লস এঞ্জেলেস

হাসপাতাল ও ক্লিনিক বাড়াচ্ছে ইউসিএলএ, তবু কম আয়ের রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ

ক্যালিফোর্নিয়ায় ইউসিএলএ হেলথের দ্রুত সম্প্রসারণ চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়ালেও এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি চিকিৎসার ব্যয়, স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম, জরুরি বিভাগে রোগীর চাপ এবং কম আয়ের মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বাস্থ্যনীতি বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হাসপাতালগুলোর একীভূত হওয়া ও বাজারে প্রভাব বাড়ার কারণে রোগী এবং নিয়োগকর্তাদের চিকিৎসা ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে। তবে ইউসিএলএ কর্তৃপক্ষ বলছে, মানুষের চিকিৎসার চাহিদা পূরণ এবং সেবার সুযোগ বাড়ানোই তাদের সম্প্রসারণের মূল লক্ষ্য। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার অধীন এই স্বাস্থ্যব্যবস্থার এখন পাঁচটি হাসপাতাল ও প্রায় ৩০০টি ক্লিনিক রয়েছে। এক দশক আগে তাদের চিকিৎসাকেন্দ্রের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫০। গত বছর ইউসিএলএ হেলথের হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা নেওয়ার জন্য রোগীদের মোট উপস্থিতি ছিল ৪২ লাখ বার, যা ২০১৫ সালের তুলনায় পাঁচ গুণেরও বেশি। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজেদের পরিচিতি বাড়াতে খেলাধুলার বিভিন্ন ক্ষেত্রেও বিপুল অর্থ ব্যয় করছে প্রতিষ্ঠানটি। ডজার্সের বেসবল মাঠে বিজ্ঞাপন এবং লস এঞ্জেলেস লেকার্সের প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে তারা। লেকার্সের সঙ্গে বিপণন অংশীদারত্বে বিশ্ববিদ্যালয়টি কয়েক কোটি ডলার ব্যয় করেছে। ইউসিএলএ হেলথের প্রধান চিকিৎসা ও গুণগত মান কর্মকর্তা রবার্ট চেরি বলেছেন, জনসাধারণের জন্য চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করা একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান দায়িত্ব। তাঁর মতে, তাদের সেবার চাহিদা অনেক বেশি এবং সম্প্রসারণের উদ্দেশ্য সেই চাহিদা পূরণ করা। তবে স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদদের বক্তব্য ভিন্ন। তাঁদের মতে, হাসপাতালগুলো যখন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ করে, চিকিৎসকদের নিজেদের ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসে এবং বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করে, তখন চিকিৎসার দাম ও স্বাস্থ্যবিমার খরচ বাড়তে পারে। অথচ এর ফলে চিকিৎসার মান সব সময় উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয় না। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় হাসপাতাল অধিগ্রহণের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার স্বাস্থ্য অর্থায়নবিষয়ক অধ্যাপক গ্লেন মেলনিক। তাঁর মতে, প্রতিষ্ঠানগুলোর একীভূত হওয়ার কারণে নিয়োগকর্তাদের স্বাস্থ্যবিমার খরচ বাড়তে পারে। এতে কর্মীদের বেতন বাড়ানোর জন্য প্রতিষ্ঠানের হাতে কম অর্থ থাকে, অন্যদিকে কর্মীদেরও বিমার প্রিমিয়াম ও চিকিৎসার নিজস্ব খরচ বেশি দিতে হয়। ক্যালিফোর্নিয়া হেলথ কেয়ার ফাউন্ডেশনের ২০২১ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়েছিল, রাজ্যের বিভিন্ন কাউন্টিতে হাসপাতালসেবার বাজার এমন পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছিল, যেখানে প্রতিযোগিতা কমে একচেটিয়া প্রভাব তৈরির ঝুঁকি রয়েছে। গবেষণাটিতে হাসপাতালগুলোর একীভূত হওয়ার সঙ্গে চিকিৎসার মূল্যবৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া গেলেও সেবার মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতির প্রমাণ সীমিত ছিল। মেলনিকের মতে, ইউসিএলএ যখন কোনো চিকিৎসকের ব্যক্তিগত ক্লিনিক অধিগ্রহণ করে সেটিকে হাসপাতালের বহির্বিভাগ হিসেবে পরিচালনা করে, তখন সাধারণ চিকিৎসা, ইমেজিং পরীক্ষা কিংবা ছোটখাটো চিকিৎসাপদ্ধতির জন্য অতিরিক্ত হাসপাতাল-সুবিধা ফি নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফলে একই ধরনের সেবা নিতে রোগীর খরচ বেড়ে যেতে পারে। তবে ইউসিএলএ হেলথের প্রধান