অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন কিনতে লস এঞ্জেলেসে রাতভর অপেক্ষা, দাম প্রায় দুই হাজার ডলার
ছয় সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর ফিরল ডিজনিল্যান্ডের ইন্ডিয়ানা জোন্স রাইড, কী কী পরিবর্তন হলো এবার
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
ছয় সপ্তাহের সংস্কারকাজ শেষে আবারও চালু হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার ডিজনিল্যান্ডের জনপ্রিয় ‘ইন্ডিয়ানা জোন্স অ্যাডভেঞ্চার’ রাইড। শুক্রবার থেকে দর্শনার্থীরা আবারও এই রোমাঞ্চকর যাত্রায় অংশ নিতে পারছেন। সংস্কারের সময় রাইডটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ যান্ত্রিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর লক্ষ্য পরিচালনব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানো, যাত্রী ওঠানামার প্রক্রিয়া উন্নত করা এবং প্রতিদিন আরও বেশি দর্শনার্থীকে আকর্ষণটির অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।
১৯৯৫ সালের ৩ মার্চ চালু হওয়া এই রাইড দর্শনার্থীদের নিয়ে যায় ইন্ডিয়ানা জোন্সের কাল্পনিক অভিযানের জগতে। এর গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে ‘টেম্পল অব দ্য ফরবিডেন আই’ বা নিষিদ্ধ চোখের মন্দির। সেখানে গুপ্তধনের সন্ধানে অভিযানে নামেন দর্শনার্থীরা। তবে অভিযানের পথে তাঁদের সতর্ক করা হয়, মন্দিরের দেবতা মারার চোখের দিকে যেন কেউ তাকিয়ে না থাকেন।
সংস্কারের সময় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলোর একটি হলো রাইডের প্রথম বড় দৃশ্যের দরজা পরিচালনার ব্যবস্থায়। এই দরজার মাধ্যমেই দর্শনার্থীরা মন্দিরের দেবতা মারার মুখোমুখি হন। আগে দরজাগুলো খোলা ও বন্ধ করার জন্য হাইড্রোলিক ব্যবস্থা ব্যবহার করা হতো। এখন সেই ব্যবস্থার পরিবর্তে সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক প্রযুক্তি বসানো হয়েছে।
ডিজনিল্যান্ডের অ্যাট্রাকশনস ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস বিভাগের এরিয়া ম্যানেজার নিকোলাস ডিবার্নার্ডোর ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাটি রক্ষণাবেক্ষণ করা সহজ হবে। একই সঙ্গে হাইড্রোলিক তরল ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও আর থাকবে না। দরজাগুলো আগের তুলনায় আরও নির্ভরযোগ্যভাবে খোলা ও বন্ধ করা যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।
রাইডটির ধারণক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে যাত্রী ওঠানো ও নামানোর সময় যানবাহন নির্দিষ্ট স্থানে থামানোর সমস্যা সমাধানে কাজ করা হয়েছে।
আগে রাইডের যানবাহন সব সময় যাত্রী ওঠানো বা নামানোর নির্ধারিত অবস্থানে সঠিকভাবে থামত না। বিনোদনকেন্দ্রের এমন আকর্ষণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ধাপ নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পরিচালনা করতে হয়। ফলে কোনো যানবাহন নির্ধারিত অবস্থান থেকে সরে গেলে সেটি ঠিক করতে যাত্রী ছাড়াই পুরো রাইডের পথ ঘুরিয়ে আনতে হতো। এতে সময় নষ্ট হতো এবং এক ঘণ্টায় যতজন দর্শনার্থীকে রাইডে নেওয়া সম্ভব, সেই সংখ্যাও কমে যেত।
এই সমস্যা সমাধানের পর রাইড পরিচালনার সক্ষমতা বেড়েছে। ডিবার্নার্ডো জানান, যানবাহন নির্ধারিত স্থানে রাখার সমস্যার সমাধান তাঁদের জন্য বড় সাফল্য। এ-সংক্রান্ত কাজ মে মাসেই সম্পন্ন হয়েছিল, যা রাইডটির কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
গত এক বছরে নেওয়া অন্যান্য প্রকৌশলগত পদক্ষেপের সঙ্গে এসব পরিবর্তন মিলিয়ে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১২৫ জন অতিরিক্ত দর্শনার্থীকে রাইডে নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, এতে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার বেশি মানুষ এই আকর্ষণ উপভোগ করার সুযোগ পেতে পারেন।
যাত্রীদের জিনিসপত্র রাখার ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন
সংস্কারের সময় রাইডের যানবাহনে বড় আকারের স্টোরেজ পাউচ বা জিনিসপত্র রাখার থলিও বসানো হয়েছে। যাত্রীরা যাতে পানির বোতল, ব্যাকপ্যাকসহ ব্যক্তিগত সামগ্রী সহজে ও নিরাপদে রাখতে পারেন, সে জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রাইডটির কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো যাত্রীদের জিনিসপত্র থেকে তৈরি হওয়া সমস্যা। ডিবার্নার্ডোর ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক সময় দর্শনার্থীরা পানির বড় বোতল বা ব্যাকপ্যাক সঙ্গে নিয়ে রাইডে ওঠেন, কিন্তু সেগুলো নির্ধারিত স্থানে রাখেন না। রাইডের মধ্যে দ্রুত বাঁক ও নানা ধরনের মোড় থাকায় এসব জিনিস ছিটকে পড়তে পারে। তখন নিরাপত্তার কারণে পুরো রাইড থামিয়ে দিতে হয়।
নতুন স্টোরেজ ব্যবস্থা এবং দর্শনার্থীদের আরও ভালোভাবে নির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনা কমানোর চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। এতে শুধু রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হবে না, অপ্রত্যাশিত কারণে রাইড বন্ধ থাকার সময়ও কমতে পারে।
সংস্কারের পর ইন্ডিয়ানা জোন্স অ্যাডভেঞ্চার আবারও দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এর নতুন প্রযুক্তি, উন্নত যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা এবং ব্যক্তিগত সামগ্রী রাখার বাড়তি সুবিধা রাইডটিকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনায় সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন