আপডেট :

        গাড়ি তৈরির খরচ কমাতে মাইলেজের মান কমাল যুক্তরাষ্ট্র, ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রভাব কতটা

        হারিকেন মেরির ধাক্কার পর এবার পোলো, ক্ষতির শঙ্কায় ক্যাপিস্ট্রানো বিচ

        লস এঞ্জেলেসের স্কুলের কাছে ডাস্টবিনে নবজাতক, পরে মৃ ত্যু

        আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘটনায় বিদেশি পক্ষের হাত রয়েছে, বললেন রুবিও

        হাসপাতালে নেওয়ার আগেই রক্ত সঞ্চালন, প্যাসাডেনায় নতুন জরুরি চিকিৎসায় ইতিহাস

        ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ে পাসপোর্ট রেকর্ড ব্যবহারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

        সমুদ্রের আগ্রাসন ঠেকাতে পাথর-দেয়াল, দীর্ঘমেয়াদে আরও বিপদে ক্যালিফোর্নিয়া

        সাত বছরেও শেষ হয়নি লস এঞ্জেলেস বিমানবন্দরের দুই মাইলের ট্রেন

        এথেন্সে বিস্ফোরণে ভবন ধস, নিহত ৬ জনের মধ্যে ৪ জনই মার্কিন নাগরিক

        হারিকেন পোলোর প্রভাবে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ঢেউ, বন্যা ও ভাঙনের শঙ্কা

        সান্তা মনিকায় স্বামী-স্ত্রীর মৃ-ত্যু, ১৫ ঘণ্টা পর মিলল সন্ধান

        হারিকেন পোলোর ঢেউ মোকাবিলায় প্রস্তুত লং বিচ, বাড়ছে উপকূলীয় ঝুঁকি

        ব্যাংক অব আমেরিকা আরও ১,০০০ শিক্ষানবিশ নিয়োগ করবে, কর্মী উন্নয়নে দেবে ১৫ কোটি ডলার

        ট্রাম্পের মৃত্যুতে ফ্রি বিয়ার দেওয়ার ঘোষণা, এবার বন্ধের মুখে উইসকনসিনের ব্রুয়ারি

        ট্রাম্পের উপস্থিতি অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে, প্রেসিডেন্টস কাপ জয়ের পর বললেন মার্কিন অধিনায়ক

        ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর ইরানের বার্তা, সংঘাত থামাতে দরকার শুধু আলোচনা

        পোলো ও ওডালিসের প্রভাবে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বড় ঢেউয়ের আশঙ্কা

        সিমি ভ্যালিতে একের পর এক দুর্ঘটনা, ফায়ারফাইটার গু রুতর আ হ ত

        হারমোসা বিচ এলাকায় ৩.৬ মাত্রার ভূমিকম্প, তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই

        ২০২৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় নেকড়ের আ ক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত বহু খামারের পশু

সমুদ্রের আগ্রাসন ঠেকাতে পাথর-দেয়াল, দীর্ঘমেয়াদে আরও বিপদে ক্যালিফোর্নিয়া

সমুদ্রের আগ্রাসন ঠেকাতে পাথর-দেয়াল, দীর্ঘমেয়াদে আরও বিপদে ক্যালিফোর্নিয়া

ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস

প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী হয়ে উঠছে এল নিনো। এর প্রভাবে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে বড় ঢেউ, উচ্চ জোয়ার, বন্যা ও ভয়াবহ সৈকতভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে উপকূলের বাড়িঘর, রেললাইন ও অন্যান্য অবকাঠামো রক্ষায় বড় পাথর, কংক্রিটের দেয়াল ও অন্যান্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগ স্বল্পমেয়াদে স্থাপনা রক্ষা করলেও দীর্ঘমেয়াদে ক্যালিফোর্নিয়ার বালুকাবেলা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার ডানা পয়েন্টের বিচ রোড এলাকায় ইতিমধ্যে প্রায় দুই ডজন বাড়ির সামনে পাথরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির জন্য জরুরি অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সমুদ্রের প্রবল ঢেউ থেকে বাড়িঘর রক্ষা করাই এর উদ্দেশ্য। একই এলাকায় সমুদ্রের কাছাকাছি থাকা রেলপথও দীর্ঘদিন ধরে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। রেললাইন রক্ষায় এর আগে বড় পাথর বসানো হলেও সম্প্রতি এর পাশের বালু ও পলি সমুদ্রে ধসে পড়ার ঘটনা দেখা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উপকূলকে এভাবে শক্ত দেয়াল বা পাথর দিয়ে আটকে দিলে সমুদ্রের দিকে সরে যাওয়ার সুযোগ হারাবে সৈকত। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বালুর জায়গা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে একসময় সৈকত হারিয়ে যেতে পারে। ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস সতর্ক করেছিল, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ থেকে ৬ ফুট বাড়লে শতাব্দীর শেষ নাগাদ ক্যালিফোর্নিয়ার দুই-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত সৈকত হারিয়ে যেতে পারে।

চলতি বছর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া কোস্টাল কমিশন জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ সালের এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়ে ঐতিহাসিক মাত্রায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এল নিনোর কারণে বড় ঢেউ, উপকূলীয় বন্যা ও ভাঙন বাড়তে পারে। এর সঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের দীর্ঘমেয়াদি উচ্চতা যুক্ত হওয়ায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

শুধু ডানা পয়েন্ট নয়, লং বিচেও বালুর বাঁধ তৈরি করে বাড়িঘর রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু শক্তিশালী ঢেউ সেই বাঁধ ভেঙে ফেলে এবং কিছু এলাকায় বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে, সান ক্লেমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ রক্ষায় পাথরের পাশাপাশি সৈকতে নতুন করে বালু দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের বালু পুনঃস্থাপন প্রকল্পে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয় এবং অনুমোদন পেতেও সময় লাগে।

ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তারা বলছেন, জরুরি পরিস্থিতিতে অবকাঠামো রক্ষায় পাথর ব্যবহার অনেক সময় প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে উপকূলকে শুধু শক্ত কাঠামো দিয়ে রক্ষা করার বদলে বাড়িঘর ও অবকাঠামোকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া, সৈকতে বালু যোগ করা এবং প্রাকৃতিক বালিয়াড়ি সংরক্ষণের মতো পদ্ধতিও বিবেচনায় রাখা দরকার।

ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার সামনে এখন বড় প্রশ্ন—প্রবল এল নিনোর ঢেউ থেকে উপকূলের বাড়িঘর ও অবকাঠামো কীভাবে রক্ষা করা হবে, আবার একই সঙ্গে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সৈকতগুলোও কীভাবে টিকিয়ে রাখা যাবে।

শেয়ার করুন

পাঠকের মতামত