লস এঞ্জেলেস

হামে আক্রান্ত যাত্রীর ভ্রমণে ক্যালিফোর্নিয়ায় সতর্কতা, ঝুঁকিতে লস এঞ্জেলেসসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ

হামে আক্রান্ত এক যাত্রীর কারণে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন এলাকায় রোগটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। টিকাবিহীন ওই যাত্রী আমট্রাক ট্রেন ও বাসে করে অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন শহরে ভ্রমণ করেছেন। তার যাত্রাপথের মধ্যে লস এঞ্জেলেসও ছিল। এ ঘটনায় সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের সতর্ক করেছে ক্যালিফোর্নিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ জানিয়েছে, ওই যাত্রী শিকাগো থেকে আমট্রাক ট্রেনে করে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রবেশ করেন এবং ১২ সেপ্টেম্বর লস এঞ্জেলেসের ইউনিয়ন স্টেশনে পৌঁছান। ১০ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তিনি ট্রেন ও আমট্রাকের থ্রুওয়ে বাস ব্যবহার করে লস এঞ্জেলেস, কার্ন, সান জোয়াকিন, বাট, স্যাক্রামেন্টো ও আলামেডাসহ অন্তত ছয়টি কাউন্টিতে যাতায়াত করেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, ওই সময় নির্দিষ্ট ট্রেন বা বাসে থাকা কিংবা সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলোতে উপস্থিত থাকা ব্যক্তিরা হামের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন। সম্ভাব্য আক্রান্তদের শনাক্ত ও সতর্ক করতে ক্যালিফোর্নিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগ সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগগুলোর সঙ্গে কাজ করছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১০ সেপ্টেম্বর শিকাগো থেকে ছেড়ে আসা আমট্রাক ট্রেন ৩-এ করে ওই যাত্রী ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা ১২ মিনিটে লস এঞ্জেলেস ইউনিয়ন স্টেশনে পৌঁছান। এরপর বাস ও ট্রেনে করে তিনি বেকার্সফিল্ড, স্টকটন, অরোভিল, স্যাক্রামেন্টো ও এমেরিভিল ঘুরে যান। ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে এমেরিভিল থেকে ডেনভারের উদ্দেশে ট্রেন ৬-এ যাত্রা করেন। কর্মকর্তারা সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের নিজেদের টিকাদানের তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন। এমএমআর টিকার দুই ডোজকে পূর্ণ টিকাদান হিসেবে ধরা হয় এবং এটি হামের বিরুদ্ধে প্রায় ৯৭ শতাংশ সুরক্ষা দিতে পারে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। গত সাত দিনের মধ্যে সংস্পর্শে আসা এবং টিকা না নেওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। কিছু উচ্চঝুঁকির মানুষের ক্ষেত্রে টিকা অথবা ইমিউন গ্লোবিউলিন দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে ১২ মাসের কম বয়সী শিশু, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা নেই এমন গর্ভবতী ব্যক্তি এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধক্ষমতার মানুষ রয়েছেন। যাদের সংস্পর্শে আসার সময় সাত থেকে ২১ দিন আগে, তাদের ২১ দিন পর্যন্ত বাড়িতে থাকা এবং অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা সবাইকে এরপর সাত থেকে ২১ দিনের মধ্যে জ্বর বা অকারণে শরীরে র‍্যাশ দেখা দেয় কি না, তা লক্ষ্য রাখতে বলা হয়েছে। হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো স্থান ছেড়ে যাওয়ার পরও ভাইরাসটি বাতাসে প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, টিকা না নেওয়া প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে হামে আক্রান্ত হতে পারেন। হামে আক্রান্ত ব্যক্তি সাধারণত শরীরে র‍্যাশ দেখা দেওয়ার প্রায় চার দিন আগে থেকে ভাইরাস ছড়াতে পারেন এবং র‍্যাশ দেখা দেওয়ার পর আরও প্রায় চার দিন সংক্রামক থাকেন। ক্যালিফোর্নিয়া স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যে ১৩টি কাউন্টিতে মোট ৫৯টি নিশ্চিত হাম আক্রান্তের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা কারও টিকাদানের তথ্য নিশ্চিত না থাকলে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দারা চাইলে তাদের ডিজিটাল ভ্যাকসিন রেকর্ডও যাচাই করতে পারেন।