আমেরিকা

ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন বিল: ভালো ড্রাইভিংয়ের বিনিময়ে কমতে পারে গাড়ির বিমার প্রিমিয়াম

ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে এমন একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে, যা পাস হলে গাড়ির বিমা কোম্পানিগুলো গ্রাহকের ড্রাইভিং-সংক্রান্ত তথ্য পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। এর বিনিময়ে নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে গাড়ি চালানো চালকদের বিমার প্রিমিয়ামে ছাড় দেওয়ার সুযোগ থাকবে। বিলটির নাম এবি ৩১১ (AB 311)। এর প্রস্তাবক অ্যাসেম্বলিমেম্বার টিনা ম্যাককিনর বলেন, এই প্রযুক্তি চালকদের নিরাপদে গাড়ি চালাতে উৎসাহিত করবে এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সহায়ক হবে। এই ব্যবস্থায় টেলিম্যাটিকস (Telematics) প্রযুক্তির মাধ্যমে গাড়ির গতি, অবস্থান, ব্রেক করার ধরন, মোড় নেওয়ার পদ্ধতিসহ বিভিন্ন তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করা হবে। ম্যাককিনরের ভাষায়, “আমাদের মানুষকে ধীরে ও নিরাপদে গাড়ি চালাতে উৎসাহিত করতে হবে। এই বিলের মূল লক্ষ্যই হলো সড়ক নিরাপত্তা বাড়ানো।” বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৯৮৮ সালে ভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত প্রপোজিশন ১০৩ (Prop 103) অনুযায়ী, গাড়ির বিমার প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয় মূলত চালকের ড্রাইভিং রেকর্ড, বছরে কত মাইল গাড়ি চালানো হয় এবং চালকের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে। এই আইনের কারণে ক্যালিফোর্নিয়াই যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র অঙ্গরাজ্য, যেখানে বিমার প্রিমিয়াম নির্ধারণে টেলিম্যাটিকস ব্যবহার করা হয় না। ম্যাককিনরের দাবি, বর্তমান আইনটি সময়ের সঙ্গে আর কার্যকর নেই। তাঁর মতে, নতুন বিল কার্যকর হলে ভালো চালকেরা শুধু বসবাসের এলাকার কারণে বেশি প্রিমিয়াম দিতে বাধ্য হবেন না। তিনি বলেন, “দুইজন মানুষ যদি একইভাবে নিরাপদে গাড়ি চালান, তাহলে তাদের প্রিমিয়ামও একই হওয়া উচিত। শুধু জিপ কোডের কারণে একজনের বেশি টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।” তবে বিলটির বিরোধিতা করেছে ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব ইন্স্যুরেন্স এবং ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো। তাদের আশঙ্কা, এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হতে পারে। ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজিউমার ওয়াচডগের সভাপতি জেমি কোর্ট বলেন, “বিমা কোম্পানির অ্যালগরিদম কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, তা আমরা দেখতে পারি না। ফলে কোন তথ্যকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা জানা সম্ভব হয় না। এটি বড় ধরনের স্বচ্ছতার সংকট তৈরি করে।” এদিকে, মেরিল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, টেলিম্যাটিকসভিত্তিক বিমা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া চালকদের মধ্যে ৩১ শতাংশের প্রিমিয়াম কমেছে, ২৪ শতাংশের প্রিমিয়াম বেড়েছে এবং ৪৫ শতাংশের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন হয়নি। অর্থাৎ, এই কর্মসূচিতে অংশ নিলেই প্রিমিয়াম কমবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। জেমি কোর্টের মতে, এই প্রযুক্তি মানুষের ব্যক্তিগত চলাচল ও অভ্যাস সম্পর্কে অনেক বেশি তথ্য সংগ্রহ করে, যা “গাড়ির ভেতরে যেন সবসময় কেউ নজরদারি করছে”—এমন অনুভূতি তৈরি করতে পারে। তবে টিনা ম্যাককিনর স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী হবে। কেউ চাইলে এতে অংশ নেবেন, না চাইলে আগের নিয়মেই বিমা করতে পারবেন। বিলটি ইতোমধ্যে ক্যালিফোর্নিয়া আইনসভার ইন্স্যুরেন্স কমিটির অনুমোদন পেয়েছে। আগামী আগস্টে এটি পূর্ণাঙ্গ সিনেটে আলোচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম