আমেরিকা

ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ে পাসপোর্ট রেকর্ড ব্যবহারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কাজে পাসপোর্টের তথ্য কীভাবে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারের সঙ্গে ভাগ করা যায়, তা পর্যালোচনা করছে। নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচন বা মিডটার্মকে সামনে রেখে এই উদ্যোগ নিয়ে কাজ চলছে। একই সঙ্গে কিছু অলাভজনক প্রতিষ্ঠানকেও তথ্য ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তথ্য ভাগাভাগির পদ্ধতি এমনভাবে নির্ধারণ করা হবে, যাতে মার্কিন নাগরিকদের তথ্য সুরক্ষিত থাকে, প্রতারণা ঠেকানো যায় এবং নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়া কার্যকর হয়। তবে ঠিক কোন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান কী ধরনের তথ্য পাবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এই উদ্যোগের পেছনে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ ভোটের একটি সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ওই সিদ্ধান্তে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে স্থানীয় সরকারগুলোর সঙ্গে নাগরিকত্বসংক্রান্ত তথ্য ভাগ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যাতে নিবন্ধিত ভোটাররা মার্কিন নাগরিক কি না, তা যাচাই করা যায়। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ভোটার তালিকা যাচাইয়ে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্য ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছিল। এসব প্রচেষ্টার কিছু অংশ আদালতের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এবার পাসপোর্ট রেকর্ডকে সেই যাচাই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ আদালতে দেওয়া এক নথিতে জানিয়েছে, প্রশাসন ভোটার নিবন্ধন তালিকায় থাকা সম্ভাব্য অ-মার্কিন নাগরিকদের শনাক্ত করতে পাসপোর্টের তথ্য ব্যবহার শুরু করবে। এ জন্য স্টেট ডিপার্টমেন্ট ফেডারেল রেজিস্টারে একটি প্রস্তাব প্রকাশ করতে পারে। সেখানে পাসপোর্ট সার্ভিসেস রেকর্ডস সিস্টেমে থাকা তথ্য পরিচয় বা নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কাজে ব্যবহারের সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। পাসপোর্ট সার্ভিসেস রেকর্ডসে যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে। নতুন কোনো কাজে এসব তথ্য ব্যবহারের আগে ১৯৭৪ সালের ফেডারেল গোপনীয়তা আইনের আওতায় সরকারি নোটিশ দেওয়ার প্রয়োজন হয়। আদালতে দেওয়া নথি অনুযায়ী, সেই নোটিশ ২২ অক্টোবরের দিকে প্রকাশিত হতে পারে। প্রস্তাবটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন ভোটার তালিকা ও নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক চলছে। প্রশাসন বলছে, নাগরিকত্ব যাচাই জোরদার করার মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যবস্থার সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাবে। অন্যদিকে, ব্যক্তিগত তথ্য সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে ভাগাভাগির পরিধি নিয়ে গোপনীয়তা ও আইনি প্রশ্নও সামনে এসেছে। বর্তমানে স্টেট ডিপার্টমেন্টের উদ্যোগটি পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। ফলে কবে থেকে এবং ঠিক কীভাবে পাসপোর্ট রেকর্ড ভোটার নাগরিকত্ব যাচাইয়ে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানানো হয়নি।