লস এঞ্জেলেস

লস এঞ্জেলেসের স্কিড রো এলাকায় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান জোরদার

লস এঞ্জেলেসের স্কিড রো এলাকায় মাদক কারবারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বৃহস্পতিবারের এই অভিযানে অন্তত ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদক পাচার ও বিতরণের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের লক্ষ্য করে পরিচালিত এ অভিযানে ৩০০ জনের বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এলাকায় অবৈধ মাদক কারবার বন্ধে এটি একটি বড় যৌথ উদ্যোগ। অভিযানটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন সেভ স্কিড রো’। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কৌঁসুলিদের তথ্য অনুযায়ী, মাদক পাচারসংক্রান্ত মামলায় ২৮টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং ৪৪টি তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসব মামলায় ফেন্টানিল, পিসিপি ও অন্যান্য মাদকদ্রব্যের অবৈধ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। অভিযানে লস এঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ এবং কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো একসঙ্গে কাজ করেছে। লস এঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগের প্রধান জিম ম্যাকডোনেল বলেন, ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চালানো যৌথ তদন্তের পর এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অবৈধ মাদক বিতরণের সঙ্গে জড়িত মধ্যপর্যায়ের সরবরাহকারীরাও রয়েছেন। অভিযানে মেথামফেটামিন ও ফেন্টানিলের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র, নগদ অর্থ এবং যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। তবে জব্দ করা মাদকের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি। কর্তৃপক্ষের দাবি, সন্দেহভাজনদের কয়েকজন বিভিন্ন সড়কভিত্তিক অপরাধী দলের সঙ্গে যুক্ত। অভিযানের সময় আরও সাতজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছিল বলে পুলিশ প্রধান জানান। তাঁদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অভিযোগ আনার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। তবে অভিযোগের মুখোমুখি হওয়া মানেই আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয়। লস এঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাস বলেন, অভিযানে যাঁদের আটক করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক কমিউনিটিতে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এবং তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। তাঁর মতে, এসব মাদক আশপাশের মানুষ এবং জনসাধারণের ব্যবহার করা স্থানগুলোর নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। পুলিশ প্রধান ম্যাকডোনেল অভিযান সম্পর্কে কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, লস এঞ্জেলেস আর মাদক কারবারের জন্য উন্মুক্ত নয় এবং পরবর্তী সময়েও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর এই বক্তব্য থেকেই ‘আর ব্যবসা চলবে না’ কথাটি এসেছে। অভিযানের সময় স্কিড রোর কয়েকটি সড়ক পুলিশি ফিতা দিয়ে ঘিরে রাখা হয়। এলাকায় পুলিশি গাড়ি ও কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বাড়ে। কয়েকটি অস্থায়ী বসতিতেও কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের নোটিশ লাগানো হয়। এসব নোটিশে মাদকসংক্রান্ত ফেডারেল আইনের লঙ্ঘনের অভিযোগে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পত্তি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযানটি নিয়ে ভিন্নমতও দেখা গেছে। লস এঞ্জেলেসভিত্তিক একটি কমিউনিটি সংগঠন লস এঞ্জেলেস কমিউনিটি অ্যাকশন নেটওয়ার্ক একে রাজনৈতিক প্রচারের উদ্দেশ্যে তৈরি প্রদর্শনী বলে সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির বক্তব্য, এত বড় আয়োজনের পেছনে ব্যয় করা অর্থ ও সম্পদ গৃহহীন মানুষের স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করতেও ব্যবহার করা যেত। স্কিড রো এলাকায় মাদক কারবার ও গৃহহীনতার সমস্যা দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক এই অভিযান মাদক সরবরাহের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা, আবাসন এবং সামাজিক সহায়তা নিয়ে চলমান বিতর্ককেও সামনে এনেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি অভিযান কার্যক্রমের শেষ নয়; ভবিষ্যতেও এ ধরনের পদক্ষেপ চলতে পারে।