টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ২০০৯ সালের গু লি চালানোর ঘটনায় দণ্ডিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা নি ডাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ডের সরাসরি সম্প্রচার বাতিল করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা বহাল থাকলেও সেই দৃশ্য সাধারণ মানুষের জন্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে না। বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ঘোষণা দিয়েছিলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে, যাতে জনগণ তা দেখতে পারে। এ ঘোষণা দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন, সামরিক মহল এবং মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে বিতর্ক তৈরি করে। পরে ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রচারের পরিকল্পনা থেকে সরে আসে।
তবে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসেনি। আগামী ৩ ডিসেম্বর ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতেই ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা রয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা চাইলে সরাসরি উপস্থিত থেকে এ প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।
২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর ফোর্ট হুডে চালানো ওই গু লি বর্ষণে ১৩ জন নি হ ত হন এবং আরও ৩২ জন আ হ ত হন। সে সময় হাসান মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি সামরিক ঘাঁটির একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে গু লি চালিয়েছিলেন। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় সংঘটিত সবচেয়ে প্রাণঘাতী গু লি চালানোর ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত।
২০১৩ সালে সামরিক আদালতে হাসানকে ১৩টি পরিকল্পিত হ ত্যা এবং ৩২টি হ ত্যাচেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এরপর থেকে তিনি সামরিক বাহিনীর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের মধ্যে রয়েছেন।
হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা ঘোষণার পর এ নিয়ে আপত্তি জানান একাধিক আইনপ্রণেতা, সামরিক কর্মকর্তা এবং মানবাধিকারকর্মী। তাদের উদ্বেগ ছিল, মৃত্যুদণ্ডের মতো একটি গুরুতর বিচারিক প্রক্রিয়াকে সরাসরি সম্প্রচার করলে তা জনসমক্ষে প্রদর্শনীতে পরিণত হতে পারে। এ ছাড়া নিহতদের পরিবারের সদস্যদের মানসিক অবস্থার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও এর আগে বলেছিলেন, মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করা হলে তিনি তা দেখবেন না। সম্প্রচার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশাসনের ভেতরেও মতপার্থক্যের খবর সামনে এসেছিল।
হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ১৯৬১ সালের পর এটিই হবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর। আর ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে সামরিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে এটি হবে ১৯৪৫ সালের পর প্রথম ঘটনা। সম্প্রচার বাতিলের সিদ্ধান্তে বিতর্কের একটি দিক আপাতত শেষ হলেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি ও তা ঘিরে জনসমক্ষে আলোচনার বিষয়টি সামনে রয়েছে।