লস এঞ্জেলেসে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর উদ্বোধনের পথে লুকাস মিউজিয়াম অব ন্যারেটিভ আর্ট। জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার তিন দিন আগে শনিবার রাতে জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন জর্জ লুকাস ও মেলোডি হবসন। এতে হলিউডের তারকা, শিল্পী, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বিভিন্ন খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
এক্সপোজিশন পার্কে নির্মিত পাঁচতলা এই জাদুঘরটির আয়তন প্রায় ৩ লাখ বর্গফুট। ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং বা দৃশ্যভিত্তিক গল্প বলার বিভিন্ন মাধ্যমকে এক ছাদের নিচে তুলে ধরাই এর মূল লক্ষ্য। এখানে চিত্রকর্ম, ইলাস্ট্রেশন, আলোকচিত্র, কমিকস, দেয়ালচিত্র ও চলচ্চিত্রসহ বিভিন্ন সময় ও সংস্কৃতির শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে।
জাদুঘরটিতে রয়েছে ৩০টির বেশি গ্যালারি এবং ১ লাখ বর্গফুটের বেশি প্রদর্শনী জায়গা। উদ্বোধনী প্রদর্শনীগুলোতে লুকাস পরিবারের সংগ্রহ থেকে ১ হাজার ৩০০টির বেশি শিল্পকর্ম রাখা হয়েছে। পুরো প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।
মেলোডি হবসন জানান, প্রচলিত জাদুঘর তৈরির নিয়ম অনুসরণ না করেই তারা নিজেদের ধারণা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন। তার ভাষায়, জর্জ লুকাস একসময় একটি সাদা কাগজ নিয়ে সেখানে তিনি জাদুঘরটিকে কেমন দেখতে চান, সেই ধারণা তুলে ধরেন। সেই ভাবনা থেকেই ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছে বর্তমানের এই বিশাল প্রতিষ্ঠান।
লুকাস মিউজিয়ামে ‘স্টার ওয়ার্স’-এর বিভিন্ন স্মারকের পাশাপাশি কমিকস, চিত্রকর্ম, ভাস্কর্যসহ নানা ধরনের ভিজ্যুয়াল আর্ট স্থান পেয়েছে। প্রদর্শিত শিল্পীদের তালিকায় রয়েছেন ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ, ফ্রিদা কাহলো, নরম্যান রকওয়েল, এন.সি. ওয়াইথ, ফ্র্যাঙ্ক ফ্রাজেটা, দিয়েগো রিভেরা, গর্ডন পার্কস, চার্লস শুলজ, রবার্ট ক্রাম্ব ও জুডিথ এফ. বাকাসহ আরও অনেকে।
জাদুঘরের সিনেমা সংগ্রহে ১৯৭১ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত জর্জ লুকাসের সম্পূর্ণ আর্কাইভও রয়েছে। উদ্বোধনী প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ ‘স্টার ওয়ার্স ইন মোশন’। এতে প্রথম ছয়টি ‘স্টার ওয়ার্স’ সিনেমার যানবাহনের নকশা, প্রপস ও পোশাক প্রদর্শন করা হচ্ছে। এর মধ্যে লুক স্কাইওয়াকারের ল্যান্ডস্পিডার এবং জেনারেল গ্রিভাসের হুইল বাইকের প্রথম বাস্তব নির্মাণও রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অপরাহ উইনফ্রে বলেন, জর্জ লুকাস ও মেলোডি হবসনের প্রতি মানুষের যে সম্মান রয়েছে, সেটিই তাদের এখানে টেনে এনেছে। একই সঙ্গে নতুন জাদুঘরের ভেতরে কী রয়েছে, সেটিও দেখার আগ্রহ তৈরি করেছে বলে জানান তিনি।
অভিনেতা মার্ক হ্যামিলের মতে, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া ও লস এঞ্জেলেসে পর্যটকদের আকর্ষণের তালিকায় নতুন করে জায়গা করে নেবে এই জাদুঘর। লস এঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাসও বলেন, গল্প বলাই এই জাদুঘরের মূল বিষয় এবং গল্প বলার জন্য লস এঞ্জেলেস বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর।
শনিবারের তারকাখচিত আয়োজনের পর মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে লুকাস মিউজিয়াম অব ন্যারেটিভ আর্ট।