নিউইয়র্ক শহরের ব্রঙ্কসে পাঁচতলার অ্যাপার্টমেন্টের জানালা থেকে পড়ে দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃ ত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতের এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। শিশুটির নাম জুলিয়া। তার বাবা-মা জানিয়েছেন, মেয়েকে হারানোর শোক তাঁরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না।
জুলিয়ার বাবা চায়ান পোলানকো জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়ির পথে ছিলেন। তখন মেয়ের দুর্ঘটনার খবর জানিয়ে ফোন আসে। প্রথমে তিনি খবরটি বিশ্বাস করতে পারেননি। তাঁর মনে হয়েছিল, কেউ হয়তো মজা করছে কিংবা ভুল তথ্য দিচ্ছে। কিন্তু ফোনে বারবার তাঁকে হারলেম হাসপাতালে যেতে বলা হয়।
পোলানকো বলেন, “আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। ভেবেছিলাম এটা হয়তো মিথ্যা খবর। মনে হয়েছিল, অন্য কারও সঙ্গে এমন কিছু ঘটেছে। কিন্তু তারা বারবার আমাকে হারলেম হাসপাতালে যেতে বলছিল।”
জুলিয়ার মা থেসা উইলকক্স জানান, গর্ভপাতের পর সন্তান নেওয়ার জন্য তাঁরা একাধিকবার চেষ্টা করেছিলেন। অনেক প্রতীক্ষার পর জুলিয়ার জন্ম তাঁদের জীবনে আনন্দ ফিরিয়ে এনেছিল। এখন মেয়েকে হারিয়ে তাঁরা গভীর শোকে ভেঙে পড়েছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে উইলকক্স বলেন, “আমি এতটাই ভেঙে পড়েছি যে বিছানা ছেড়ে উঠতেও পারছি না। কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছে না, এটা সত্যি। আমার মেয়ে আর নেই—এটা মেনে নিতে পারছি না।”
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত প্রায় ১০টা ৩৭ মিনিটে দুর্ঘটনাটি ঘটে। উইলকক্স বলেন, অল্প সময়ের জন্য তিনি ঘর থেকে বের হয়েছিলেন। এ সময় বেবি মনিটরে তাকিয়ে দেখেন, জুলিয়া সেখানে নেই। দ্রুত ঘরে ফিরে মেয়েকে না পেয়ে বাইরে খোঁজ করতে গিয়ে বুঝতে পারেন, সে জানালা দিয়ে নিচে পড়ে গেছে।
পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, জানালা ও এয়ার কন্ডিশনারের মাঝখানে থাকা অ্যাকর্ডিয়ন ধরনের ভাঁজ করা বিভাজক সরিয়ে শিশুটি বাইরে পড়ে যায়। উইলকক্স জানান, দুর্ঘটনার পর তিনি দ্রুত নিচে ছুটে যান। গলির মধ্যে পড়ে থাকা মেয়ের কাছে পৌঁছাতে একটি বেড়া টপকানোরও চেষ্টা করেন।
ভবনটির সুপারিনটেনডেন্ট হোসে সোসা জানান, তিনি শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল হননি। তিনি বলেন, “আমি কিছু একটা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি। ভেবেছিলাম হয়তো তার মধ্যে প্রাণের কোনো লক্ষণ খুঁজে পাব। কিন্তু তার মধ্যে আর প্রাণ ছিল না।”
জুলিয়ার বাবা-মা মেয়েকে প্রাণবন্ত ও চঞ্চল শিশু হিসেবে স্মরণ করেছেন। সম্প্রতি প্রথমবারের মতো তাকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে অংশ নিয়েছিলেন তাঁরা। সেদিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্যান্ডি সংগ্রহের আনন্দ উপভোগ করেছিল জুলিয়া।
উইলকক্স বলেন, “সবাই ক্যান্ডি দিচ্ছিল, সবাই খুব আনন্দ করছিল। সে যে সেই আনন্দটা দেখতে পেরেছিল, তাতেই আমি খুশি। সে সেখানে থাকতে পেরেছিল, এটা ভেবে ভালো লাগে।”
কিন্তু সেই আনন্দঘন মুহূর্তই যে তাঁদের একসঙ্গে কাটানো প্রথম ও শেষ হ্যালোইন হয়ে থাকবে, তা কখনো কল্পনা করেননি জুলিয়ার বাবা-মা।
শিশুটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবারটি। তাঁদের দাবি, অ্যাপার্টমেন্টের কয়েকটি জানালায় শিশুদের নিরাপত্তার জন্য গার্ড বা সুরক্ষা-ব্যবস্থা থাকলেও জুলিয়া যে জানালা দিয়ে পড়ে যায়, সেটিতে তা ছিল না।
মেয়েকে হারানোর পর অন্য অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন উইলকক্স। তিনি বলেন, “দয়া করে সন্তানদের দিকে খেয়াল রাখুন এবং শিশুদের দেখাশোনার ব্যবস্থা আরও নিরাপদ করার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ান। সন্তানদের কাছে রাখুন, তাদের জড়িয়ে ধরুন। কারণ একদিন তারা আর আপনার কাছে নাও থাকতে পারে।”
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা সন্দেহ করা হচ্ছে না। তবে শিশুটি কীভাবে জানালা দিয়ে বাইরে পড়ে গেল, তা নিয়ে তদন্তের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।