ইরানের হামলার চেষ্টার জবাবে ব্যাপক বিমান হামলা চালানোর দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার জবাবে দেশটির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বুধবার রাতে চালানো এ অভিযানে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, মঙ্গলবার জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালিতে থাকা জাহাজগুলোর ওপর ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়। তাদের ভাষায়, এটি ছিল ‘শক্তিশালী ও কঠোর প্রতিক্রিয়া’।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কেশম দ্বীপে একটি বাড়িতে আঘাত লাগে। এতে একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হন, যার মধ্যে দুই বছরের একটি শিশুও রয়েছে। এছাড়া দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের আরও কয়েকটি এলাকাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
গত এক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। এরই মধ্যে প্রথমবারের মতো ইরাকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যৌথভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের বেশি চলবে না। তবে পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও সংঘাতের কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেখানে সৌদি আরব উত্তেজনা কমানোর পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
কয়েক দিনের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর আবারও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বেড়ে যায়। উভয় পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও মঙ্গলবার জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার পর পরিস্থিতি বদলে যায়।
হামলার পর ট্রাম্প বলেন, ‘এবার আমাদের পালা। আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত হানব। তারা জানে কী আসছে এবং আমাদের তা না করার অনুরোধও করেছে।’
সেন্টকম জানিয়েছে, বুধবার রাত ৮টা (যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময়) থেকে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই হামলা চালানো হয়। অভিযানে সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনা, উপকূলীয় নজরদারি ও প্রতিরক্ষা কেন্দ্র এবং নৌ সক্ষমতা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, ইরানের ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।
এদিকে জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দেশটির আকাশসীমার দিকে ছোড়া ইরানের পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার আইআরজিসি দাবি করেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ‘আগ্রাসনের’ জবাবে তারা জর্ডানে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি ও একটি কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারেও হামলার দাবি করে তারা।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ হামলায় ইরাকের পূর্বাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন অস্ত্র ও রসদ সংরক্ষণাগার লক্ষ্যবস্তু করা হয়। ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) জানিয়েছে, ওই হামলায় তাদের অন্তত ২০ সদস্য নিহত হয়েছেন।
তবে ইরাকের প্রেসিডেন্সি এই হামলার নিন্দা জানিয়ে এটিকে দেশটির সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, হামলাগুলো ইরাক সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই চালানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সুন্নি নেতৃত্বাধীন সৌদি আরব এবং শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরানের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই নতুন করে এই সংঘাত আরও জটিল রূপ নিচ্ছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন