বাংলাদেশ

মৃত ব্যক্তি ও বিদেশিদের আসামি করা হচ্ছে: মাহবুব

রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলায় মৃত ও বিদেশিদের আসামি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।

মঙ্গলবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে মাহবুব সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

এর আগে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীসহ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলার বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে রিটের ওপর দ্বিধাবিভক্ত আদেশ দেয় হাইকোর্ট।

বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদেশের বিষয়ে রিটকারী আইনজীবী খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘মৃত ব্যক্তি ও যারা বিদেশে আছেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। আমরা চেয়েছিলাম, আমাদের সংবিধানে আমাদের মৌলিক অধিকার ও নাগরিক অধিকার আছে। পুলিশ হয়রানি ও মিথ্যা মামলা হতে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমরা হাইকোর্টে এসেছি।’

‘এ মামলায় গতকাল ড. কামাল হোসেন  আমাদের পক্ষে শুনানি করে গেছেন। এ রিটের বাদী আমি, নিতাই রায় চৌধুরী ও সানাউল্লাহ মিয়া।’

বিএনপিপন্থি জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী বলেন, ‘গতকাল মোটামুটি আমাদেরেকে একটি রুল দেওয়া হবে-এই ধরনের একটি চিন্তা নিয়ে আমরা গিয়েছিলাম। ড. কামাল হোসেন বলেছিলেন, আমাকে আর আসতে হবে না। আজকে হঠাৎ দেখলাম, আমাদের অ্যাটর্নি জেনারেল সাহেব এসে গেছেন। উনি এসে বক্তব্য রাখলেন, ফৌজদারি মামলা এগুলো রিট জুরিসডিকশনে আসবে না। এগুলো কস্টিং হবে। তার প্রতি-উত্তরে আমি বললাম, সারা বাংলাদেশের ৮ লক্ষ লোকের বেশি আসামি আছে। সবাইকে আমাদের হাইকোর্টে নিয়ে আসতে হবে। যেহেতু ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ ধারা অনুযায়ী এ আবেদন করতে হয়, তাহলে ব্যক্তিগতভাবে করতে হবে। আট লক্ষ লোক আনা সম্ভব না। আমরা এখানে মামলার খালাস চাইতে আসি নাই।’

‘আমরা চেয়েছি এই যে মামলাগুলো কেন করা হয়েছে, সত্যিকার অর্থে এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না এবং আট লক্ষ লোককে আসামি করা হয়েছে, তাদেরকে এ মামলায় সম্পৃক্ত করা যায় কি না। এ ঘটনাগুলোর বিষয়ে প্রায় ১০টি প্রতিবেদন আদালতে তুলে ধরেছি। তারপরেও আমরা বলেছি, আমরা বাংলাদেশের সন্তান; বিচারপতিরাও বাংলাদেশের সন্তান। বিচারক হিসেবে আপনারা জুডিশিয়াল নোটিশ দিতে পারেন। বাংলাদেশে আজকে কীভাবে বিরোধী দলকে নিষ্পেষিত করার জন্য হাজার হাজার মামলা দেওয়া হচ্ছে। আদালতের প্রিসাইডিং জাজ ছিলেন মইনুল ইসলাম চৌধুরী সুন্দর আদেশ দিয়েছেন। তা হলো আমরা আবেদনে যা চেয়েছি, উনি তাই দিয়েছেন। উনি নির্দেশ দিলেন ৬০ দিনের ভিতরে তদন্ত করে পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে। দেখতে হবে যারা মামলাটি করেছে, তাদের গাফিলতি আছে কি না।’

আদালতের একজন বিচারকের বরাত দিয়ে খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘বেঞ্চের কনিষ্ঠ জাজ আশরাফুল কামাল বললেন, এই মামলাটি ক্রিমিনাল মামলা। ক্রিমিনাল মামলা শুনানি করতে এখানে কোনো জুরিসডিকশন নাই। আপনারা ক্রিমিনাল কোর্টে গিয়ে আবেদন করেন। মামলা বাতিল চাইতে পারেন। এখন ডিসেন্ডিং জাজমেন্ট (দ্বিধাবিভক্ত আদেশ) হয়েছে। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা যা চেয়েছিলাম, প্রিসাইডিং অফিসার আদেশ দিয়েছেন পুলিশের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা তদন্ত করুক। আইজিপি চিন্তা করতেন, এই ধরনের মামলা যেন না হয়। ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন, তাতে প্রমাণ হতো এই মামলাগুলো মিথ্যা।’

‘পুলিশ কর্মকর্তাও সতর্ক হতেন। এখন বিভক্ত আদেশ হয়েছে। এটি এখন প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। উনি অন্য একজন জাজের কাছে মামলাটি শুনানির জন্য পাঠাবেন। তিনি শুনবেন। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সেভাবে রুল দেওয়া হয়েছে। সেভাবে আইজি প্রিজন ব্যবস্থা নিতেন। বাংলাদেশের পুলিশ এখন সতর্ক থাকতেন।’

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্ট বিভাগের রুলস অনুসারে প্রিসাইডিং জাজ (জেষ্ঠ বিচারপতি) যেটি রুল দেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তৃতীয় বেঞ্চ গঠন না হয়, সেটি শুনানি না হওয়া পর্যন্ত আগের রুল বহাল থাকে। সুতরাং প্রিসাইডিং জাজ সে রুল দিয়েছেন, পুলিশ সেটি পালন করবেন।’

সম্প্রতি সারা দেশে বিএনপিপন্থি আইনজীবীসহ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৪ হাজার মামলায় তিন লাখের বেশি আসামি করা হয়। এ নিয়ে  রিটের শুনানিতে ৮ অক্টোবর আদালত বলেছিল, ‘এইসব ভুতুড়ে বা গায়েবি মামলা দায়ের করায় ‍পুলিশের ইমেজ (ভাবমূর্তি) ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।’

আদালত আরও বলেছিলেন, ‘খন্দকার মাহবুব হোসেনের মতো লোক ককটেল মারবে। এটাও আমাদের বিশ্বাস করতে হবে।’

এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর এ মামলাগুলোর বিষয়ে একটি তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেনসহ বিএনপিপন্থি তিনজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।

রিটে সেপ্টেম্বর মাসে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অগণিত মানুষের বিরুদ্ধে ‘কাল্পনিক’ মামলা করা কেন অবেধ ঘোষণা করা হবে না, সে মর্মে রুল জারিরও আর্জি জানানো হয়।

রিটে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের প্রতিনিধি রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়। এ ছাড়া এসব মামলার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে রুল জারির আবেদনও জানানো হয়।

রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজপি), ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার, পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপকমিশনারসহ ৯ জনকে বিবাদী করা হয়।


এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি