প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আজ অতি আনন্দের দিন, রাজধানীবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের দিন। মেট্রোরেল উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাফল্যে আরেকটি পালক যুক্ত হলো।
আজ বুধবার মেট্রোরেলের উদ্বোধন উপলক্ষে রাজধানীর উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের মাঠে আয়োজিত সুধী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। সুধী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে তিনি ভাষণ দেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) সরাসরি সভা সম্প্রচার করে। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন অপবাদ দেওয়া ব্যক্তিরা মেট্রোরেল নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে, তা বলতে পারছেন না। তাঁরা এখন বলছেন, মেট্রোরেলের ভাড়া বেশি। আসলে সবই তাঁদের মনের জ্বালা। শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু করে ফেলেছেন। মেট্রোরেল, শত সড়ক, শতভাগ বিদ্যুৎ, বিনা পয়সায় টিকা- সবই দিয়ে দিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক উন্নত দেশের তুলনায় বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে আছে। তাই তাঁরা (বিরোধীরা) ভাবছেন, সবই বুঝি গেল!
ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু করে বিশ্বব্যাংকের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। তিনি মেট্রোরেল করেও প্রমাণ করেছেন, ‘ইয়েস, উই ক্যান’। তিনি বলেন, আমরা বীরের জাতি, চোরের জাতি নই। আসলে ওরা (অপবাদকারী) অন্তরের জ্বালায় মরে। জোড়াতালি দিয়ে নাকি পদ্মা সেতু বানানো হয়েছে। এখন যাচ্ছেন কীভাবে সমাবেশ করতে? তিন ঘণ্টায় চলে গেলেন, আবার বড় বড় কথা বলেন!
প্রধানমন্ত্রী নারীদের কথা চিন্তা করেন, তাই মেট্রোরেলে তাঁদের জন্য আলাদা বগি আছে বলে উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের বলেন, একটা বগি শুধু নারীদের জন্য রাখা হয়েছে। অন্য বগিতেও নারীরা বসতে পারবেন। তবে এ বগিটা শুধু নারীদের জন্যই সংরক্ষিত থাকবে। বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিনা ভাড়ায় মেট্রোতে চড়তে পারবেন বলে প্রধানমন্ত্রী যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তার জন্য শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ওবায়দুল কাদের। মেট্রোরেল পরিবেশবান্ধব উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেট্রোরেলের বিরোধিতা করে মানববন্ধন করতে চেয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের জানাতে বলেছিলেন, মেট্রোরেলে শব্দদূষণ হবে না। এখন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দিয়েই মেট্রোরেল চলাচল করবে।
এ সময় জাতির পিতাকে স্মরণ করে তিনি বলেন, যতদিন এই বাংলায় চন্দ্র-সূর্য উদয় হবে, পাখি গান গাইবে, ততদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নাম এ বাংলায় মুছবে না। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুধী সমাবেশের মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন। তার আগে তিনি উদ্বোধনীস্থলে পৌঁছান। বেলা ১১টার দিকে উদ্বোধনী ফলকের প্রতিরূপ (রেপ্লিকা) জনসম্মুখে উন্মোচন করেন। তাঁর সঙ্গে আছেন ছোট বোন শেখ রেহানা। প্রতিরূপ উন্মোচনের পর মোনাজাত করা হয়। সুধী সমাবেশের সূচি অনুযায়ী, প্রথমে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশে জাইকার প্রধান প্রতিনিধি ইচিগুচি তমোহিদে, বাংলাদেশ নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি।
এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস
এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস