ঘন কুয়াশার কারণে গতকাল বৃহস্পতিবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ দেশি-বিদেশি ছয়টি ফ্লাইট ভারতের কলকাতা ও দিল্লিতে অবতরণ করেছে। তবে যাত্রীরা বিমানের একটি ফ্লাইটের স্টাফদের (কেবিন ক্রু) চরম দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার শতাধিক যাত্রী নিয়ে কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকায় ছেড়ে আসা বিমানের বিজি-৩৮৭ নম্বর ফ্লাইটটি ভোর ৪টা ২৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা ছিল। কিন্তু ঘন কুয়াশার কারণে ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করতে না পেরে ভারতের কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় ফ্লাইটের মধ্যে না খাওয়া অবস্থায় প্রায় ৬ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে থাকেন যাত্রীরা।
এ বিষয়টি ফ্লাইটে কর্তব্যরত বিভিন্ন কেবিন ক্রুর কাছে জানতে চাইলে কোনো উত্তর না দিয়ে চরম দুর্ব্যবহার করেন তাঁরা। ক্ষুব্ধ যাত্রীরা জানান, পরে সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে ঢাকায় অবতরণ করে এ ফ্লাইটটি। বিমানের দেরির কারণে শাহজালালে অপেক্ষা করতে করতে চরম দুর্ভোগ পোহান তাঁদের স্বজনও। এ ব্যাপারে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও (অতিরিক্ত সচিব) শফিউল আজিম সমকালকে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়টি তদন্ত করে দায়ী স্টাফদের বিরুদ্ধে বিমানের প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শাহজালালের ফ্লাইট শিডিউল সূত্রে জানা গেছে, ঘন কুয়াশার কারণে প্রায়ই দেশি-বিদেশি ফ্লাইট ঢাকায় অবতরণ করতে না পেরে ভারতের কলকাতা ও দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করছে। এ কারণে গতকালও বিমানসহ ছয়টি ফ্লাইট ঢাকার পরিবর্তে ভারতে অবতরণ করে।
বিমানবন্দর কর্মকর্তারা জানান, গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এক সঙ্গে ১০-১২টি ফ্লাইট বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় যাত্রীদের চাপে হিমশিম খান বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পাশাপাশি মালপত্র সংগ্রহ করতে ভোগান্তি তৈরি হয়। বিমানবন্দরের শিডিউল অনুযায়ী ফ্লাইট অবতরণ না করার কারণে ফ্লাইট গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। এ ছাড়া অন্য দেশের বিমানবন্দরে অবতরণ করায় অতিরিক্ত চার্জ গুনতে হচ্ছে সংশ্নিষ্ট এয়ারলাইন্সকে। বিমানবন্দরে ঘন কুয়াশার জন্য উন্নত (আইএলএস) প্রযুক্তি না থাকার কারণে বেড়েই চলছে যাত্রীদের এমন ভোগান্তি।
এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস
এলএবাংলাটাইমস/আইটিএলএস