সমুদ্রের তাপমাত্রা বদলাতেই দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় আসছে অচেনা সব সামুদ্রিক প্রাণী
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ১৫ হাজার মানুষকে বহিষ্কার, জানাল ইউসিএলএর গবেষণা
ছবিঃ ফাইল ফুটেজ
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া থেকে প্রায় ১৫ হাজার অভিবাসীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস এঞ্জেলেসের (ইউসিএলএ) গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া এসব ব্যক্তিকে পরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়।
গবেষণায় দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সাতটি কাউন্টির তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এগুলো হলো লস এঞ্জেলেস, অরেঞ্জ, রিভারসাইড, সান বার্নার্ডিনো, সান লুইস ওবিসপো, সান্তা বারবারা ও ভেনচুরা। এতে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে আইসিইর অভিযান সবচেয়ে তীব্র হওয়ার সময় বহিষ্কারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ওই বছরের জুন ও জুলাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ৭৫ শতাংশকে শেষ পর্যন্ত বহিষ্কার করা হয়।
গবেষণায় অভিবাসন আইন প্রয়োগের ধরনেও পরিবর্তনের বিষয়টি উঠে এসেছে। আগে আইসিইর অভিযান অনেক ক্ষেত্রে কারাগার বা আটককেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের হেফাজতে নেওয়ার ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু ২০২৫ সাল থেকে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, কর্মস্থলের আশপাশ, অভিবাসন আদালত এবং নিয়মিত আইসিইতে হাজিরার সময় সরাসরি গ্রেপ্তারের ঘটনা বেড়েছে।
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় কারাগার বা হেফাজতের বাইরে হওয়া মোট গ্রেপ্তারের প্রায় ৩৩ শতাংশ ঘটেছে লস এঞ্জেলেস শহরে। সান্তা আনা, সান বার্নার্ডিনো, সান্তা মারিয়া ও কামারিলো এলাকাতেও এ ধরনের অভিযান উল্লেখযোগ্য ছিল।
গ্রেপ্তারের পর দ্রুত বহিষ্কারের বিষয়টিও গবেষণায় উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের ৬২ শতাংশকে ৬০ দিনের মধ্যে বহিষ্কার করা হয়। একই সময়ে মাত্র ৭ শতাংশকে ৬০ দিনের মধ্যে অভিবাসন আটককেন্দ্র থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যেসব অভিবাসীর বিরুদ্ধে আদালতের চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ ছিল না, তাঁদের গ্রেপ্তারের সংখ্যা ২০২৫ সালের জুনে ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ১৪ গুণ বেড়েছিল। একই সময়ে কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া অভিবাসীদের গ্রেপ্তার বেড়েছিল ৩৪ গুণেরও বেশি।
গবেষণা প্রকল্পের সহপরিচালক ও ইউসিএলএর রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক গ্রায়েম ব্লেয়ার বলেছেন, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিবাসন অভিযানের ব্যাপক প্রভাব নতুন তথ্যের মাধ্যমে পরিমাপ করা সম্ভব হয়েছে। তাঁর মতে, ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে অভিযান শুরু হওয়ার পরও গ্রেপ্তার অব্যাহত রয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই মাসেই এক হাজারের বেশি অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, বহিষ্কৃত প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মধ্যে প্রায় ৩০০ জনকে তাঁদের নাগরিকত্বের দেশের পরিবর্তে অন্য দেশে পাঠানো হয়েছিল। তাঁদের অধিকাংশকে মেক্সিকোতে পাঠানো হয়। অন্যদের মধ্যে কয়েকজনকে গুয়াতেমালা, ইকুয়েডর, হন্ডুরাস, ঘানা ও এসওয়াতিনির মতো দেশে পাঠানো হয়েছে।
গবেষকদের বিশ্লেষণে দেখা যায়, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিবাসন অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ২০২৫ সালের জুনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় কমেছে। এসব তথ্য ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন আইন প্রয়োগের পরিধি ও ধরনে বড় পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন