লস এঞ্জেলেস

করোনাভাইরাস: ক্যালিফোর্নিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মসজিদের তহবিল সংগ্রহ


রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজান মুসলিম উম্মাহর জন্য পরম করুণাময়ের বিশেষ উপহার। এ সময়ে মসজিদে মুসল্লিদের সমাগম বৃদ্ধি পায়। এছাড়া, বাড়ে অনুদান। বছরে মসজিদে জমা হওয়া মোট তহবিলের শতকরা ২৫ থেকে ৩০ ভাগ সংগ্রহ করা হয় এই রমজান মাসে।

তবে এবার করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে ঘরেই থাকতে হচ্ছে সবাইকে। তাই ক্যালিফোর্নিয়ায় মসজিদগুলোর অনুদান সংগ্রহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে অন্য যেকোনো রাজ্যের মতোই। প্রতি রমজানে মুসল্লিরা মাগরিবের নামাজ আদায়ের পর ইফতার করেন ও দানবাক্সগুলোতে অর্থ সহযোগিতা করেন। কেউবা লিখে দেন চেক। 


রমজান মাসে এক লাখ ডলার করেও অনুদান সাহায্য পেয়ে থাকে মসজিদগুলো। যার বেশিরভাগই আসে শেষ ১০দিনে। এবার করোনাভাইরাসের হানা সব হিসেব-নিকেশ উল্টে দিল। রাজ্যের মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারগুলো তাদের পর্যাপ্ত তহবিল সংগ্রহ করতে পারেনি। বাধ্য হয়ে কর্মচারীদের ছাঁটাই ও কর্ম-ঘণ্টাও কমিয়ে দিতে হচ্ছে।

দ্য ইসলামিক সেন্টার অব হাউথ্রোন আশঙ্কা করছে এবারের রমজানে তাদের অনুদান কমে যেতে পারে শতকরা ৭০ ভাগ। মসজিদটির প্রচার বিষয়ক পরিচালক বিলাল জাহিন বলেন, সব ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের জন্য এটা খুব ধ্বংসাত্মক সময়। 

তিনি আরও জানান, অন্যান্য খাত থেকে খরচ কমাতে হচ্ছে। কর্মীরা অনেকে নিজেরাই চলে যাচ্ছেন যাতে মসজিদের ওপর চাপ না পড়ে।  

এই সঙ্কট নিরসনে মসজিদগুলোর জন্য তহবিল সংগ্রহ করতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘কেয়ারিং ফর আওয়ার ওউন’ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এখানে ইতোমধ্যে অর্থ জমা পড়েছে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ডলার। চারজন প্রসিদ্ধ ইমাম ক্যাম্পেইনটির তত্ত্বাবধান করছেন।

ইসলামিক সেন্টার অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার মুখপাত্র ওমর রিচি জানান, মসজিদে জমায়েত না হতে পারায় পারস্পরিক নৈকট্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন মুসল্লিরা। গত বছর এক প্রাক-রমজান অনুষ্ঠানেই তারা মসজিদের দশভাগের একভাগ তহবিল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। 

এবার মসজিদ ব্যবস্থাপকরা অনলাইনে সাহায্য পাওয়ার কোনো বিকল্প দেখছেন না। তবে ওমর রিচি বলেন, বিশ্বাস রাখতে হবে। এই দুঃসময় নিশ্চয়ই আমরা কাটিয়ে উঠতে পারব।




/এলএ বাংলা টাইমস/এন/এইচ