আমেরিকা

আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা উদযাপন শুরু, ন্যাশনাল মলে ট্রাম্পের বিশাল সমাবেশ

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত কয়েক সপ্তাহব্যাপী উৎসবের উদ্বোধন করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলে অনুষ্ঠিত এক বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে এই উদযাপনের সূচনা হয়।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত যুদ্ধবিমান ও স্টেলথ বোমারু বিমানের ফ্লাইওভার, সামরিক ব্যান্ডের পরিবেশনা এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষণ ছিল প্রধান আকর্ষণ। সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, “আমেরিকা আবার ফিরে এসেছে। একসময় দেশটি মৃতপ্রায় অবস্থায় ছিল, কিন্তু এখন এটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও সম্মানিত দেশগুলোর একটি।”

ভাষণে তিনি অভিবাসন, ওষুধের দাম, অর্থনীতি এবং পররাষ্ট্রনীতিতে নিজের প্রশাসনের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি দাবি করেন, “হাজার হাজার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো আমরা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে এগোচ্ছি।”

রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে উদযাপন

আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের জন্য নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তবে কিছু অনুষ্ঠানের সঙ্গে ট্রাম্প-সমর্থিত সংগঠনের সম্পৃক্ততা থাকায় এগুলো রাজনৈতিক রূপ নিচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এই উদযাপনের একটি অংশ পরিচালনা করছে আমেরিকা ২৫০, যা কংগ্রেসের উদ্যোগে গঠিত একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। অন্যদিকে ফ্রিডম ২৫০ নামের সংগঠনটি ট্রাম্পের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদযাপনের জন্য কংগ্রেস ১৫ কোটি ডলার বরাদ্দ দিয়েছে। পাশাপাশি ফ্রিডম ২৫০-ও কয়েক কোটি ডলার ব্যয় করছে।

১৬ দিনের বিশাল স্টেট ফেয়ার

২৫ জুন থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত ন্যাশনাল মলে চলবে ১৬ দিনের গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও বিভিন্ন অঞ্চল নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরবে।

এই আয়োজনের অংশ হিসেবে একটি বড় কনসার্ট সিরিজ হওয়ার কথা ছিল। তবে কয়েকজন জনপ্রিয় শিল্পী অনুষ্ঠান থেকে সরে দাঁড়ানোর পর তা বাতিল করা হয়। শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন মার্টিনা ম্যাকব্রাইড, দ্য কমোডোরস, ইয়াং এমসি এবং ব্রেট মাইকেলস।

তাদের কেউ কেউ দাবি করেন, অনুষ্ঠানটি ট্রাম্প-সমর্থিত সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত—এ বিষয়টি তারা আগে জানতেন না।

এরপর ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে তিনি নিজেই একটি বড় রাজনৈতিক সমাবেশ করবেন। তিনি এটিকে “সবচেয়ে বড় সমাবেশ” বলে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ শিল্পী লি গ্রিনউড এবং টেনর গায়ক ক্রিস্টোফার ম্যাকিও অংশ নেন।

হোয়াইট হাউসে ইউএফসি আয়োজন

উদযাপনের অংশ হিসেবে হোয়াইট হাউসের লনে প্রথমবারের মতো একটি পেশাদার ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় একটি ইউএফসি (আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ) ইভেন্ট।

অনুষ্ঠানে ট্রাম্প নিজেও উপস্থিত ছিলেন। মূল লড়াইয়ে মার্কিন ফাইটার জাস্টিন গ্যাথজি স্প্যানিশ-জর্জিয়ান প্রতিদ্বন্দ্বী ইলিয়া তোপুরিয়াকে হারিয়ে জয়ী হন।

রেকর্ড গড়ার লক্ষ্য নিয়ে আতশবাজি

আগামী ৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবসে ওয়াশিংটনে বিশাল আতশবাজির প্রদর্শনী হবে। আয়োজকদের দাবি, এতে ৮ লাখ ৬০ হাজারের বেশি আতশবাজি ব্যবহার করা হবে, যা বিশ্বরেকর্ড গড়তে পারে।

দেশজুড়ে নানা আয়োজন

শুধু ওয়াশিংটন নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরেও বিশেষ আয়োজন থাকবে।

নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে নববর্ষের মতো বিশেষ বল ড্রপ অনুষ্ঠান হবে। এছাড়া ফিলাডেলফিয়া শহরে একটি টাইম ক্যাপসুল মাটির নিচে সংরক্ষণ করা হবে, যা ২২৭৬ সালে খুলে দেখা হবে।

অন্যদিকে লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রায় ৫০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে একটি বড় কনসার্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কার নিয়ে সমালোচনা

উৎসবের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ওয়াশিংটনের বিভিন্ন স্থানে সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কার কাজ।

এপ্রিল মাসে ঐতিহাসিক এই জলাধারের ভেতর নীল রং করা হয়। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এতে পানির লিকেজ সমস্যা দূর হবে এবং রং ৪০ থেকে ৫০ বছর স্থায়ী হবে।

তবে কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই রং উঠে যেতে শুরু করে এবং পানিতে শৈবাল জন্মাতে দেখা যায়। পরে আবারও পুলের পানি সরিয়ে সংস্কারকাজ চালানো হয়। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়লেও ট্রাম্প এর জন্য ভাঙচুরকারীদের দায়ী করেন।

আগামী ৪ জুলাই ন্যাশনাল মলে আরও বড় আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, স্বাধীনতা দিবসে তিনি “সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান” উপহার দেবেন।

এলএবাংলাটাইমস/ওএম