আমেরিকা

মিসিসিপিতে ওয়ালমার্টের পার্কিংয়ে পুলিশের গুলিতে এক বছরের শিশুর মৃত্যু, প্রকাশ পেল বডিক্যামের ভিডিও

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে ওয়ালমার্টের পার্কিংয়ে পুলিশের গুলিতে এক বছর বয়সী শিশু কোহেন ওয়াইলির মৃত্যুর ঘটনার বডিক্যামের ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। গত ১৪ জুন সেনাটোবিয়া শহরের একটি ওয়ালমার্টের পার্কিংয়ে এ ঘটনা ঘটে। দোকান থেকে ডায়াপার চুরির অভিযোগে দুই নারীকে থামাতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারায় শিশুটি। ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা হান্টার ফস্টার পরে পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন শহরের মেয়র গ্রেগ গ্রেভস। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, দোকানের এক কর্মী সন্দেহভাজন দুই নারী পালিয়ে যাচ্ছেন বলে পুলিশকে জানান। এরপর পাঁচজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা অস্ত্র হাতে দ্রুত গাড়িটির দিকে এগিয়ে যান। গাড়িটিতে শিশুটির মা ভেলেসিয়া ওয়াইলি এবং আরেক নারী ছিলেন। শিশুটি তখন মায়ের কোলে বসে ছিল। ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গাড়িটি পেছনের দিকে যেতে শুরু করে এবং একটি পার্ক করা গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এরপর চালক গাড়িটি সামনে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ কর্মকর্তারা চালককে গাড়ি থামানোর নির্দেশ দিতে থাকেন। বডিক্যামের দৃশ্যে দেখা যায়, কর্মকর্তা হান্টার ফস্টার চলন্ত গাড়িটির দিকে অস্ত্র তাক করে এগিয়ে যান। গাড়িটি তাঁর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি গুলি চালান। গুলিতে গাড়ির সামনের যাত্রী আসনের পাশের জানালার কাচ ভেঙে যায়। ভিডিওতে পরপর চারটি গুলির শব্দ শোনা যায়। এরপরও গাড়িটি ধীরে ধীরে পার্কিং এলাকা ছেড়ে এগিয়ে যায়। দোকানের নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্যেও গুলি চালানোর মুহূর্ত দেখা যায়। তবে গাড়িটি ঠিক কীভাবে কর্মকর্তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল এবং গুলি চালানোর সময় তাঁদের অবস্থান কোথায় ছিল, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। মিসিসিপির অ্যাটর্নি জেনারেল লিন ফিচের কার্যালয় কয়েক মাস ধরে তদন্তের পর জানিয়েছে, ওই পরিস্থিতিতে পুলিশের বলপ্রয়োগ ন্যায্য ছিল। এ সিদ্ধান্তের ফলে ফস্টারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হবে না। তবে শিশুটির পরিবারের সদস্যরা তদন্তের সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ। তাঁদের আইনজীবী বেন ক্রাম্প পুলিশের পদক্ষেপকে শুরু থেকেই অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেছেন। ক্রাম্পের বক্তব্য, ডায়াপার চুরির অভিযোগ কোনোভাবেই একটি শিশুর মৃত্যুর কারণ হতে পারে না। তাঁর মতে, গাড়িটি কর্মকর্তাদের পাশ দিয়ে চলে যাওয়ার সময় গুলি চালানোর পরিবর্তে তাঁদের সরে যাওয়ার সুযোগ ছিল। পরিবারের আইনজীবীরা আরও দাবি করেছেন, গুলির সময় ফস্টার গাড়িটির পাশে ছিলেন এবং শিশুটির প্রাণঘাতী গুলিটি পাশ থেকে লেগেছিল। পরিবারের উদ্যোগে করা একটি স্বতন্ত্র ময়নাতদন্তেও গুলির গতিপথ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অন্যদিকে, ফস্টারের আইনজীবী মার্টিন জুমাখ বলেছেন, গাড়ির চালক কর্মকর্তাদের চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করছিলেন। তাঁর দাবি, ফস্টারের সামনে গুলি চালানো ছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না। তদন্তের সিদ্ধান্তকে তিনি প্রত্যাশিত এবং দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর পাওয়া সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেছেন। শিশুটির মা ভেলেসিয়া ওয়াইলি অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে আনা চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি ও তাঁর সঙ্গে থাকা নারী দোকান থেকে ডায়াপার চুরি করেননি। এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও দায়ের করা হয়নি। শিশুটির মৃত্যুর পর থেকেই মিসিসিপিতে প্রতিবাদ ও শোকসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভিডিও প্রকাশের পর পরিবারের সদস্যরা আবারও পুলিশের জবাবদিহি দাবি করেছেন। শিশুটির দাদি লাসান্দ্রা উইলিয়ামস বলেন, ভিডিও দেখার পর ঘটনাটিকে কীভাবে ন্যায্য বলা হচ্ছে, তা বুঝতে তাঁর কষ্ট হচ্ছে। পরিবারের আইনজীবীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য ফেডারেল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপও চেয়েছেন। তাঁদের মতে, অঙ্গরাজ্যের তদন্তে পুলিশের ভূমিকা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। এদিকে, সেনাটোবিয়া শহরের মেয়র গ্রেগ গ্রেভস নিশ্চিত করেছেন, গুলি চালানো কর্মকর্তা ফস্টার পুলিশ বিভাগ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তবে তাঁর পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের বলপ্রয়োগের যৌক্তিকতা, তদন্তের স্বচ্ছতা এবং ছোটখাটো অপরাধের অভিযোগে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের সীমা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।