বাংলাদেশ

চিড়া ও মুড়ির দাম গড়ে বেড়েছে কেজিতে ৩০ টাকা

আমন ধান ওঠা শুরু হলেও মাসখানেক ধরে চালের দাম বাড়ছে। চালের এই দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে চিড়া ও মুড়ির বাজারে। খুচরা পর্যায়ে গত দেড় মাসে চিড়া কেজিতে ১৫ টাকা, খোলা মুড়ি ১০ এবং প্যাকেটজাত মুড়ির দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। সব মিলিয়ে গত পাঁচ মাসে চিড়া ও মুড়ির দাম গড়ে বেড়েছে কেজিতে ৩০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চিড়া-মুড়ির দাম বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ চালের দাম বৃদ্ধি এবং গ্যাস সংকট। গ্যাস না থাকায় তুষ বা কাঠের ভুসি দিয়ে চিড়া-মুড়ি ভাজতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহেও আছে সমস্যা। তা ছাড়া শ্রমিকদের পেছনে ব্যয় বাড়ছে। এ কারণে পণ্য দুটির দাম বেড়েছে। গতকাল কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল কাঁচাবাজার ও তেজকুনিপাড়া এলাকায় দেখা গেছে, মুড়ি খোলা এবং প্যাকেটজাত দুইভাবেই বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলেন, হাতে ভাজা (সনাতন পদ্ধতি) প্যাকেটজাত মুড়ির পাশাপাশি প্রাণ, বসুন্ধরা, রুচিসহ বড় বড় কোম্পানির মেশিনে ভাজা মুড়ি বিক্রি হচ্ছে। বাজারে চিড়ার চেয়ে সাধারণত মুড়ি বিক্রি হয় বেশি। এর মধ্যে আধাকেজি ওজনের প্যাকেট মুড়ির চাহিদা বেশি। খুচরা পর্যায়ে মানভেদে ৭০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে চিড়া। মাসখানেক আগে চিড়া বিক্রি হয়েছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। খোলা মুড়ির কেজি ৮০ থেকে ৮৫ টাকা এবং প্যাকেটজাত মুড়ির কেজি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। এক-দেড় মাস আগে খোলা মুড়ির কেজি ছিল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা আর প্যাকেটজাত মুড়ি বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। পাঁচ মাস আগে দাম আরও কম ছিল। গত জুন মাসের শুরুর দিকে প্রতি কেজি চিড়া ৫০ থেকে ৫৫, খোলা মুড়ি ৬০ থেকে ৬৫ এবং প্যাকেটজাত মুড়ি ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সিলেটে বন্যা হওয়ায় সেখানে ত্রাণ দেওয়ার জন্য অনেকে প্রচুর পরিমাণে চিড়া-মুড়ি কেনা শুরু করলে ওই মাসের শেষদিকে চিড়া-মুড়ির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। তবে সপ্তাহ দুয়েক পর দাম কমে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলেন, বাজারে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে চিড়া-মুড়ির দামে। হাতিরপুল কাঁচাবাজারের মুদি দোকানদার বলেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার কারণে খুচরা পর্যায়েও বেড়েছে। চিড়ার দাম গত দেড় মাসে কেজিতে ১৫ টাকার মতো বেড়েছে। তেজকুনিপাড়া এলাকার মায়ের দোয়া স্টোরের এক বিক্রয়কর্মী বলেন, এক-দেড় মাস আগে প্যাকেটজাত আধাকেজি মুড়ির দাম ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। এখন বেড়ে হয়েছে ৬৫ টাকা। সে হিসাবে প্রতি কেজি মুড়ির দাম দাঁড়ায় ১৩০ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। চিড়া-মুড়ির দাম বাড়ার পেছনে নানা যুক্তি তুলে ধরেন উৎপাদনকারীরা। তাঁরা বলেন, আমন ধান ওঠা শুরু হওয়ায় চালের দাম কম থাকার কথা। কিন্তু উল্টো বাড়ছে। কারখানায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস ঠিকমতো পাওয়া যায় না। এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার দিয়ে মুড়ি ভাজতে হয়। পরিবহন ভাড়াও বেড়েছে। শ্রমিকদের খাওয়া-দাওয়ার পেছনে আগের চেয়ে ব্যয় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হলে মুড়ির দাম না বাড়িয়ে উপায় নেই। দাম না বাড়িয়ে উৎপাদন বন্ধ করলে উদ্যোক্তারা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তেমনি বেকার হয়ে যাবেন হাজার হাজার শ্রমিক। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, নাটোরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চিড়া ও মুড়ি উৎপাদন করা হয়। মিলগেটে দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে গাজীপুর এলাকার ঢাকা এগ্রো ফুডের স্বত্বাধিকারী উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, বাজারে কোন জিনিসের দাম কম? তিনি বলেন, চালের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক। আগে এক বস্তা চাল কেনা যেত দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায়। এখন কিনতে হয় তিন হাজার থেকে ৩১০০ টাকায়। গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যায় উৎপাদন করা যাচ্ছে না। শ্রমিকদের পেছনে খরচ বেড়েছে। তাই দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন মিলাররা। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁর আলম ট্রেডার্সের মালিক বলেন, এক বস্তা মুড়ি ভাজতে সাধারণত ৩০ টাকার গ্যাস খরচ হয়। কিন্তু গ্যাস না থাকায় তুষ বা করাতকলের ভুসি দিয়ে মুড়ি ভাজতে হয়। এতে খরচ হয় ৫০-৬০ টাকা। একই সঙ্গে বাজারে মোটা ও মাঝারি চালের দাম কেজিতে ৫-৬ টাকা বেড়েছে। এ কারণে মিলাররা দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন।