লস এঞ্জেলেস কাউন্টির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা হামে আক্রান্ত এক ব্যক্তিকে ঘিরে তদন্ত শুরু করেছেন। ওই ব্যক্তি সংক্রামক অবস্থায় হলিউড বারব্যাঙ্ক বিমানবন্দর এবং আরও অন্তত একটি স্থানে অবস্থান করেছিলেন বলে জানা গেছে। এটি ২০২৬ সালে লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে শনাক্ত হওয়া সপ্তম হাম রোগীর ঘটনা।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ জুন সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট থেকে ৯টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে হলিউড বারব্যাঙ্ক বিমানবন্দরের গেট এ–৪ এলাকায় অবস্থান করা ব্যক্তিরা ভাইরাসের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন। আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি বসা যাত্রীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগগুলো যোগাযোগ করবে।
এ ছাড়া বারব্যাঙ্কের থ্রিফটি রেন্টাল কার সার্ভিস কার্যালয়ে ১৭ জুন সকাল ৯টা ২০ মিনিট থেকে ১০টা ২০ মিনিট এবং ১৮ জুন সকাল ১০টা ২৫ মিনিট থেকে ১১টা ২৫ মিনিটের মধ্যে যারা উপস্থিত ছিলেন, তারাও সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকতে পারেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব স্থানে উপস্থিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসার ৭ থেকে ২১ দিনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
যারা আগে হামে আক্রান্ত হয়েছেন অথবা নির্ধারিত হাম প্রতিরোধী টিকা গ্রহণ করেছেন, তারা সাধারণত সুরক্ষিত থাকেন। তবে তাদেরও সতর্ক থেকে উপসর্গ পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে যাদের টিকা নেওয়া হয়নি বা টিকাদানের তথ্য জানা নেই, তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি এবং বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
১৭ জুন আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের জন্য উপসর্গ পর্যবেক্ষণের শেষ দিন ৮ জুলাই এবং ১৮ জুন সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের জন্য ৯ জুলাই। এ সময়ের মধ্যে কোনো উপসর্গ না দেখা দিলে তাদের আর ঝুঁকিতে থাকার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
বর্তমানে জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আক্রান্ত ব্যক্তির সম্ভাব্য আরও সংস্পর্শস্থল শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের ব্যস্ত মৌসুমে এই ঘটনা ঘটেছে, যখন বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে বহু পর্যটক লস এঞ্জেলেস এলাকায় ভ্রমণ করছেন। এর আগে গত সপ্তাহেও লস এঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (এলএএক্স), একটি হিলটন হোটেল এবং হোটেলের শাটল সেবায় সম্ভাব্য হাম সংক্রমণের বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তি শ্বাস নেওয়া, কথা বলা, কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে দেয়। আক্রান্ত ব্যক্তি স্থান ত্যাগ করার পরও ভাইরাস কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত বাতাস ও বিভিন্ন পৃষ্ঠে সক্রিয় থাকতে পারে। সাধারণত শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার চার দিন আগে থেকে এবং ফুসকুড়ি ওঠার চার দিন পর পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের মধ্যে রোগটি ছড়িয়ে দিতে পারেন।
হামের সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল ও পানিযুক্ত হয়ে যাওয়া এবং অসুস্থতার তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া। এই ফুসকুড়ি সাধারণত মুখমণ্ডল থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম