আন্তর্জাতিক

সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয় কুকুর চুরি, ২৭ ডলারে বিক্রির পর খেয়ে ফেলার অভিযোগ

চীনে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয় একটি কুকুর চুরি হওয়ার পর মাত্র ২৭ ডলারে বিক্রি করে খেয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুকুরটির নাম ছিল চুটৌ। আট বছর বয়সী এই বর্ডার কোলি জাতের কুকুরটি তার মালিক গুও-র সঙ্গে চীনের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণের কারণে বেশ পরিচিত হয়ে ওঠে। চীনের জনপ্রিয় ভিডিও প্ল্যাটফর্ম দৌইন-এ (টিকটকের চীনা সংস্করণ) তার অনুসারীর সংখ্যা ছিল ১০ লাখেরও বেশি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে গুও একা জর্জিয়া সফরে গেলে চুটৌকে মধ্য চীনের হেনান প্রদেশে বাবার কাছে রেখে যান। ১১ মে গুওর বাবা পারিবারিক খামারে কাজ করতে যাওয়ার সময় চুটৌকে সঙ্গে নিয়ে যান। সেখান থেকেই কুকুরটি নিখোঁজ হয়। খবর পেয়ে গুও দ্রুত সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে আসেন এবং চুটৌকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি একটি বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলে করে কুকুরটিকে নিয়ে যাচ্ছেন। গুও পরে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির সন্ধান পান এবং চুটৌকে ফেরত দেওয়ার জন্য ১০ হাজার ইউয়ান (প্রায় ১,৫০০ মার্কিন ডলার) পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাব দেন। সন্দেহভাজন ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি চুটৌকে পথকুকুর ভেবে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং ডাকলে কুকুরটি তার সঙ্গে চলে আসে। তবে গুও এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেন। তার দাবি, চুটৌর গলায় কলার ও ট্র্যাকার ছিল এবং সে পারিবারিক জমিতে বিশ্রাম নিচ্ছিল। পরে গুও জানতে পারেন, চুটৌকে মাত্র ১৮০ ইউয়ান (প্রায় ২৭ মার্কিন ডলার) দামে একটি কুকুরের মাংস বিক্রি করা রেস্তোরাঁয় বিক্রি করা হয়েছিল এবং সেখানে কুকুরটিকে জবাই করে খেয়ে ফেলা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার পরিবার এ ঘটনায় কোনো দুঃখপ্রকাশ করেনি। বরং তারা নাকি বলেছে, “কুকুরটি মারা গেছে, তাই বিষয়টি নিয়ে আর হইচই করার দরকার নেই। আমি কোনো আইন ভঙ্গ করিনি।” গুও পরে ওই রেস্তোরাঁর এক কর্মীর মুখোমুখি হলে তাকে জানানো হয়, চুটৌর দেহাবশেষ অনেক আগেই ফেলে দেওয়া হয়েছে। এদিকে গুও জানিয়েছেন, তিনি কোনো ধরনের সমঝোতা বা ব্যক্তিগত নিষ্পত্তি মেনে নেবেন না। তিনি আইনগতভাবে বিষয়টির বিচার চাইছেন এবং এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছেন। চীনে কুকুরের মাংস খাওয়ার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে ছয় বছর আগে দেশটির সরকারি গবাদিপশুর তালিকা থেকে কুকুরকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে চীনের শেনজেন ও ঝুহাই শহরে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ। তবে দেশটির কিছু অঞ্চলে এখনো এই প্রাণীগুলোকে ঐতিহ্যবাহী খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   এলএবাংলাটাইমস/ওএম