আমেরিকা

ট্রাম্পের আইসিই প্রধানের মনোনয়ন প্রত্যাহার করল হোয়াইট হাউস

হোয়াইট হাউস যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) প্রধান হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত রিচার্ড শ্রোয়ারের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছে। রিপাবলিকান সিনেটর র‌্যান্ড পল ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে অবস্থান নিয়ে মনোনয়নটি আটকে দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জুনে ট্রাম্প শ্রোয়ারকে আইসিইর নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মনোনীত করেছিলেন। তখন তিনি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারির একজন জ্যেষ্ঠ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি ২৯ বছর ওকলাহোমা হাইওয়ে প্যাট্রোলে কাজ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস সংক্ষিপ্ত এক স্মারকলিপির মাধ্যমে মনোনয়ন প্রত্যাহারের কথা জানায়। তবে কেন মনোনয়ন প্রত্যাহার করা হলো, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। শ্রোয়ারের মনোনয়ন পুরো সিনেটে ভোটে যাওয়ার আগেই আটকে যায় এবং সিনেটের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটিতেই বিষয়টি স্থগিত ছিল। র‌্যান্ড পল, যিনি সিনেটের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির চেয়ারম্যান, মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে আইসিই ও বর্ডার প্যাট্রোলের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার বিষয়ে আরও তথ্য চেয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, এসব বিষয়ে হোয়াইট হাউসের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত শ্রোয়ারের মনোনয়ন পূর্ণ সিনেট ভোটে এগিয়ে নেওয়া হবে না। জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে পৃথক দুটি সংঘর্ষে আইসিই এজেন্টদের গুলিতে রেনে গুড ও অ্যালেক্স প্রেটি নিহত হন। দুজনই মার্কিন নাগরিক ছিলেন এবং ঘটনার সময় বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছিলেন। তাদের মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়। শ্রোয়ারকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিনের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। তবে এত বড় একটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা না থাকায় ট্রাম্পের মনোনয়নটি তখন কিছুটা বিস্ময় তৈরি করেছিল। ২০১৭ সালের পর থেকে আইসিইর নেতৃত্বে সিনেটের অনুমোদিত কোনো স্থায়ী প্রধান নেই। সংস্থাটি বিভিন্ন সময়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধানদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। বর্তমানে ডেভিড ভেনচুরেলা আইসিইর দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি এর আগে বেসরকারি কারাগার পরিচালনা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। শ্রোয়ারের মনোনয়ন প্রত্যাহারকে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নির্বাসন অভিযান পরিচালনার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ছিল অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। তবে সেই অভিবাসন নীতি এখন রিপাবলিকান দলের মধ্যেও মতবিরোধ তৈরি করছে। ফ্লোরিডার রিপাবলিকান প্রতিনিধি মারিয়া এলভিরা সালাজার সতর্ক করে বলেছেন, কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে ট্রাম্পকে সমর্থন করা অনেক হিস্পানিক ভোটার নভেম্বরে রিপাবলিকানদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞাপনে হোয়াইট হাউসের বাইরে দাঁড়িয়ে সালাজার ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, অভিবাসন enforcement-এর কিছু পদক্ষেপ সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসে নিতে সহায়তা করা একই হিস্পানিক ভোটারদের একটি অংশ এখন নিজেদের ‘বিশ্বাসঘাতকতার শিকার’ মনে করছেন।