বাংলাদেশ

দেশের বিভিন্নস্থানে আজও বজ্রপাতে ১৪ জন নিহত

দেশের বিভিন্নস্থানে বজ্রপাতে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। সোমবার (৩০এপ্রিল) সকাল থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জে ৪ জন, মৌলভীবাজার, জামালপুর, রাজশাহীতে দুইজন করে এবং সুনামগঞ্জ, রাজবাড়ী, বানিয়াচং, ঈশ্বরদী একজন করে মারা গেছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ে পৃথক দু্টি স্থানে ব্রজপাতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও একজন। সোমবার দুপুরে রূপগঞ্জ উপজেলায় তিনজন ও সোনারগাঁ উপজেলায় একজনের মৃত্যু হয়। নিহত চারজনের মধ্যে তিনজন কৃষক। রূপগঞ্জ থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির জানান, সোমবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে উপজেলার ভোলাব ইউনিয়নের টাওড়া গ্রামের নূরুল হকের ছেলে কৃষক রফিকুল ইসলাম (৩৪) ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মারা যান। তার সঙ্গে থাকা কামাল মোল্লার ছেলে হাশেম মোল্লা (৪০) গুরুতর আহত হন। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক রফিকুন নাহার বলেন, বজ্রপাতে আহত হাশেম মোল্লাকে গুরুতর অবস্থায় এলাকাবাসী নিয়ে এলে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
এছাড়া একই সময় উপজেলার তারাব পৌরসভার তেতলাব গ্রামের কিশোর ফরহাদ (১৫) বিলে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে মারা যায়। তিনি মাদাপীরপুর জেলার শিবচর এলাকার জলিল শেখের ছেলে। ফরহাদ স্থানীয় তেতলাব আদর্শ বিদ্যানিকেতনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সোনারগাঁও থানার ওসি মোরশেদ আলম জানান, অন্যদিকে দুপুরে সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মুছারচর এলাকায় ধান কাটার সময় ব্রজপাতে ওবায়দুল ইসলাম (৩২) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়। আহত হন সাদেক (৫৫) নামের অপর এক কৃষক। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নিহত ওবায়দুল ইসলাম ওই এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে দুইজন মারা গেছেন। নিহত ২ জনের মধ্যে একজন ওমানে চাকরি করতেন। সম্প্রতি তিনি ছুটিতে দেশে আসেন। এছাড়া এ জেলায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আব্দুস সোবহান জানান, সোমবার বেলা ১২টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার লাখাইছড়া চা-বাগানে পাশে আনারস বাগানে কাজ করার সময় বজ্রপাত হয়। এতে আহত হন কিশোর গোয়ালা (২০), দিপেন সবর (২৫), রাখাল সবর (২৭) রিপন ভুঁইয়া (১৮) ও অজয় গোয়ালা (২২)। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রিপন ও অজয় গোয়ালাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানোর সময় রাস্তায় অজয় মারা যান বলে চিকিৎসক আব্দুস সুবহান জানান।
এছাড়া কমলগঞ্জের আদমপুর ইউনিয়নের উত্তরভাগ গ্রামের হাজী আব্দুল মতলিবের ছেলে তমিজ উদ্দীন (২৫) বজ্রপাতে মারা গেছেন। আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবদাল হোসেন বলেন, তমিজ মধ্যপ্রাচ্যের ওমানে চাকরি করতেন। কিছুদিন আগে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। “সোমবার বেলা ১২টার দিকে মাঠ থেকে গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। একই সঙ্গে তার চাটি গরুও মারা যায়।”

জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের মারা গেছেন ২ জন। নিহতরা হলেন - ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলি ইউনিয়নের দক্ষিণ চিনাডুলি গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের ছেলে বকুল মিয়া (২২) ও সরিষাবাড়ি উপজেলার শিবপুর গ্রামের আলেপ উদ্দিন মণ্ডলের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩৬)। সরিষাবাড়ির মহাদান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান জুয়েল বলেন, “গ্রামের একটি জমিতে ধান কাটছিলেন হাবিবুর। হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।” আর উলিয়া পাইলিং ঘাটে ঘাস কাটার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই বকুলের মৃত্যু হয় বলে ইসলামপুরের নোয়ারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বাদল জানান।

রাজশাহীতে প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়া ও গোদাগাড়ীতে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকালে ঝড়ের বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু হয়। এরা হলেন- পুঠিয়া উপজেলার নওদাপাড়ার হারেজ সাতারুর ছেলে ইয়াকুব আলী (৪৫) ও গোদাগাড়ী উপজেলার আইনাপুকুর গ্রামের বাবলু মিয়া (৪৫)। পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বরেন, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ইয়াকুব বেগুন ক্ষেতে কীটনাশক দিচ্ছিলেন। এসময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার আলী জুম্মাসহ নিহতের বাড়িতে গিয়ে ২০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছেন বলে জানান তিনি। গোদাগাড়ী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক আলতাফ হোসেন বলেন, বাবুল মিয়া সকালে বাড়ির পাশে ধান ক্ষেতে কাজ করছিল। এসময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিমুল আক্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা অনুদান দেন বলে জানান তিনি।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জামখোলা হাওরে এক ধান কাটা শ্রমিকের মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন দ‌ক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ওসি ইখ‌তিয়ার উদ্দিন চৌধুরী। নিহত ইয়াহিয়া আহমদ (৪২) সি‌লে‌টের কানাইঘাট উপজেলার রায়পুর গ্রামের ইলিয়াছ আলীর ছেলে। কিছুদিন আগে ধান কাটার কাজে কানাইঘাট থে‌কে দ‌ক্ষিণ সুনামগঞ্জ আসেন তিনি। ওসি ইখ‌তিয়ার বলেন, “সকালে ইয়াহিয়াসহ কয়েকজন শ্রমিক স্থানীয় জামখোলা হাওরে ধান কাটছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থ‌লেই ইয়া‌হিয়ার মৃত্যু হয়।”

রাজবাড়ী প্রতিনিধি: বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের ঝাউগ্রামে মতিন শেখ নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয় বলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন আলী জানান। আবুল হোসেন বলেন, “সকালে ক্ষেতে কাজ করছিলেন মতিন। এসময় হঠাৎ বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন তিনি। এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মতিন ওই গ্রামের মতু শেখের ছেলে।

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার তেলকুমার হাওরে বজ্রপাতে শামসুল হক (৩৮) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে বলে বানিয়াচং থানার ওসি মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় বজ্রপাতের এ ঘটনা ঘটে। নিহত শামসুল হক বানিয়াচং উপজেলার জাদুকর্ণপাড়ার গাজী রহমানের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, কদিনের বৃষ্টিতে হাওরের পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে বৃষ্টির মাঝেই কৃষক শামছুল হক ধান কাটতে যায়। বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনায় ঘণ্টাব্যাপী কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আম, লিচু ও বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। সোমবার সকাল ৯টার দিকে আকাশ কালো মেঘে অন্ধকার হয়ে আসে। শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টি। পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শহিদুল ইসলাম শহীদ জানান, ঝড়ের সময় ঈশ্বরদী উপজেলার পল্টন ঘাটে বজ্রপাত হলে একজন মারা যান। তবে তিনি নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানাতে পারেননি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিভূতি ভূষণ সরকার বলেন, ঝড়ে চাটমোহর, ফরিদপুর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলায় পাকা ও আধাপাকা ধান পড়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে যাওয়া ও বোরো ধান নষ্ট হবার খবর পেয়েছি। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের চেষ্টা চলছে।


এলএবাংলাটাইমস/এন/এলআরটি