কৌশল কর্মকর্তা সান্তিয়াগো মুনোজ বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটি সব ধরনের সেবার ক্ষেত্রে এ ধরনের ফি নেয় না। তাঁর দাবি, কমিউনিটিতে চিকিৎসকদের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়ে কার্যক্রম চালায় এবং অন্য কিছু হাসপাতালের মতো সব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি আদায় করে না। চিকিৎসার খরচের পাশাপাশি হাসপাতালের ভেতরে রোগীর চাপও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ওয়েস্টউডে অবস্থিত রোনাল্ড রেগান ইউসিএলএ মেডিকেল সেন্টারের নার্সদের অভিযোগ, বিভিন্ন ক্লিনিক থেকে অস্ত্রোপচার ও জটিল চিকিৎসার জন্য আসা রোগীদের কারণে জরুরি বিভাগে দীর্ঘ অপেক্ষা তৈরি হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিতম্বের অস্ত্রোপচার, হৃদ্‌রোগের চিকিৎসা কিংবা অন্যান্য জটিল সেবার জন্য ভর্তি হওয়া কিছু রোগীকে সাধারণ ওয়ার্ডে শয্যা খালি হওয়ার অপেক্ষায় জরুরি বিভাগে এক থেকে দুই দিন পর্যন্ত থাকতে হচ্ছে। ভর্তি হওয়ার পরও যেসব রোগী শয্যা পান না, তাঁদের জন্য জরুরি বিভাগের সাবেক অপেক্ষাকক্ষ ও আশপাশের স্থানে অতিরিক্ত শয্যা বসানো হয়েছে। এর ফলে জরুরি চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করা অন্য রোগীদের একটি বড় সাদা তাঁবুতে রাখতে হচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় তাঁবুটি স্থাপন করা হয়েছিল। জরুরি বিভাগে কাজ করা নার্স ডায়ান স্পোসিতো বলেন, তাঁবুর মধ্যে রোগীকে যথাযথভাবে পরীক্ষা করা কঠিন। তাঁর আশঙ্কা, এই পরিস্থিতিতে রোগীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এবং ভুল চিকিৎসা বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে। ইউসিএলএ কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, জরুরি বিভাগে ভিড় কমানো এবং রোগীদের নিরাপদ রাখার জন্য তাদের একাধিক ব্যবস্থা রয়েছে। হাসপাতালটির প্রেসিডেন্ট জনিসে স্পিসো সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের এক বৈঠকে বলেন, ভর্তি হওয়া রোগীদের দীর্ঘ অপেক্ষা কমাতে আরও সর্বোচ্চ ৪০০টি হাসপাতাল শয্যা যোগ করার প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসাসেবার সুযোগ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক, চিকিৎসক ও কর্মীর অভিযোগ, নতুন ক্লিনিকগুলোর বড় অংশ গড়ে উঠেছে মালিবু ও মন্টেসিতোর মতো তুলনামূলক সচ্ছল এলাকায়। অথচ দক্ষিণ ও পূর্ব লস এঞ্জেলেসের মতো এলাকায়, যেখানে কম আয়ের মানুষের সংখ্যা বেশি, ইউসিএলএ হেলথের নিজস্ব ক্লিনিক নেই। কম আয়ের মানুষদের একটি বড় অংশ ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডি-ক্যালের আওতায় চিকিৎসা নেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এই কর্মসূচির আওতায় চিকিৎসার জন্য যে অর্থ ফেরত পাওয়া যায়, তা অনেক ক্ষেত্রে সেবার প্রকৃত খরচ মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। ফলে বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতায় থাকা রোগীদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে এই ঘাটতি সামলাতে হয়। তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন স্বাস্থ্যব্যবস্থা হিসেবে ইউসিএলএ কেন কম আয়ের মানুষের চিকিৎসার চাহিদাকে আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে না। সম্প্রতি মেডি-ক্যালের আওতায় থাকা হাজার হাজার রোগীর চিকিৎসাসেবার জন্য একটি দীর্ঘদিনের চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্তও এ বিতর্ক বাড়িয়েছে। চুক্তিটি শেষ হওয়ার পর অনেক রোগীকে নতুন চিকিৎসক খুঁজতে হয়েছে। পরে রোগীদের অন্য চিকিৎসকের কাছে স্থানান্তরের ব্যবস্থা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হয়। ইউসিএলএ হেলথের প্রেসিডেন্ট জনিসে স্পিসো বলেছেন, লস এঞ্জেলেসের স্বাস্থ্যসেবার বিশাল বাজারের তুলনায় তাঁদের প্রতিষ্ঠানের অংশ এখনো সীমিত। অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের দাবি, মেডি-ক্যালের কম অর্থ ফেরত পাওয়ার কারণে সেবার ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, প্রতি বছর কম আয়ের রোগীদের জন্য ২৭ কোটি