ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টিতে ভয়াবহ রাসায়নিক দুর্ঘটনার জেরে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে এখনো বড় ধরনের বিস্ফোরণের আশঙ্কা রয়েছে।
এই ঘটনায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার দুপুরে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর Gavin Newsom-এর কার্যালয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার কথা জানায়। এর দুই দিন আগে গার্ডেন গ্রোভ শহরের ওয়েস্টার্ন অ্যাভিনিউতে অবস্থিত জিকেএন এরোস্পেস কারখানায় প্রথম এ দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়।
পরে অরেঞ্জ কাউন্টি ফায়ার অথরিটির সদস্যরা নিশ্চিত হন, কারখানার একটি ট্যাংক থেকে “মিথাইল মেথাক্রাইলেট” নামের দাহ্য ও অত্যন্ত অস্থিতিশীল রাসায়নিক পদার্থ লিক হচ্ছে। এই রাসায়নিক অ্যাক্রিলিক প্লাস্টিক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
জরুরি ঘোষণার মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়া গভর্নরের অফিস অব ইমার্জেন্সি সার্ভিসেস (ক্যাল ওইএস) এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থাকে অরেঞ্জ কাউন্টিকে সহায়তা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া জরুরি সাড়া দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে রাজ্য সরকারের মালিকানাধীন ভবন ও মেলার মাঠ ব্যবহার করে সরিয়ে নেওয়া বাসিন্দাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থাও করা হবে।
গভর্নরের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, “ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে গভর্নর গ্যাভিন নিউসম অরেঞ্জ কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। বিপজ্জনক রাসায়নিক দুর্ঘটনার কারণে আশপাশের এলাকা থেকে হাজারো মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।”
গভর্নর নিউসম বলেন, অরেঞ্জ কাউন্টির বাসিন্দাদের নিরাপত্তাই এখন “সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার” এবং স্থানীয় উদ্ধারকর্মীদের সহায়তায় “রাজ্যের সব ধরনের সম্পদ” ব্যবহার করা হচ্ছে।
ক্যাল ওইএস পরিচালক ক্যারোলিন থমাস জ্যাকবসও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, গার্ডেন গ্রোভ ও আশপাশের এলাকাকে নিরাপদ রাখতে সব সরকারি সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে।
তার ভাষায়, “আমরা স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। আমাদের লক্ষ্য হলো প্রয়োজনীয় সব সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং উদ্ধারকর্মীদের নিরাপদে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তা করা।”
ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের জন্য কয়েকটি জরুরি সহায়তা নম্বর চালু করা হয়েছে।
জরুরি হটলাইন নম্বর:
গার্ডেন গ্রোভ ২৪ ঘণ্টার জরুরি হটলাইন: ৭১৪-৭৪১-৫৪৪৪
অরেঞ্জ কাউন্টি তথ্য হটলাইন: ৭১৪-৬২৮-৭০৮৫
ওসিএফএ মেডিকেল তথ্য হটলাইন: ৭১৪-৫৩৮-২৫০১
উদ্ধার ও আশ্রয়কেন্দ্র:
ফ্রিডম হল, মাইল স্কয়ার রিজিওনাল পার্ক, ফাউন্টেন ভ্যালি
জন এফ কেনেডি হাই স্কুল, লা পালমা (বর্তমানে পূর্ণ)
সাভানা হাই স্কুল, আনাহাইম
ওশানভিউ হাই স্কুল, হান্টিংটন বিচ
এছাড়া অরেঞ্জ কাউন্টির সব প্ল্যানেট ফিটনেস শাখা দুর্গত মানুষ ও উদ্ধারকর্মীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সদস্যপদ ছাড়াই সেখানে গোসল, বিশ্রাম, লকার, বিদ্যুৎ ও ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
আনাহাইমের কয়েকটি হোটেলও গার্ডেন গ্রোভের ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ ছাড়ে থাকার ব্যবস্থা করছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
এলএবাংলাটাইমস/ওএম