনা হচ্ছিল এবং বোতল হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছিল। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি বোতলে ৯০টি বড়ি ছিল এবং প্রতিটি বোতল প্রায় ১৫০ ডলারে বিক্রি করা হতো। কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এসব ওষুধ কেউ নিজের ব্যবহারের জন্য নিলেও তা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। আবার কেউ এগুলো স্থানীয়ভাবে, এমনকি স্কুলেও বিক্রি করতে পারে। অভিযানের সময় অ্যানাহেইম মার্কেটপ্লেস থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে একই দিন অ্যানাহেইমের নিজ বাড়ি থেকে ৪২ বছর বয়সী নিলভা ক্যানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, তিনটি দোকানের মালিক ক্যানা এবং পুরো কথিত মাদক বিক্রির কার্যক্রম তার নিয়ন্ত্রণে ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা অরেঞ্জ কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে এই ঘটনায় আরও কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। তল্লাশিতে জব্দ করা বড়িগুলোতে ফেন্টানিলের মতো অন্য কোনো অবৈধ মাদক মেশানো ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা ওষুধ পরীক্ষা করে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং তদন্তের পরবর্তী ধাপে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।