ডলারের বেশি অর্থের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হলেও তার পুরো মূল্য ফেরত পাওয়া যায় না। চিকিৎসার মূল্য নিয়ে উদ্বেগের পেছনে কিছু নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানও রয়েছে। সেরিফ হেলথের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর অ্যান্থেম নামের স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠান রোনাল্ড রেগান ইউসিএলএ মেডিকেল সেন্টারে একটি পূর্ণাঙ্গ হাঁটু প্রতিস্থাপনের জন্য ২০ হাজার ২৬৫ ডলার দিচ্ছে। এই মূল্য গত বছরের তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি। তবে এতে চিকিৎসকের ফি, প্রতিস্থাপনের যন্ত্রাংশ ও অ্যানেসথেশিয়ার খরচ অন্তর্ভুক্ত নয়। একই ধরনের অস্ত্রোপচারের জন্য সিডারস-সিনাইয়ের সঙ্গে বিমা প্রতিষ্ঠানের চুক্তিমূল্য ৪২ হাজার ৫৫৯ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে প্রভিডেন্স সেন্ট জনসের ক্ষেত্রে অ্যান্থেমের অর্থ পরিশোধের পরিমাণ ইউসিএলএর তুলনায় ২২ শতাংশ কম। ইউসিএলএ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, একটি শিক্ষণ হাসপাতাল হিসেবে তারা জটিল ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা বেশি দেয়, তাই সাধারণ হাসপাতালের সঙ্গে সরাসরি মূল্য তুলনা সব সময় যথাযথ নয়। আর্থিকভাবে অবশ্য ইউসিএলএ হেলথের সম্প্রসারণ সফল হয়েছে। গত বছর প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন আয় প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি হয়েছে। ব্যয় বাদ দেওয়ার পর পরিচালন মুনাফা ছিল ৭৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, এই হিসাবের মধ্যে মেডিকেল স্কুলের অন্যান্য কার্যক্রম ও চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের জন্য দেওয়া ৪৯ কোটি ৬০ লাখ ডলারের অর্থ স্থানান্তর অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই শুধু পরিচালন মুনাফার হার দিয়ে প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক আর্থিক অবস্থার তুলনা করা ঠিক হবে না বলে তাদের দাবি। সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও অব্যাহত রয়েছে। লস এঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে নয় একর জমির ওপর অবস্থিত প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার বর্গফুটের একটি ভবন সংস্কারে প্রায় ৩০ কোটি ডলার ব্যয় করছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। সেখানে ক্রীড়া চিকিৎসা, ফিজিক্যাল থেরাপি, উন্নত ইমেজিং এবং ১০টি অস্ত্রোপচারকক্ষসহ বহির্বিভাগীয় সার্জারি কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া লস এঞ্জেলেসের মিড-উইলশায়ার এলাকায় ১১৯ শয্যার একটি নতুন মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সাবেক অলিম্পিয়া মেডিকেল সেন্টারের ভবন সংস্কার করে এই হাসপাতাল তৈরি করা হচ্ছে। বর্তমানে রোনাল্ড রেগান মেডিকেল সেন্টারের চতুর্থ তলায় থাকা ৭৪ শয্যার নিউরোসাইকিয়াট্রিক হাসপাতালটি সেখানে স্থানান্তর ও সম্প্রসারণ করা হবে। নতুন হাসপাতালটি চালু হলে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য অপেক্ষমাণ রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ বাড়বে বলে ইউসিএলএ জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০২৪ সালে সান ফার্নান্দো ভ্যালির ২৬০ শয্যার ওয়েস্ট হিলস হাসপাতালও অধিগ্রহণ করে। পরে এর নাম পরিবর্তন করে ইউসিএলএ ওয়েস্ট ভ্যালি মেডিকেল সেন্টার রাখা হয়। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, হাসপাতালটি ও আশপাশের ক্লিনিকগুলো প্রত্যাশার চেয়েও ভালো আর্থিক ফল দিচ্ছে। ইউসিএলএ হেলথের সম্প্রসারণ একদিকে চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে খরচ, রোগীর চাপ এবং সেবার সমান সুযোগ নিশ্চিত করা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করছে। নতুন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মাধ্যমে কতটা মানুষের কাছে সেবা পৌঁছাবে, আর সেই সম্প্রসারণের আর্থিক বোঝা রোগী ও স্বাস্থ্যবিমার গ্রাহকদের ওপর কতটা পড়বে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।