লস এঞ্জেলেস

বাইডেন প্রশাসনের সাবেক মন্ত্রী ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচনের দৌড়ে এগিয়ে

ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনে সাবেক স্বাস্থ্য ও মানবসেবা মন্ত্রী জেভিয়ার বেসেরা প্রাথমিক নির্বাচনে এগিয়ে রয়েছেন। ভোট গণনা চললেও বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, নভেম্বরের চূড়ান্ত নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি শীর্ষ দুই প্রার্থীর একজন হিসেবে এগিয়ে আছেন। বেসেরা এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা মন্ত্রী ছিলেন। দ্বিতীয় স্থান নিয়ে এখনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক টেলিভিশন উপস্থাপক স্টিভ হিলটন এবং ডেমোক্র্যাট বিলিয়নিয়ার জলবায়ু কর্মী টম স্টেয়ার সেই অবস্থানের জন্য লড়ছেন। ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ নিবন্ধিত ভোটার রয়েছে। বিপুল সংখ্যক ডাকযোগে পাঠানো ভোট (মেইল-ইন ব্যালট) এখনও গণনা করা হচ্ছে। ফলে চূড়ান্ত ফলাফল নিশ্চিত হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। বর্তমান গভর্নর গ্যাভিন নিউসম মেয়াদসীমায় পৌঁছে যাওয়ায় এবার নতুন গভর্নর নির্বাচিত হবে। এ নির্বাচনে ৬০ জনেরও বেশি প্রার্থী অংশ নিয়েছেন, যাদের অধিকাংশই ডেমোক্র্যাট। চূড়ান্ত নির্বাচনে বেসেরার প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রার্থী। নির্বাচিত গভর্নরকে বহু বিলিয়ন ডলারের বাজেট, হাজারো সরকারি কর্মচারী এবং শত শত অঙ্গরাজ্য সংস্থার তত্ত্বাবধান করতে হবে। ক্যালিফোর্নিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা বেসেরা নির্বাচিত হলে ১৮৭৫ সালের পর প্রথম লাতিনো গভর্নর হবেন। বর্তমানে অঙ্গরাজ্যের প্রায় ৪১ শতাংশ জনগোষ্ঠী লাতিনো। নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে প্রচারণার মূল ভিত্তি করেছেন বেসেরা। তিনি ওয়াশিংটন ও ক্যালিফোর্নিয়া—উভয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরোধিতা এবং বীমা ও ইউটিলিটি সেবার মূল্য স্থির রাখা। এদিকে ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান এরিক সোয়ালওয়েল এপ্রিল মাসে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পর বেসেরার অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়। সোয়ালওয়েলের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল, যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এই নির্বাচন ইতোমধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল গভর্নর নির্বাচন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। টম স্টেয়ার নিজের অর্থ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছেন, আর সিলিকন ভ্যালির বিভিন্ন মহল ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও সান হোসের মেয়র ম্যাট মাহানকে সমর্থন দিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় অধিকাংশ ভোট ডাকযোগে দেওয়া হয়। প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট মেইল-ইন ব্যালটের মাধ্যমে আসে। এসব ভোট যাচাই, বাছাই ও গণনার কারণে ফলাফল প্রকাশে সময় লাগে। প্রতিটি কাউন্টি নির্বাচনের পর ৩০ দিন পর্যন্ত ভোট গণনার সুযোগ পায়। চূড়ান্ত ফলাফল ১০ জুলাইয়ের আগে প্রত্যয়ন করা হবে না। ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। প্রেসিডেন্ট Donald Trump দাবি করেছেন, ডেমোক্র্যাটরা অঙ্গরাজ্যে নির্বাচন “চুরি করার চেষ্টা” করছে। তবে তিনি এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি। বর্তমান গণনায় স্টিভ হিলটন প্রায় ১৬ লাখ ভোট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে টম স্টেয়ার পেয়েছেন প্রায় ১৩ লাখ ভোট। তবে দুই প্রার্থীর ব্যবধান কম হওয়ায় দ্বিতীয় স্থান নিয়ে লড়াই এখনও অনিশ্চিত।   এলএবাংলাটাইমস/ওএম