ক্যালিফোর্নিয়ার সান পেদ্রোতে ভিনসেন্ট থমাস সেতু সংস্কারের জন্য অন্তত ১৬ মাস বন্ধ হতে যাচ্ছে। ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে শনিবার, ৭ নভেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে। সেতুটি ২০২৮ সালের মার্চের শুরুতে আবার খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্টেট রুট ৪৭-এর অংশ এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫৩ হাজার যানবাহন চলাচল করে। এটি সান পেদ্রো ও টার্মিনাল আইল্যান্ডের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ তৈরি করেছে। সেখান থেকে লং বিচের দিকেও যাতায়াত করা যায়। সেতুটি বন্ধ থাকায় চালকদের বিকল্প পথে চলাচল করতে হবে।
ক্যালট্রান্সের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৯৬৩ সালে সেতুটি চালু হওয়ার পর ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে যান চলাচলের চাপ বহন করছে। এ সময়ে আশপাশের এলাকার আয়তন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সেতুটি যে লস এঞ্জেলেস ও লং বিচ বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ, সেই দুই বন্দর এখন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যস্ত বন্দরগুলোর মধ্যে রয়েছে।
ক্যালট্রান্সের জেলা ৭-এর মুখপাত্র নাথান বাস বলেন, দীর্ঘদিনের ভারী যান চলাচল এবং সামুদ্রিক পরিবেশের কারণে সেতুটির কাঠামো ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, সেতুর মূল কাঠামো এখনো নিরাপদ থাকলেও যানবাহন চলাচলের ডেকটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তা বদলানো প্রয়োজন।
সংস্কার প্রকল্পে সেতুর ডেক পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আধুনিক করা হবে। এর মধ্যে থাকবে নতুন রেলিং, নতুন বেড়া এবং উন্নত ভূমিকম্প শনাক্তকরণ সেন্সর।
সেতু বন্ধ থাকায় যানবাহনকে মূলত ৭১০ ও ১১০ ফ্রিওয়ে, স্টেট রুট ১০৩ এবং হ্যারি ব্রিজেস বুলেভার্ড দিয়ে ঘুরে যেতে হবে। এতে সান পেদ্রো ও আশপাশের এলাকায় যানজট এবং যাতায়াতে বিলম্বের আশঙ্কা রয়েছে।
ক্যালট্রান্স জানিয়েছে, বিকল্প পথের প্রস্তুতি হিসেবে বিভিন্ন সড়ক ও মোড়ের পৃষ্ঠ সংস্কার এবং নতুন করে সড়কচিহ্ন আঁকার কাজ করা হয়েছে। যান চলাচল পর্যবেক্ষণে ক্যামেরা ও অস্থায়ী ট্রাফিক সিগন্যালও বসানো হয়েছে।
যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ১৮টি মোড়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন। বাণিজ্যিক ট্রাকচালকদের আবাসিক এলাকার ভেতর দিয়ে বিকল্প পথ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করা হয়েছে। নিয়ম ভাঙলে তাঁদের জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।
কর্তৃপক্ষ চালকদের যাত্রার আগে বিকল্প পথ ঠিক করে নেওয়ার এবং সম্ভব হলে অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। দীর্ঘ সংস্কারকাজ শেষ হলে সেতুটির নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।