ট্রাম্পের শান্তি দূতেরা সপ্তাহান্তে মস্কো ও কিয়েভ সফরে যাচ্ছেন
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে শান্তি চুক্তির উদ্যোগ জোরদার করার অংশ হিসেবে রাশিয়া ও ইউক্রেন সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই গুরুত্বপূর্ণ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। তারা শনিবার মস্কো এবং রোববার কিয়েভ সফর করবেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়া সফরের পর রোববার তিনি উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে বৈঠক করবেন। মস্কোতে তারা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন।
ট্রাম্পের হয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা কুশনার। তবে যুদ্ধরত দুই দেশের মধ্যে এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।
সফর সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তাঁর দূতেরা যুদ্ধ বন্ধের একটি প্রস্তাব নিয়ে যাচ্ছেন।
এরই মধ্যে ইউক্রেনে রুশ হামলা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার জেলেনস্কি জানান, কিয়েভে ইউক্রেনের নিরাপত্তা প্রধান ওলেক্সান্ডার পোকলাদের কার্যালয়ে একটি রুশ ড্রোন আঘাত হানে। তবে ওই হামলায় পোকলাদ অক্ষত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, তিনি ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর প্রধান পোকলাদকে হামলার যথাযথ জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
শনিবার আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানায়, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর কামিয়াঙ্কেতে রুশ হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। ডিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্ডার গানঝা জানান, হামলায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
উইটকফ ও কুশনার এর আগে বেশ কয়েকবার রাশিয়া সফর করলেও ইউক্রেনে এই প্রথমবারের মতো যাওয়ার কথা রয়েছে তাদের।
জেলেনস্কি বলেন, রুশ দূতদের সফরের সময় ইউক্রেন রাশিয়ার আকাশসীমা নিরাপদ রাখার নিশ্চয়তা দেবে। একইভাবে রাশিয়ার কাছ থেকেও ইউক্রেনের আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, উইটকফ ও কুশনার ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর মস্কো এবং পরে কিয়েভে যাওয়ার কথা রয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ অবশ্য এ বিষয়ে আগাম কোনো ঘোষণা দিতে চাননি। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এসব যোগাযোগ হলে তখন জানানো হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার একটি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তবে তিনি বলেন, প্রথমে মস্কো ও কিয়েভকেই নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে।
তবে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনার কথা বললেও ইউক্রেনের কাছ থেকে বড় ধরনের ভূখণ্ড ছাড়সহ নিজের কঠোর দাবিগুলো থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেননি পুতিন।
ইউক্রেন ও দেশটির ইউরোপীয় মিত্ররা পুতিনের এসব শর্ত বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, রাশিয়ার দাবি মেনে নেওয়া কার্যত ইউক্রেনের আত্মসমর্পণের সমান।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হলেও দুই দেশের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন