দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি অপেক্ষার পর অবশেষে এনবিএ (ন্যাশনাল বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশন) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নিউইয়র্ক নিকস। শনিবার রাতে ফাইনাল সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে সান আন্তোনিও স্পার্সকে ৯৪-৯০ পয়েন্টে হারিয়ে শিরোপা জয় নিশ্চিত করে দলটি। এর ফলে নিউইয়র্কজুড়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন হাজারো সমর্থক।
ম্যাচটি টেক্সাসের ফ্রস্ট সেন্টারে অনুষ্ঠিত হলেও নিউইয়র্কের রাস্তাঘাট, স্পোর্টস বার ও বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে সমর্থকদের ভিড় দেখা যায়। অনেকে আবার সরাসরি খেলা দেখতে নিউইয়র্ক থেকে টেক্সাসে ছুটে যান।
নিকস সমর্থক এলিজাবেথ ম্যাডিগান ম্যাচের আগের দিন নিউইয়র্ক থেকে সান আন্তোনিওতে পৌঁছান। তিনি বলেন, “আমি প্রায় সারা জীবন এই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করেছি। নিকস শেষবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল যখন আমার বয়স মাত্র ছয় মাস ছিল। তাই আজকের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।”
তিনি আরও বলেন, “মাঝে মাঝে সন্দেহ জেগেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা পেরেছি। নিকস চিরজীবী।”
একসময় এনবিএর সবচেয়ে দুর্বল দলগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত ছিল নিকস। ১৯৯৯ সালে তারা সর্বশেষ ফাইনালে উঠেছিল, সেবারও প্রতিপক্ষ ছিল স্পার্স। তবে সেই সিরিজে পরাজিত হয়েছিল দলটি। আর শেষবার শিরোপা জিতেছিল ১৯৭৩ সালে।
ম্যানহাটনের একটি স্পোর্টস বারে খেলা দেখার অপেক্ষায় থাকা সমর্থক জেক মিনিকুচি বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই নিকসকে দেখছি। তারা দীর্ঘদিন খুব খারাপ খেলেছে। আজ হয়তো বহু বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো আমি কান্না করব।”
খেলার আগে থেকেই পুরো শহরে ছিল উৎসবের আমেজ। মিনিকুচি বলেন, “এই শহর যেন বিদ্যুতায়িত। সবাই বুঝতে পারছে আমরা একই স্বপ্ন নিয়ে একসঙ্গে আছি।”
২৪ বছর বয়সী আরেক সমর্থক ড্যানিয়েল ব্রাউন বলেন, “এটি নিউইয়র্ক শহরের ইতিহাসের অন্যতম সেরা রাত হতে পারে। আমি সারা জীবন এখানে আছি, কিন্তু এমন অভিজ্ঞতা আগে কখনও পাইনি।”
খেলার আগে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, শহর কর্তৃপক্ষ নিকসের সঙ্গে সমন্বয় করে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন, রেডিও সিটি মিউজিক হল এবং ওলম্যান রিঙ্কের বাইরে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করেছে।
তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, “উৎসব করুন, তবে দায়িত্বশীল থাকুন। একে অপরের খেয়াল রাখুন এবং নিরাপদে উদযাপন করুন।”
তবে সিরিজ চলাকালে নিউইয়র্কে কয়েকটি সহিংস ঘটনার খবরও আসে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, স্পার্সের সমর্থকদের ওপর হামলার কয়েকটি ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে একজন হাসপাতালে ভর্তি হন।
অন্যদিকে, ম্যাডিগান জানান যে সান আন্তোনিওতে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও তিনি উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন। তিনি বলেন, “সান আন্তোনিওর মানুষজন প্রতিযোগিতা থাকা সত্ত্বেও খুবই আন্তরিক ও বন্ধুসুলভ আচরণ করেছেন।”
নিকস ও স্পার্স—উভয় দলের খেলোয়াড়রাই সমর্থকদের প্রতি সহিংসতা ও হয়রানির ঘটনাগুলোর নিন্দা জানিয়েছেন।
এদিকে ফাইনালের পঞ্চম ম্যাচের আগে টিকিট নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়। টিকিট বিক্রয় প্রতিষ্ঠান টিকিটমাস্টার তাদের ওয়েবসাইটে জানায়, সান আন্তোনিওর অ্যারেনা থেকে ১৫০ মাইলের বেশি দূরে বসবাসকারীদের কেনা টিকিট বাতিল করা হতে পারে।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল। তবে পরে টিকিটমাস্টার জানায়, তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে কেনা কোনো টিকিট বাতিল করা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও করা হবে না।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম