লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে কম ভাড়ায় বসবাসের অন্যতম ভরসা পুরোনো অ্যাপার্টমেন্টগুলো। কিন্তু এসব ভবন দ্রুত বয়সের ভারে নুয়ে পড়ছে। একদিকে নতুন বাসার উচ্চ ভাড়া, অন্যদিকে পুরোনো ভবনগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ভাড়াটিয়াদের আবাসনসংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কাউন্টির আবাসন পরিস্থিতি নিয়ে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, পাঁচ বা তার বেশি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে—এমন ভবনের প্রায় ৭৫ শতাংশই ২০০০ সালের আগে নির্মিত। কাউন্টিতে এ ধরনের বহুতল আবাসিক ইউনিটের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ ৮০ হাজার। অর্থাৎ, ভাড়াটিয়াদের বড় একটি অংশের আবাসন নির্ভর করছে কয়েক দশক আগে নির্মিত ভবনগুলোর ওপর।
গবেষণায় দেখা গেছে, তুলনামূলক কম ভাড়ার এসব অ্যাপার্টমেন্টের বড় অংশ সরকারি ভর্তুকি ছাড়াই সাধারণ বাজারে সাশ্রয়ী রয়েছে। নতুন ভবনের তুলনায় এসব বাসায় ভাড়া কম হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক মানুষ এগুলোতে বসবাসের সুযোগ পান। কিন্তু ভবনগুলো পুরোনো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনও বাড়ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সাশ্রয়ী আবাসন হিসেবে বিবেচিত ভবনগুলোতে বসবাস করেও অনেক ভাড়াটিয়াকে আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ বাড়িভাড়ায় ব্যয় করতে হচ্ছে। গবেষণা অনুযায়ী, তুলনামূলক সাশ্রয়ী অ্যাপার্টমেন্টে বসবাসকারীরাও আয়ের গড়ে প্রায় ৩৫ শতাংশ বাসস্থানের পেছনে ব্যয় করেন। সাধারণভাবে আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি আবাসন ব্যয়ে খরচ হলে তাকে ভাড়ার আর্থিক চাপে থাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পুরো কাউন্টিতে প্রায় ৫৭ শতাংশ ভাড়াটিয়া এই চাপের মধ্যে রয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে পুরোনো ভবনগুলো হারিয়ে গেলে বা সেগুলোর ভাড়া বেড়ে গেলে বিকল্প বাসা খুঁজে পাওয়া আরও কঠিন হতে পারে। নতুন অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের মাধ্যমে এই ঘাটতি দ্রুত পূরণ করাও সহজ নয়। ফলে বিদ্যমান সাশ্রয়ী আবাসন সংরক্ষণ করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
লস এঞ্জেলেস শহরের আবাসন কর্তৃপক্ষও পুরোনো সম্পত্তি অধিগ্রহণ করে সাশ্রয়ী আবাসন হিসেবে ধরে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগকারীরাও তুলনামূলক কম ভাড়ার পুরোনো অ্যাপার্টমেন্টে বিনিয়োগ করছেন।
তবে দীর্ঘদিনের আবাসনসংকট মোকাবিলায় শুধু নতুন ভবন নির্মাণ যথেষ্ট নয়। বিদ্যমান ভবনগুলোর মান বজায় রাখা, প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ভাড়া নাগালের মধ্যে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
লস এঞ্জেলেস কাউন্টির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো, পুরোনো সাশ্রয়ী অ্যাপার্টমেন্টগুলোকে নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য রেখে কীভাবে ভবিষ্যতের আবাসনসংকট সামাল দেওয়া যায়।