কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। জনপ্রিয় চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি সোমবার জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতে প্রাথমিক শেয়ার বিক্রয় (আইপিও) আনার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) গোপনীয়ভাবে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছে।
তবে ঠিক কবে আইপিও আনা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এক বিবৃতিতে ওপেনএআই জানিয়েছে, “সময়সূচি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। আমরা এখনও কিছু কাজ করতে চাই, যা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবেই করা সহজ।”
ওপেনএআইয়ের এই ঘোষণা এসেছে প্রতিদ্বন্দ্বী এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের একই ধরনের পরিকল্পনার এক সপ্তাহ পর। গত সপ্তাহে ক্লদ (Claude) চ্যাটবটের নির্মাতা অ্যানথ্রপিকও শেয়ারবাজারে আসার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিল।
এদিকে ইলন মাস্কের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সও শিগগিরই নাসডাকে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কোম্পানিটি আশা করছে, শেয়ারবাজারে প্রবেশের সময় তাদের মূল্যায়ন প্রায় ১.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে।
ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মধ্যে প্রতিযোগিতা নতুন নয়। অ্যানথ্রপিকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডারিও আমোদেই পাঁচ বছর আগে ওপেনএআই ছেড়ে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে তিনি প্রতিষ্ঠানটি ত্যাগ করেছিলেন বলে জানা যায়।
বর্তমানে দুই প্রতিষ্ঠানই ব্যবহারকারী, করপোরেট গ্রাহক এবং বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। তাদের বেসরকারি বাজারমূল্যও দ্রুত বাড়ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওপেনএআইয়ের মূল্যায়ন প্রায় ৮৫২ বিলিয়ন ডলার, আর অ্যানথ্রপিকের মূল্যায়ন প্রায় ৯৬৫ বিলিয়ন ডলার।
এখন প্রশ্ন হলো, কোন প্রতিষ্ঠান আগে শেয়ারবাজারে আসবে। যদিও ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক—কোনোটিই এখনো নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা করেনি।
সম্প্রতি সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্যাম অল্টম্যান বলেন, ওপেনএআইয়ের শেয়ারবাজারে যাওয়ার কোনো তাড়াহুড়ো নেই। তিনি বলেন, “যখন এটি সবচেয়ে উপযুক্ত হবে, তখনই আমরা সিদ্ধান্ত নেব।”
সোমবারের বিবৃতিতে ওপেনএআই আরও জানায়, তাদের আইপিও পরিকল্পনার তথ্য ফাঁস হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় আগেভাগেই বিষয়টি প্রকাশ করা হয়েছে। কোম্পানিটির ভাষ্য, শেয়ারবাজারে যাওয়ার সিদ্ধান্তে নানা সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে এসইসিতে নথি জমা দেওয়ার ফলে প্রয়োজন হলে তারা দ্রুত আইপিও আনার সুযোগ পাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক এবং স্পেসএক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ারবাজারে এলে তারা বিপুল পরিমাণ নতুন মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে। বিশেষ করে এআই কোম্পানিগুলোর সবচেয়ে বড় ব্যয় হলো ‘কম্পিউট’ বা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং অবকাঠামো, যা এআই মডেল তৈরি, প্রশিক্ষণ, পরীক্ষা এবং ব্যবহারকারীদের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে প্রয়োজন হয়।
ধারণা করা হয়, ওপেনএআইয়ের বার্ষিক কম্পিউট ব্যয় ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। অথচ প্রতিষ্ঠানটির আয় এখনো সেই ব্যয়ের তুলনায় অনেক কম। স্পেসএক্সও এখনো ধারাবাহিকভাবে লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়নি।
অন্যদিকে অ্যানথ্রপিক বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে, ক্লদ এবং সংশ্লিষ্ট সেবার বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় তারা চলতি বছরের প্রথমার্ধেই লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার আশা করছে।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক ও স্পেসএক্স—তিন প্রতিষ্ঠানকেই প্রতি প্রান্তিকে তাদের আর্থিক কার্যক্রম ও ব্যবসায়িক ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম