বাজেট সংকট মোকাবিলায় কর্মী সংখ্যা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে লস এঞ্জেলেস কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্ট। এর অংশ হিসেবে আদালতের পূর্ণকালীন কর্মীদের স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার বিনিময়ে ৩৫ হাজার ডলার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় কমানো এবং আদালতের বাজেটে সাশ্রয় আনতেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
‘ভলান্টারি সেপারেশন ইনসেনটিভ প্রোগ্রাম’ বা ভিএসআইপি কর্মসূচির আওতায় অন্তত পাঁচ বছর টানা চাকরি করা পূর্ণকালীন কর্মীরা এই সুবিধা নিতে পারবেন। যারা প্রস্তাব গ্রহণ করে চাকরি ছাড়বেন, তাদের শূন্য পদগুলো আর পূরণ করা হবে না। আদালতের মতে, এতে সাময়িক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে বাজেট ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।
তবে কর্মী কমানোর কারণে আদালতের সেবায় এর প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। সেবা নিতে আসা মানুষকে বিভিন্ন কাউন্টারে অপেক্ষার সময় বাড়া, কল সেন্টারে সাড়া পেতে দেরি এবং আইনি নথি প্রক্রিয়াকরণে বিলম্বের মতো সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে।
লস এঞ্জেলেস কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের প্রেসাইডিং জাজ সার্জিও সি. তাপিয়া দ্বিতীয় বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষ যেমন গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামের চাপে রয়েছেন, আদালতও একই ধরনের আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছে। আদালতের পরিচালন ব্যয় বাজেটের তুলনায় দ্রুত বাড়ছে বলে জানান তিনি।
আদালত জানিয়েছে, এরই মধ্যে কিছু বিশেষ প্রকল্প স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে। মূল দায়িত্বের বাইরে থাকা বিভিন্ন কর্মসূচিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ছাঁটাই বা কর্মীদের সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সম্ভাব্য অন্যান্য ব্যয় কমানোর পথ খুঁজে দেখার কথাও জানিয়েছে আদালত।
চলতি রাজ্য বাজেটে মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় আদালত কিছু অতিরিক্ত অর্থ পেলেও তা প্রকৃত ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের খরচ, কাউন্টির দেওয়া বিভিন্ন সেবা, পরিচ্ছন্নতা ও পরিচালন ব্যয় এবং কর্মীদের চুক্তিভিত্তিক বেতন বৃদ্ধির কারণে অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ ডলার হবে বলে আদালত জানিয়েছে।
আদালতের হিসাব অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে রাজ্যের দেওয়া মূল্যস্ফীতিভিত্তিক অর্থায়ন প্রয়োজনের তুলনায় মোট ১৩ দশমিক ১ শতাংশ কম হয়েছে। এর আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। পাশাপাশি বছরে প্রায় ১৩ লাখ মামলা ও অন্যান্য নথি গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণের প্রয়োজনের তুলনায় আদালত ২৩ কোটি ৩৭ লাখ ডলার কম অর্থ পাচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
বর্তমান রাজ্য বাজেটে আদালত তার হিসাব করা প্রয়োজনীয় অর্থের মাত্র ৭৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ পাচ্ছে। আদালতের দাবি, ২০২১ সালের পর এটি প্রয়োজনীয় অর্থায়নের সবচেয়ে কম হার এবং অন্তত ২০১৩ সালের পর সবচেয়ে বড় ঘাটতি।
আদালতের এক্সিকিউটিভ অফিসার ও ক্লার্ক অব কোর্ট ডেভিড ডব্লিউ. স্লেটন বলেন, দক্ষ ও নিবেদিত কর্মীদের হারানো সহজ সিদ্ধান্ত নয়। তবে প্রয়োজনীয় অর্থের ঘাটতি অব্যাহত থাকায় গুরুত্বপূর্ণ আদালত সেবা চালু রাখতে এবং আগামী অর্থবছরে কর্মীদের ওপর চাপ কমাতে পর্যাপ্তসংখ্যক কর্মী স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়বেন বলে তারা আশা করছেন।
এর আগে ২০২৪ সালেও বাজেট কমানোর জন্য একই ধরনের ভিএসআইপি কর্মসূচি চালু করেছিল লস এঞ্জেলেস কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্ট। সে সময় এই কর্মসূচির মাধ্যমে বছরে প্রায় ৪০ লাখ ডলার স্থায়ী ব্যয় কমানো সম্ভব হয়েছিল বলে আদালত জানিয়েছে।