ক্যালিফোর্নিয়ার অভিজাত শহর আর্কাডিয়ায় একটি বিলাসবহুল প্রাসাদকে ঘিরে শিশু নি র্যাতনের গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। সারোগেসির মাধ্যমে জন্ম নেওয়া একাধিক শিশুকে সেখানে রাখা হয়েছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, প্রাসাদটিতে শিশুদের ওপর নিয়মিত নি র্যাতন চালানো হতো। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ২৬ শিশুর ভবিষ্যৎ, সারোগেসি ব্যবস্থার তদারকি এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
২০২৫ সালের মে মাসে দুই মাস বয়সী ওয়াল্টার নামের এক শিশুকে মাথায় আ ঘাত নিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়। শিশুটির মা পরিচয় দেওয়া এক নারী পুলিশকে জানান, বিছানা থেকে পড়ে গিয়ে শিশুটি আ হত হয়েছে। তবে চিকিৎসকের কাছে আ ঘাতের ধরন স্বাভাবিকভাবে পড়ে যাওয়ার ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয়নি। তাঁর ধারণা ছিল, এমন আ ঘাত গাড়ি দুর্ঘটনা কিংবা শিশুকে ঝাঁকানোর ফলে হতে পারে।
শিশুটিকে নি র্যাতন করা হয়ে থাকতে পারে সন্দেহ করে পুলিশ আর্কাডিয়ার ওই প্রাসাদে তল্লাশি চালায়। সেখানে বসবাস করতেন ৬৬ বছর বয়সী গুওজুন শুয়ান এবং ৩৯ বছর বয়সী সিলভিয়া ঝাং। তল্লাশির সময় তাঁদের সাময়িকভাবে আটক করা হয়।
তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাসাদটিতে ছয় মাস থেকে তিন বছর বয়সী ১৪ শিশুকে পাওয়া যায়। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, শিশুদের নিয়মিত মার ধোর করা হতো। পুরো বাড়িতে নজরদারির জন্য ক্যামেরা বসানো ছিল। পরে কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, বাড়িটির ঠিকানাটি ওই দম্পতির পরিচালিত একটি সারোগেসি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধিত ঠিকানা হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে শুয়ান ও ঝাংকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। শিশু নি র্যাতনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাঁরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বর্তমানে হেফাজতে রয়েছেন। প্রত্যেকের জামিনের অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে দুই কোটি ডলার। দোষী সাব্যস্ত হলে শুয়ানের সর্বোচ্চ ১৭ বছর চার মাস এবং ঝাংয়ের ১১ বছর আট মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
আর্কাডিয়ার প্রাসাদটির আয়তন প্রায় ১০ হাজার বর্গফুট। ২০২১ সালের এপ্রিলে সেখানে বসবাস শুরু করেন এই দম্পতি। একই বছর বাড়িটি ৩৩ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছিল বলে অনলাইন সম্পত্তির নথিতে দেখা যায়। নয়টি শয়নকক্ষ, ১১টি বাথরুম এবং উত্তপ্ত সুইমিংপুলসহ বাড়িটি শহরটির অন্যতম বিলাসবহুল আবাসন।
লস এঞ্জেলেসের পূর্ব দিকে অবস্থিত আর্কাডিয়াকে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ‘চীনা বেভারলি হিলস’ বলা হয়। শহরটির জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ এশীয় বংশোদ্ভূত, যাঁদের বড় অংশ চীনা। এখানকার পরিবারের আয়ও যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ পরিবারের তুলনায় বেশি।
লস এঞ্জেলেস কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি নাথান হকম্যান ২০২৫ সালের অক্টোবরে অভিযোগ ঘোষণার সময় বাড়িটিকে শিশুদের জন্য ‘ভয়াবহ এক স্থান’ বলে বর্ণনা করেন।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, প্রাসাদটিতে ৩২টি ক্যামেরা বসানো ছিল। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ছোট শিশুরা অনেক সময় ধরে ডেস্কের পাশে বসে থাকত। একটি কক্ষে সরাসরি ক্যামেরা ছিল না। তবে অন্য ক্যামেরায় দেখা গেছে, পরিচর্যাকারীরা শিশুদের ওই কক্ষে নিয়ে যাচ্ছেন। এরপর ভেতর থেকে শিশুদের চিৎকার শোনা যেত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওয়াল্টারের আ ঘাতের জন্য পরিচর্যাকারী চুনমেই লিকে দায়ী করেছেন প্রসিকিউটররা। তাঁর বিরুদ্ধে এমন পরিস্থিতিতে শিশু নি র্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে, যাতে গুরুতর শারীরিক আ ঘাত কিংবা মৃ ত্যুর ঝুঁকি ছিল। তবে লি এখনো গ্রেপ্তার হননি এবং পলাতক রয়েছেন।
অন্যদিকে, দম্পতির আইনজীবী মিচেল ক্রেমস অভিযোগগুলোকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, পর্যালোচনা করা প্রমাণের সঙ্গে অভিযোগের বর্ণনার মিল নেই। শুয়ান নির্দোষ বলেও দাবি করেন তিনি। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, বড় পরিবার গড়ার সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করার কারণে তাঁর মক্কেলকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
