লস এঞ্জেলেস

ক্যালিফোর্নিয়াবাসীকে শেভরন এড়িয়ে চলার আহ্বান নিউসমের

ক্যালিফোর্নিয়ায় জ্বালানির উচ্চ মূল্য নিয়ে গভর্নর Gavin Newsom এবং তেল কোম্পানি Chevron-এর মধ্যে নতুন বিরোধ দেখা দিয়েছে। মেমোরিয়াল ডে ছুটির সপ্তাহান্তে ক্যালিফোর্নিয়ার মানুষকে শেভরনের পেট্রোল পাম্প এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে গভর্নরের কার্যালয়। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নিউসমের কার্যালয় জানায়, “নামবিহীন বা আনব্র্যান্ডেড গ্যাস একই রিফাইনারি, স্টোরেজ ট্যাংক ও পাইপলাইন থেকে আসে এবং একই মান বজায় রাখে। তাই শুধু ব্র্যান্ডের জন্য অতিরিক্ত দাম দেওয়ার প্রয়োজন নেই।” পোস্টে আরও বলা হয়, “বড় তেল কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করছে। তাই ব্র্যান্ডের নামে অতিরিক্ত দাম দিয়ে তাদের আরও লাভবান হতে দেবেন না।” গভর্নরের কার্যালয় ক্যালিফোর্নিয়া এনার্জি কমিশনের একটি বিশ্লেষণের তথ্য তুলে ধরে জানায়, শেভরনের গ্যাসের দাম সাধারণ আনব্র্যান্ডেড গ্যাসের তুলনায় প্রতি গ্যালনে গড়ে ৬০ থেকে ৮০ সেন্ট বেশি। মেমোরিয়াল ডে সপ্তাহান্ত যুক্তরাষ্ট্রে বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত ভ্রমণ মৌসুমগুলোর একটি। এর মধ্যেই শেভরন ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন গ্যাস স্টেশনে পোস্টার টানিয়ে উচ্চ জ্বালানি মূল্যের জন্য রাজ্যের জলবায়ু নীতিকে দায়ী করেছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় মূল্য ছিল ৬ দশমিক ১৪ ডলার, যা জাতীয় গড়ের চেয়ে প্রায় ১ দশমিক ৫৮ ডলার বেশি। ক্যালিফোর্নিয়া এনার্জি কমিশনের তথ্যমতে, রাজ্যটি প্রতি গ্যালন গ্যাসে প্রায় ৭০ সেন্ট কর আদায় করে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সর্বোচ্চ। শেভরনের পোস্টারগুলোতে লেখা ছিল, “ক্যালিফোর্নিয়ার রাজনীতিবিদরা স্থানীয় চাকরি ও কম খরচের জ্বালানির বদলে বিদেশি তেল ও জ্বালানিকে বেছে নিচ্ছেন।” পোস্টারে থাকা একটি কিউআর কোড ব্যবহারকারীদের শেভরনের ওয়েবসাইটে নিয়ে যায়, যেখানে “সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানির পক্ষে কথা বলুন” বলা হয়েছে। শেভরনের মুখপাত্র রস অ্যালেন জানান, তিন বছর আগে শুরু হওয়া একটি প্রচারণার অংশ হিসেবে এসব পোস্টার লাগানো হয়েছে, যাতে মানুষ বুঝতে পারে ক্যালিফোর্নিয়ার নীতিগুলো কীভাবে জ্বালানির দাম বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা চাই ক্যালিফোর্নিয়ার চালক ও গ্রাহকেরা জানুক তাদের করের টাকা কোথায় যাচ্ছে।” তিনি আরও জানান, ক্যালিফোর্নিয়ায় শত শত শেভরন স্টেশন রয়েছে এবং বেশিরভাগই স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়। ফলে তারা নিজেদের মতো করে দাম নির্ধারণ করে। এদিকে শেভরন এখন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচনেও বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। জলবায়ু কর্মী ও ধনকুবের Tom Steyer সাবেক স্বাস্থ্য সচিব Xavier Becerra-কে শেভরনের কাছ থেকে নির্বাচনী অনুদান নেওয়ার জন্য সমালোচনা করেছেন। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ কমে গেছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল সাধারণত এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। অনেক তেলবাহী জাহাজ সেখানে আটকে আছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কঠোর নীতির জন্য পরিচিত নিউসম সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তেল কোম্পানির অতিরিক্ত মুনাফা নিয়ন্ত্রণ এবং গ্যাসের দাম কমাতে বিভিন্ন আইন পাস করেছেন। ২০২৩ সালে তিনি এমন একটি আইনে স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে অতিরিক্ত মুনাফার জন্য তেল কোম্পানিগুলোকে জরিমানা করার ক্ষমতা পায় রাজ্যের এনার্জি কমিশন। তখন নিউসম বলেছিলেন, “আমরা অবশেষে বড় তেল কোম্পানিগুলোকে হারাতে পেরেছি।” তবে পরে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো ২০৩০ সাল পর্যন্ত জরিমানার পরিকল্পনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এর পেছনে কারণ ছিল, ক্যালিফোর্নিয়ার প্রায় ১৮ শতাংশ পরিশোধন সক্ষমতা থাকা দুটি বড় তেল শোধনাগার বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘোষণা। এতে আবারও রাজ্যের জলবায়ু নীতির কারণে জ্বালানির দাম বাড়ছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। ২০২৪ সালে নিউসম আরেকটি আইন স্বাক্ষর করেন, যাতে তেল শোধনাগারগুলোকে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি মজুত রাখার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা পায় এনার্জি কমিশন। এর লক্ষ্য ছিল রক্ষণাবেক্ষণের কারণে রিফাইনারি বন্ধ হলে যেন হঠাৎ করে গ্যাসের দাম বেড়ে না যায়। তবে সেই নিয়ম বাস্তবায়নের কাজও এখনো আটকে রয়েছে।   এলএবাংলাটাইমস/ওএম