সুপার এল নিনোর প্রভাবে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৪ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা
শক্তিশালী নর’ইস্টারে বিপর্যস্ত বিমান চলাচল, প্রভাব পড়েছে এলএএক্সেও
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে শক্তিশালী নর’ইস্টার আঘাত হানায় দেশজুড়ে বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও উপকূলীয় এলাকায় খারাপ আবহাওয়ার কারণে বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পূর্ব উপকূলের বাইরে থাকা বিমানবন্দর ও সংযোগ ফ্লাইটগুলোর ওপরও পড়ছে, যার মধ্যে লস এঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা এলএএক্সও রয়েছে।
আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে নিউইয়র্ক সিটি এলাকার তিনটি প্রধান বিমানবন্দর—জন এফ কেনেডি, লাগার্ডিয়া ও নিউয়ার্ক—বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফএএ জানিয়েছে, শক্তিশালী বাতাসের কারণে এসব বিমানবন্দরে ফ্লাইট সূচিতে বিঘ্ন ঘটতে পারে। যেসব যাত্রী পূর্ব উপকূলের দিকে যাচ্ছেন বা সেখান থেকে অন্য শহরে সংযোগ ফ্লাইট ধরছেন, তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
নর’ইস্টার সাধারণত উত্তর-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হওয়া শক্তিশালী নিম্নচাপভিত্তিক ঝড়, যা দ্রুত শক্তিশালী হয়ে প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি এবং কখনো তুষারপাত সৃষ্টি করতে পারে। এবারের ঝড়টি মেইন থেকে ওয়াশিংটন ডিসি পর্যন্ত পূর্ব উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু এলাকায় ঘণ্টায় ৫৫ মাইল বা প্রায় ৮৯ কিলোমিটার বেগে দমকা বাতাস বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এমন বাতাসে গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে এবং বিমান ওঠানামাতেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।
ঝড়ের প্রভাবে শুধু বিমান চলাচল নয়, উপকূলীয় এলাকাতেও নানা ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে উপকূলীয় প্লাবন, শক্তিশালী বাতাস, ভারী বৃষ্টি এবং বিপজ্জনক রিপ কারেন্টের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। ফলে সমুদ্রের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষদের পাশাপাশি পর্যটক ও ভ্রমণকারীদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বিমান চলাচলে সমস্যা তৈরি হলে এর প্রভাব দ্রুত পুরো দেশের ফ্লাইট নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কারণ নিউইয়র্ক, বোস্টন ও অন্যান্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বিমানবন্দর যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিমান চলাচল কেন্দ্র। সেখানে কোনো ফ্লাইট দেরি বা বাতিল হলে একই বিমান ও ক্রু দিয়ে পরিচালিত পরবর্তী ফ্লাইটগুলোও সময়সূচির বাইরে চলে যেতে পারে। ফলে সরাসরি ঝড়ের প্রভাব না থাকা শহরগুলোর বিমানবন্দরেও বিলম্ব দেখা দিতে পারে।
লস এঞ্জেলেসের যাত্রীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এলএএক্স থেকে নিউইয়র্ক, বোস্টনসহ পূর্ব উপকূলের বিভিন্ন শহরে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ফ্লাইট চলাচল করে। আবার এলএএক্স থেকে অন্য শহরে যাওয়ার অনেক ফ্লাইটের যাত্রীরা পূর্ব উপকূলের বিমানবন্দর ব্যবহার করে সংযোগ নেন। তাই নর’ইস্টারের কারণে সেখানে ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তিত হলে লস এঞ্জেলেস থেকেও যাত্রীদের অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় আমেরিকান এয়ারলাইনস, জেটব্লু ও ইউনাইটেড এয়ারলাইনস উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নির্দিষ্ট কিছু ফ্লাইটের জন্য পরিবর্তন ফি মওকুফের সুযোগ দিয়েছে। এসব এয়ারলাইনস যাত্রীদের শুক্রবার থেকে রোববারের মধ্যে যাত্রা থাকলে আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভ্রমণের সময় পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছে।
তবে ঝড়ের কারণে ঠিক কতসংখ্যক ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হবে, তা আবহাওয়ার গতিপথ এবং বাতাসের তীব্রতার ওপর নির্ভর করবে। যাত্রীদের তাই বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে নিজেদের এয়ারলাইনসের সর্বশেষ ফ্লাইট স্ট্যাটাস পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে এলএএক্স থেকে পূর্ব উপকূলের উদ্দেশে যাত্রা করা বা পূর্ব উপকূল হয়ে সংযোগ ফ্লাইট নেওয়া যাত্রীদের অতিরিক্ত সময় হাতে রেখে বিমানবন্দরে যাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন