আমেরিকা

ইরান যুদ্ধের খরচ মেটাতে ৮৭.৬ বিলিয়ন ডলার চাইলেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনা ও সংশ্লিষ্ট জরুরি ব্যয় মেটাতে মার্কিন কংগ্রেসের কাছে ৮৭.৬ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬৬.৫ বিলিয়ন পাউন্ড) অতিরিক্ত তহবিল চেয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কংগ্রেসে তার সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনামূলক একটি প্রস্তাব পাস হওয়ার একদিন পরই হোয়াইট হাউস এই অর্থ বরাদ্দের অনুরোধ জানায়। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, চাওয়া অর্থের মধ্যে ৬৭ বিলিয়ন ডলার প্রতিরক্ষা বিভাগের জন্য বরাদ্দ করা হবে। এর মধ্যে ২১ বিলিয়ন ডলার গোলাবারুদ ক্রয়, ১৭.৩ বিলিয়ন ডলার সামরিক অভিযান পরিচালনা এবং ১২.১ বিলিয়ন ডলার গোপন কর্মসূচির জন্য ব্যয় করা হবে। এ ছাড়া অন্যান্য খাতে ১১ বিলিয়ন ডলার মার্কিন কৃষকদের সহায়তা এবং মধ্য আফ্রিকায় ইবোলা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। বুধবার প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে হোয়াইট হাউসের বাজেট দপ্তর জানায়, এই অর্থের বেশিরভাগই ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচিত ইরান-সংক্রান্ত সামরিক অভিযানের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করা হবে। প্রস্তাবে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের জন্য প্রায় ৩০ কোটি ডলারও চাওয়া হয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে এসব স্থাপনার কিছু অংশ হামলার মুখে পড়েছিল। বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও হোয়াইট হাউস বলছে, সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত অস্ত্র ও সরঞ্জামের মজুত পুনর্গঠনের জন্য পেন্টাগনের অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন। তবে এই অর্থ অনুমোদনের পথ সহজ নয়। ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তা কমে গেছে এবং আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় অনেক আইনপ্রণেতা নতুন যুদ্ধ ব্যয়ের বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এদিকে, ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের করা শান্তি পরিকল্পনা নিয়েও কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যদের একাংশ সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। বুধবার সিনেটে রিপাবলিকান সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প যুদ্ধসংক্রান্ত ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাবের সমালোচনা করেন। আগের দিন রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটে একটি প্রতীকী প্রস্তাব পাস হয়, যেখানে প্রেসিডেন্টকে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়। ট্রাম্প এই ভোটকে “ভুল সময়ে নেওয়া” এবং “অর্থহীন” বলে আখ্যা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়া চার রিপাবলিকান সিনেটরকে “পরাজিত” বলেও মন্তব্য করেন। লুইজিয়ানার রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি পরে সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে তার সঙ্গে ট্রাম্পের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। ক্যাসিডির ভাষায়, “আমি দাঁড়িয়ে বলেছি, ‘আপনি আমেরিকান জনগণকে প্রকৃত পরিস্থিতি জানাচ্ছেন না। এই অভিযান চার সপ্তাহ চলার কথা ছিল, কিন্তু চার মাস ধরে চলছে। আমাদের মূল লক্ষ্যগুলোও অর্জিত হয়নি।’” এর আগে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকেও ট্রাম্প যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাবের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “চারজন রিপাবলিকান এবং সব ডেমোক্র্যাট এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তারা যুদ্ধ হারতে চায়, কারণ তারা বোকা।” গত মাসে পেন্টাগনের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা জুলস হার্স্ট কংগ্রেসকে জানান, এখন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের খরচ প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও আইনপ্রণেতাদের মতে, প্রকৃত ব্যয় এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে এবং সরকারি হিসাব যুদ্ধের পূর্ণ আর্থিক ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে না।   এলএবাংলাটাইমস/ওএম