যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লস এঞ্জেলেসের নতুন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন নিথিয়া রামন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিদায়ী মেয়র কারেন বাস পরাজয় স্বীকার করে তাঁকে অভিনন্দন জানান। এর মধ্য দিয়ে শহরটির ইতিহাসে প্রথম এশীয়-আমেরিকান মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন রামন। তবে নগর রাজনীতিতে তাঁর পথচলা খুব বেশি দিনের নয়। মাত্র ছয় বছর আগে স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাঁর নির্বাচনী যাত্রা শুরু হয়েছিল।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই রাজনীতিকের ব্যক্তিগত জীবন, শিক্ষা, পরিবার এবং রাজনীতিতে আসার গল্পের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হলো।
1. ভারতের কেরালায় জন্ম, শৈশব যুক্তরাষ্ট্রে
নিথিয়া রামনের জন্ম ভারতের কেরালা রাজ্যে। তাঁর বয়স যখন ছয় বছর, তখন পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান তিনি। শৈশবের একটি বড় অংশ কাটে লুইজিয়ানায়। পরে ২০১৩ সালে লস এঞ্জেলেসে আসেন। সেখানে নগর প্রশাসনের কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি। বর্তমানে স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে শহরের সিলভার লেক এলাকায় বসবাস করছেন।
2. ২২ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব
রামন ২২ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান। বোস্টনে নাগরিকত্ব গ্রহণের শপথ নেন তিনি। অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা এবং নাগরিকত্ব অর্জনের অভিজ্ঞতা তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে অভিবাসী ও বিভিন্ন কমিউনিটির বিষয়েও কাজ করেছেন তিনি।
3. হার্ভার্ড ও এমআইটিতে পড়াশোনা
শিক্ষাজীবনে রামন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। তাঁর পড়াশোনার বিষয় ছিল নগর পরিকল্পনা। শহরের আবাসন, অবকাঠামো ও নগর উন্নয়ন নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে এই শিক্ষাগত অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ভূমিকা রেখেছে।
4. স্বামী টেলিভিশন লেখক ও প্রযোজক, যমজ সন্তান রয়েছে
রামনের স্বামী ভালি চন্দ্রশেখরন টেলিভিশন লেখক ও প্রযোজক। ‘মডার্ন ফ্যামিলি’ এবং ‘থার্টি রক’-এর মতো জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠানে কাজের জন্য তিনি পরিচিত। তাঁদের সংসারে ১০ বছর বয়সী যমজ সন্তান রয়েছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ১৯৯৯ সালে তাঁদের পরিচয় হয় বলে লস এঞ্জেলেস টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
5. মেয়র হওয়ার আগে গৃহহীনদের সহায়তায় কাজ
রাজনীতিতে আসার আগে থেকেই গৃহহীন মানুষের সহায়তায় কাজ করেছেন রামন। ২০১৭ সালে তিনি ‘সেলাহ নেবারহুড হোমলেস কোয়ালিশন’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠায় যুক্ত হন। সংগঠনটির মূল কাজ ছিল গৃহহীন মানুষের কাছে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং তাঁদের অধিকার নিয়ে কাজ করা।
২০২০ সালে স্থানীয় পর্যায়ের তৃণমূল আন্দোলনের মাধ্যমে লস এঞ্জেলেস সিটি কাউন্সিলের নির্বাচনে অংশ নেন রামন। ওই নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কাউন্সিল সদস্য ডেভিড রিউকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো কাউন্সিল সদস্য নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদেও নির্বাচিত হন তিনি।
মেয়র নির্বাচনে তাঁর প্রচারের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল আবাসন সংকট ও গৃহহীন মানুষের সমস্যা সমাধান। শহরে আবাসন নির্মাণ বাড়ানো, গণপরিবহন উন্নত করা এবং নগর অবকাঠামো সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ২০২৮ সালের অলিম্পিকের আগে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্যও ঘোষণা করেছেন।
এবারের নির্বাচনে কারেন বাসকে পরাজিত করে লস এঞ্জেলেসের নেতৃত্বে আসছেন রামন। তাঁর সামনে এখন আবাসন ব্যয়, গৃহহীন সংকট, জননিরাপত্তা এবং নগর পরিষেবার মতো বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে নতুন প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই এখন নজরে থাকবে শহরটির বাসিন্দাদের।