লস এঞ্জেলেস

কৃষ্ণাঙ্গ ইতিহাসে স্মরণীয় কিছু নারী


যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাস কৃষ্ণাঙ্গ ইতিহাস মাস হিসেবে পালন করা হয়। এই মাসে আফ্রিকান-আমেরিকানদের ভূমিকা এবং অর্জনকে সম্মান করা হয়। অনেক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিত্ব রয়েছে যাদের ইতিহাস সম্পর্কে অনেকেই জানেন। কিন্তু ঐ নামগুলোর পাশে আরও অনেক কৃষ্ণাঙ্গ নাম রয়েছে যাদের অনেক অবদান রয়েছে কিন্তু সে নামগুলো তেমন করে সামনে আসেনি। আজ আপনাদের জানাবো সে বিশেষ কিছু নারী ব্যক্তিত্বদের কথা।


জেন বলিন

জেন বলিন ১৯৩৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা বিচারক হন। তিনিই প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা যিনি ইয়েল ল স্কুল থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি চার দশক ধরে নিউইয়র্কের পারিবারিক আদালতে দায়িত্ব পালন করেন। পারিবারিক মামলা নিস্পত্তি করা ছাড়া তিনি বর্ণ ভিত্তিক কাজ প্রদানের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন।

অ্যালিসন ডনিগান

অ্যালিস অ্যালিসন ডনিগান ছিলেন প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান মহিলা হোয়াইট হাউসের সংবাদদাতা। তিনি সেনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের প্রেস গ্যালারীর প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা সদস্য ছিলেন।লেখার প্রতি প্রগার ভালবাসা থেকে ১৩ বছর বয়সে ওনেন্সবোরো এন্টারপ্রাইজের জন্য তিনি লেখা শুরু করেন। ১৯৪৭ সালে অ্যাসোসিয়েটেড নেগ্রো প্রেসের প্রধান হয়েছিলেন এলিস। তিনি ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত সম কর্মসংস্থান সুযোগের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট কমিটির শিক্ষা পরামর্শদাতার দায়িত্ব পালন করেন।

ওয়াঙ্গারি মাথাই

ওয়াঙ্গারি মাথাই কেনিয়ার পরিবেশগত কাজের জন্য ২০০৪ সালের নোবেল শান্তি পুরষ্কার বিজয়ী প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী। তিনি পূর্ব ও মধ্য আফ্রিকার প্রথম মহিলা যিনি ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। মাথাই কেনিয়ার ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ উইমেন-এ ছয় বছর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন এবং আফ্রিকার সবচেয়ে বড় বৃক্ষরোপণ অভিযান — গ্রীন বেল্ট মুভমেন্ট সম্পাদন করার ধারণাটি চালু করেছিলেন। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে সংস্থাটি কেনিয়ায় ৫১ কোটিরও বেশি গাছ লাগিয়েছে।

আলাবামার মন্টগোমেরিতে রোযা পারক্স বাসে শ্বেতাঙ্গ যাত্রীর কাছে নিজের আসনটি ছেড়ে দিতে অস্বীকার করার নয় মাস আগে ১৫বছর বয়সী ক্লডেট কলভিন একই কাজ করেছিলেন। এনপিআর জানিয়েছে, ১৯৫৫ সালের মার্চে, কলভিন হাই স্কুল থেকে বাসে করে বাড়ি যাবার সময়, ড্রাইভার তাকে তার সিট ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু কলভিন অস্বীকার করে বলেছিলেন যে তিনি বাসের ভাড়া পরিশোধ করেছেন এবং এটি তার সাংবিধানিক অধিকার। পরে দুই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে গ্রেপ্তার করেছিলেন। পরবর্তীতে কলভিন আলাবামায় গণপরিবহণে পৃথকীকরণের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় মামলায় প্রধান সাক্ষী হয়েছিলেন।

হেডজম্যান

হেডজম্যান একজন আইনজীবী ছিলেন যিনি নাগরিক অধিকার আন্দোলনকে সংগঠিত করার জন্য ধর্মীয় সংগঠন এবং সরকারের অভ্যন্তরে কাজ করেছিলেন। ১৯২২ সালে হ্যামলিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান স্নাতক ডিগ্রিধারী হেজম্যান। পরে তিনি বেশ কয়েকটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ করেছিলেন, বিশেষ করে ইয়ং উইমেন ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের জন্য কাজ করেন তিনি। ১৯৮৮ সালে হ্যারি এস ট্রুমানের পুনর্নির্বাচন প্রচারে কাজ করেন হেজম্যান এবং ১৯৫৪ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত নিউ ইয়র্কের মেয়র রবার্ট এফ ওয়াগনারের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন সহ হেজজম্যান সরকারের বিভিন্ন ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯৬৩ সালে ওয়াশিংটনে ঐতিহাসিক মার্চের পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও হেজম্যানের ভূমিকা ছিল।


শার্লি চিশলম

শার্লি চিশলম প্রথমে নিউইয়র্ক সিটির শিশু কল্যাণ ব্যুরোর জন্য শিক্ষা পরামর্শদাতার দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৬৪ সালে নিউইয়র্ক রাজ্য বিধানসভার পক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ১৯৬৮ সালে, চিশলম প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান কংগ্রেস মহিলা হিসাবে নির্বাচিত হন। তিনি কংগ্রেসের কৃষ্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলের সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন। ১৯৭২ শার্লি চিশলম প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান মহিলা যিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়নের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

ডা. ক্রাম্পলার

ডা. ক্রাম্পলার যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান মহিলা চিকিত্সক ছিলেন। ১৮৩১ সালে জন্মগ্রহণকারী, ডাক্তার ক্রাম্পলার প্রথমে ম্যাসাচুসেটস-এ নার্স হিসাবে কাজ শুরু করেন ১৮৫২ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত। ১৮৬৪ সালে এমডি অর্জন করেন। তিনি বোস্টন, রিচমন্ড, ভার্জিনিয়ায় প্রাথমিকভাবে দরিদ্রদের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। ১৮৮৩ সালে, ডঃ ক্রাম্পলার একটি বিখ্যাত বই "বুক অফ মেডিকেল ডিসকোর্সস ইন টু পার্টস" প্রকাশ করেছিলেন, যা অনেকের মতে কোনো আফ্রিকান-আমেরিকান লেখকের লেখা প্রথম মেডিকেল বই।

ডরোথি

ডরোথিকে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের কর্ত্রী বলা হয়। ১৯৩০-এর দশকে নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুটি ডিগ্রি অর্জনের পরে, হাইট নিউ ইয়র্ক সিটি ওয়েলফেয়ার বিভাগের পক্ষে কাজ করেন এবং তারপরে হারলেম ওয়াইএমসিএর সহকারী নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।তিনি গণপিটুনির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন, এবং আফ্রিকান আমেরিকান মহিলাদের শোষণের মাধ্যমে দাসত্তের বাজারে কাজ করার বিষয়ে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। ১৯৫০ এর দশকে, তিনি রাষ্ট্রপতি ডুইট ডি আইজেনহওয়ারকে বিদ্যালয়ে পৃথকীকরণ বিষয়ে আগ্রাসী অবস্থান নিতে তদবির করেছিলেন। ডরোথি হাইট মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের সাথে কাজ করেছিলেন এবং ১৯৬৩ সালের আগস্টে মার্টিন লুথার কিং এর বিখ্যাত ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’ বক্তৃতা দেওয়ার সময় ডরোথি হাইট তাঁর পাশে ছিলেন।

এলএ বাংলা টাইমস/এমবি