বাংলাদেশ

সিলেটে মুক্তাদিরের সভা পণ্ড, দফায় দফায় পুলিশের হানা, আটক ৫০

পুলিশি বাধায় সিলেট-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সমাবেশ পণ্ড হয়ে গেছে। দিনভর দফায় দফায় গ্রেপ্তার অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পুলিশি বাধার কারণে গতকাল প্রচারণা চালাতে পারেনি খন্দকার মুক্তাদির। এতে গ্রেপ্তার আতঙ্কে রয়েছেন সিলেট বিএনপির নেতাকর্মীরা। গতকাল সন্ধ্যায় কার্যালয় থেকে ৭ নেতাকর্মীকে ধরে নিয়ে গেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এর আগে নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকা থেকে আরো ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে আরো কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সন্ধ্যায় সিলেটের কোর্ট পয়েন্টে খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের শেষ নির্বাচনী সমাবেশে বাধা দিয়েছে পুলিশ।
এ সময় সেখান থেকে অন্তত ৩০ জনকে আটক করে নিয়ে গেছে।

সিলেট-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির অভিযোগ করেছেন প্রচারণার শেষ দিনে পুলিশ সিলেটে গণগ্রেপ্তার চালিয়েছে। এমনকি তার কার্যালয়ে ঘেরাও করে গ্রেপ্তার অভিযান চালিয়েছে। এতে করে ভোটের সার্বিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘোষণা দিয়ে গতকাল শেষ দিনের প্রচারণায় নামেন নি বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। বিভিন্ন স্থানে তিনি গণসংযোগ করেছেন ঘোষণা ছাড়াই। সকালে তিনি নগরীর আম্বরখানা বড়বাজার এলাকায় গণসংযোগ করেন। পরে তিনি নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় ছাত্রদলের শোডাউনে অংশ নেন। এদিকে দুপুরে হাউজিং এস্টেট এলাকায় গণসংযোগের পরপরই বিএনপির নেতাকর্মীদের ধরপাকড় চালায় পুলিশ। এ সময় ছাত্রদল নেতা চৌধুরী মোহাম্মদ সোহেল সহ ৭ জনকে আটক করে নিয়ে যায়। সিলেটের কোতোয়ালি থানার ওসি সেলিম মিয়া ৭ জনকে আটকের কথা গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করে বলেছেন, যাদের আটক করা হয়েছে তারা মামলার আসামি।

বিকালে ডিবি পুলিশের কয়েকটি দল নগরীর ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই এলাকায় খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নির্বাচনী কার্যালয় ঘেরাও করে। এ সময় কার্যালয়ের ভেতরে নেতাকর্মীরা অবস্থান করছিলেন। ডিবি পুলিশের ঘেরাওয়ে ওই কার্যালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পুলিশ ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে ৭ নেতাকর্মীকে ধরে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। খবর পেয়ে তিনি কার্যালয়ে ছুটে গেলে ডিবি পুলিশ আটককৃতদের নিয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। তিনি এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এদিকে মুক্তাদিরের কার্যালয়ে অভিযানের সময় সাপ্লাই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা বলেন, অভিযানের সময় ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি ছিল।

এদিকে সন্ধ্যায় নগরীর কোর্ট পয়েন্টে খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের শেষ নির্বাচনী জনসভায় বাধা দিয়েছে পুলিশ। এ সময় সেখান থেকে অন্তত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে। পুলিশি বাধার কারণে শেষ নির্বাচনী জনসভাও পণ্ড হয়ে যায়। রাতে টুকেরবাজারের সমাবেশেও পুলিশ বাধা প্রদান করেছে।


এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি