লস এঞ্জেলেস

ক্যালিফোর্নিয়ায় রাসায়নিক ট্যাংক আতঙ্ক কাটল, প্রত্যাহার সব সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

ক্যালিফোর্নিয়ার গার্ডেন গ্রোভ এলাকায় রাসায়নিক ট্যাংক বিস্ফোরণের আশঙ্কা কাটিয়ে উঠেছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার রাতে সব ধরনের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অরেঞ্জ কাউন্টি ফায়ার অথরিটি জানিয়েছে, জিকেএন অ্যারোস্পেস কারখানার রাসায়নিক ট্যাংক থেকে এখন আর আগুন বা বিস্ফোরণের কোনো ঝুঁকি নেই। তবে সতর্কতার অংশ হিসেবে ট্যাংকগুলো এখনো পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। গত ২১ মে এ ঘটনা শুরু হয়। কারখানার একটি ট্যাংক থেকে “মিথাইল মেথাক্রিলেট” নামের দাহ্য রাসায়নিক লিক হতে থাকে। অ্যাক্রিলিক প্লাস্টিক তৈরিতে ব্যবহৃত এই রাসায়নিক অত্যন্ত অস্থির ও দাহ্য। সপ্তাহান্তে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত গরম হয়ে ওঠা ট্যাংক ঠান্ডা করার চেষ্টা ব্যর্থ হলে প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দাকে এলাকা ছাড়তে বলা হয়। সম্ভাব্য বিস্ফোরণের ঝুঁকি বিবেচনায় বিস্ফোরণপ্রবণ এলাকার মানচিত্রও প্রকাশ করেছিল ফায়ার কর্তৃপক্ষ। ট্যাংকটি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয় এবং দূরনিয়ন্ত্রিত পাইপ দিয়ে তাতে পানি ছিটানো হচ্ছিল। সোমবার কর্তৃপক্ষ জানায়, ট্যাংকে একটি ফাটল তৈরি হওয়ায় ভেতরের চাপ কমতে শুরু করেছে। এটিই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার প্রথম বড় অগ্রগতি ছিল। পরে ট্যাংকের তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রির নিচে নেমে আসে, ফলে বড় ধরনের বিস্ফোরণের আশঙ্কা দূর হয়। সোমবার রাতেই সরিয়ে নেওয়ার এলাকা ছোট করা হয় এবং হাজার হাজার মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেন। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত কারখানার আশপাশের এলাকায় ছোট ধরনের বিস্ফোরণের আশঙ্কা ছিল। সে কারণে প্রায় ১৬ হাজার মানুষ তখনও বাইরে ছিলেন। অবশেষে মঙ্গলবার রাতে সব ধরনের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ তুলে নেওয়া হয়। কারখানার আশপাশের সড়কও যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। ফায়ার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান টিজে ম্যাকগভের্ন বলেন, “আমরা এখন তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করছি। ধাপে ধাপে পানি সরানোর পরও যদি তাপমাত্রা স্থিতিশীল থাকে, তাহলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় এমন বিপজ্জনক রাসায়নিক কারখানা কেন রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। মঙ্গলবার রাতে সিটি কাউন্সিলের বৈঠকে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব দাবি করেন। অনেকে কারখানাটি বন্ধের দাবিও জানান। এক বাসিন্দা বলেন, “স্কুল ও পরিবারের বাড়ির এক মাইলের মধ্যে কীভাবে এই বিস্ফোরক রাসায়নিক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হলো?” আরেক বাসিন্দা সারাহ গার্সিয়া বলেন, “আমি জানতামই না আমার বাড়ির এত কাছে বিপজ্জনক রাসায়নিক রাখা হয়। এতে পুরো কমিউনিটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।” হঠাৎ করে ঘর ছাড়তে হওয়ায় অনেক মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে জায়গা না পেয়ে কেউ কেউ নিজেদের গাড়িতেই রাত কাটাতে বাধ্য হন। ঘটনার পর ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম অরেঞ্জ কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন, যাতে অতিরিক্ত সরকারি সহায়তা দ্রুত পাঠানো যায়। এদিকে রাসায়নিক লিকের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের পক্ষে জিকেএন অ্যারোস্পেসের বিরুদ্ধে গণমামলাও করা হয়েছে। মামলায় বাসিন্দাদের বাড়িঘর ব্যবহারে বাধা, স্বাস্থ্যঝুঁকি, আর্থিক ক্ষতি ও সম্পত্তির মূল্য কমে যাওয়ার জন্য জবাবদিহি দাবি করা হয়েছে। মামলায় যুক্ত আইনজীবী ফিলিপ্পো মার্চিনো বলেন, “যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি না থাকলেই এমন ঘটনা ঘটে। এসব রাসায়নিক সঠিকভাবে ব্যবহৃত হলে নিরাপদ।” অরেঞ্জ কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি টড স্পিটজার জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্তে তথ্য সংগ্রহের জন্য গোপন হটলাইন চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মানুষের জীবনের জন্য এত বড় ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করা জরুরি।” কর্তৃপক্ষ এখনো ট্যাংক অতিরিক্ত গরম হওয়ার কারণ তদন্ত করছে। তবে তারা জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আর কোনো বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।   এলএবাংলাটাইমস/ওএম