সারোগেসির মাধ্যমে এত শিশুর জন্ম কীভাবে হলো, তা নিয়েও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে।
সারোগেসি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে একজন নারী অন্য কারও সন্তান গর্ভে ধারণ করেন এবং জন্ম দেন। যুক্তরাষ্ট্র এই প্রজননপ্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান গন্তব্য। ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান নিতে চাওয়া ব্যক্তিদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই বিদেশি ছিলেন। তাঁদের মধ্যে চীনের নাগরিকদের অংশ ছিল সবচেয়ে বেশি। বিদেশি আগ্রহী অভিভাবকদের প্রায় ৪২ শতাংশই ছিলেন চীনা।
চীনে সারোগেসি নিষিদ্ধ। এ কারণে দেশটির কিছু নাগরিক সন্তান নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে যান। চীনে একক নারী ও এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের সদস্যদের জন্য আইভিএফ এবং ডিম্বাণু সংরক্ষণের মতো প্রজননসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও নানা বাধা রয়েছে। আবার দীর্ঘদিনের এক সন্তান নীতির কারণে কিছু দম্পতি পরবর্তী সময়ে সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে শারীরিক জটিলতার মুখে পড়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ বিদেশে সারোগেসির আশ্রয় নিয়েছেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, শুয়ান ও ঝাংয়ের হয়ে সন্তান ধারণ করা কয়েকজন নারী প্রথমে তাঁদের অনুরোধে সন্দেহজনক কিছু দেখেননি। তাঁদের অনেককে ‘মার্ক সারোগেসি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সাধারণত সারোগেসি প্রতিষ্ঠানকে অভিভাবক ও গর্ভধারণকারী নারীর মধ্যকার স্বাধীন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করতেন শুয়ান ও ঝাং নিজেরাই। কয়েকজন সারোগেটের দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, শুরুতে তাঁদের কাছে এই সম্পর্কের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধিত নথিতে ঝাংকে মার্ক সারোগেসির ব্যবস্থাপক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই নথিতে আর্কাডিয়ার প্রাসাদটির ঠিকানাও প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা হিসেবে রয়েছে। ১৬ অক্টোবরের শুনানিতে সহকারী জেলা অ্যাটর্নি ম্যাকেঞ্জি ক্যামেরন তেমুরি বিচারককে জানান, ওই দম্পতির পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অন্য কোনো অভিভাবককে সারোগেট মায়ের সঙ্গে যুক্ত করার নজির নেই বলে তাঁর দপ্তরের তথ্য।
ট্রন্ডেরিকা জেমস নামের এক নারী ২০২৫ সালে প্রতারণা ও ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাঁর অভিযোগ, ঝাং মার্ক সারোগেসির সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা শুরুতে জানাননি। বিষয়টি জানা থাকলে তিনি এই ব্যবস্থায় এগোতেন না বলেও দাবি করেন জেমস। মামলাটি এখনো বিচারাধীন।
এ ছাড়া স্টেসি রেলিন কিং, ইভলিন সেনোলোস আরেহা, কায়লা এলিয়ট, হ্যালি হার্নান্দেজ ও ভ্যানিটি ম্যাকগোভারান নামের আরও পাঁচ নারী একই ধরনের অভিযোগে পৃথক মামলা করেছেন। তাঁদের দাবি, ঝাং ও শুয়ানের সঙ্গে সারোগেসি প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক এবং দম্পতির প্রকৃত সন্তানের সংখ্যা সম্পর্কে তাঁদের পুরো তথ্য জানানো হয়নি। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, প্রত্যেককে বিশ্বাস করানো হয়েছিল যে তাঁরা দম্পতির জন্য একমাত্র সন্তানধারণকারী নারী এবং একটি মাত্র কাঙ্ক্ষিত সন্তান জন্ম দিতে সহায়তা করছেন।
দম্পতিটি ক্যালিফোর্নিয়ার ‘বেবিট্রি সারোগেসি’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও কয়েকজন নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা প্যাট্রিক ইউ জানান, ২০১৮ সালে শুয়ান তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বড় পরিবার গড়তে চান বলে জানান। তাঁর প্রতিষ্ঠান কয়েকজন নারীর সঙ্গে শুয়ানের যোগাযোগ করিয়ে দেয়, যাঁদের মাধ্যমে অন্তত চারটি শিশুর জন্ম হয়।
ওয়াল্টারের আ ঘাতের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর শুয়ানের এত সন্তান রয়েছে জানতে পেরে তাঁরা দম্পতির সঙ্গে কাজ বন্ধ করে দেন বলে জানান ইউ। তবে ২০২৪ সালে তাঁদের মাধ্যমে যুক্ত হওয়া এক নারী তখন গর্ভবতী ছিলেন। পরবর্তী সময়ে শিশুটির জন্ম হয় ২০২৬ সালের শুরুতে।
প্রজননস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লিয়াং ইউয়ের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে একজন অভিভাবক কতবার সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান নেওয়ার অনুরোধ করতে পারবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট আইনি সীমা নেই। একইভাবে, এ ধরনের তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতাও নেই। কোনো প্রতিষ্ঠান নিজস্ব নীতি অনুসরণ করতে পারে, কিন্তু একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে সব তথ্য প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতা সব সময় থাকে না। তাঁর মতে, এতে আইন ও শিল্পখাতের নিয়মকানুনের মধ্যে একটি ধূসর ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
দম্পতির আর্থিক সামর্থ্যও তদন্তে আলোচনায় এসেছে। ১৬ অক্টোবরের শুনানিতে প্রসিকিউটর তেমুরি জানান, ২০২৫ সালে তাঁদের মোট সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ডলারের বেশি ছিল। শুয়ানের কাছে মেক্সিকো, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি পাসপোর্ট পাওয়া গেছে বলেও তিনি আদালতকে জানান।
চীনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫৯ সালে পূর্ব চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশে জন্ম শুয়ানের। ১৮ বছর বয়সে উরুমচির একটি রাষ্ট্রায়ত্ত মুদি প্রতিষ্ঠানে হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। পরে ১৯৯৭ সালে উরুমচির গণকংগ্রেসের প্রতিনিধি এবং ২০০৮ সালে শিনজিয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের আইনসভায় প্রতিনিধি হন। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরও বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
২০২২ সালে আর্কাডিয়ার তৎকালীন মেয়র আইলিন ওয়াংয়ের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে শুয়ানকে দেখা গিয়েছিল। ওই বছর ওয়াংয়ের নির্বাচনী প্রচারে তাঁর নামের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৪ হাজার ৯০০ ডলার অনুদান দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের মে মাসে চীনের অবৈধ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার অভিযোগে মার্কিন বিচার বিভাগ ওয়াংয়ের বিরুদ্ধে মামলা করার পর তিনি মেয়রের পদ ছেড়ে দেন। পরে তিনি অভিযোগের একটি গুরুতর ধারায় দোষ স্বীকার করেন।
ঝাং সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে কম তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি আগে আবাসন ব্যবসায় কাজ করতেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, শুয়ান ও ঝাং কখনো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হননি। ঝাং অন্য একজনকে বিয়ে করেছিলেন এবং ২০২২ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, শিশুদের ভবিষ্যৎ কী হবে। আদালতে প্রসিকিউটরদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই পরিবারের সঙ্গে মোট ২৬টি শিশু যুক্ত রয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে ঝাংয়ের রাখা একটি স্প্রেডশিটে ২১ শিশুর তথ্য ছিল। শিশুদের সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এরপর আরও পাঁচটি শিশুর জন্ম হয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়।
তবে সারোগেসির মাধ্যমে জন্ম নেওয়া একটি শিশু বর্তমানে ভার্জিনিয়ায় তার সারোগেট মায়ের সঙ্গে রয়েছে। মেলিসা এপস নামের ওই নারী তদন্তের খবর জানার সময় গর্ভবতী ছিলেন এবং শিশুটিকে নিজের কাছে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। পরে দম্পতি চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে শিশুটিকে ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করে।
শুরুতে আইনজীবী না থাকায় এপসকে নিজেই আদালতে নিজের পক্ষে কথা বলতে হয়। পরে ভার্জিনিয়া লিগ্যাল এইড সোসাইটির আইনজীবী পামেলা ডিক্যাম্প তাঁর পক্ষে দাঁড়ান। ডিক্যাম্প জানান, শিশুদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে লস এঞ্জেলেসের জেলা অ্যাটর্নির উদ্যোগে তাঁরা কৃতজ্ঞ। মামলাটি আগামী মার্চ পর্যন্ত চলার কথা। শিশুটি বর্তমানে সামাজিক সেবা বিভাগের তত্ত্বাবধানে থাকলেও এপসের সঙ্গেই বসবাস করছে এবং সম্প্রতি তার প্রথম জন্মদিন পালন করেছে।
এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে সারোগেসি ব্যবস্থার তদারকি, অভিভাবকদের তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা এবং সারোগেসির মাধ্যমে জন্ম নেওয়া শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্ন সামনে এনেছে। মামলার অভিযোগগুলো এখনো আদালতে নিষ্পত্তি হয়নি। তবে শিশুদের কল্যাণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি প্রতিরোধে আইন ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ঘাটতি আছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।