বাবাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে ক্যালিফোর্নিয়ার যুবকের ৩৯ বছর কারাদণ্ড
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
ভেনচুরা কাউন্টিতে বাবাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে এক ব্যক্তিকে ৩৯ বছর ৪ মাস থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সিমি ভ্যালির বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী জেরার্দো আরোয়ো আলমানজা গত ৩ আগস্ট দ্বিতীয় মাত্রার হত্যা এবং পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়ার তিনটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। পরে ১১ সেপ্টেম্বর তাঁকে এই সাজা দেওয়া হয়।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ৬ এপ্রিল সকালে। সেদিন পরিবারের কয়েকজন সদস্য আলমানজার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার খোঁজ নিতে তাঁর বাড়িতে যান। বাড়িটি ইস্ট পাইনক্রেস্ট স্ট্রিট ও নর্থ জাস্টিন অ্যাভিনিউয়ের কাছে। তাঁরা বাড়ির বিপরীতে গাড়ি পার্ক করে সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
এ সময় আলমানজা হাতে ছুরি নিয়ে হঠাৎ বাড়ি থেকে বের হয়ে পরিবারের সদস্যদের দিকে এগিয়ে যান। প্রসিকিউটরদের মতে, তিনি তাঁদের হত্যার হুমকি দিতে থাকেন।
একপর্যায়ে তিনি গাড়ির চারপাশ দিয়ে তাঁর বাবা ও মাকে ধাওয়া করেন। পরে বাবাকে ধরে মাটিতে ফেলে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করেন। প্রতিবেশীরা সাহায্যের জন্য এগিয়ে এলে আলমানজা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
আহত বাবা আলফ্রেদো আরোয়ো সানসেনের বয়স ছিল ৭১ বছর। ঘটনাস্থলের এক প্রতিবেশী, যিনি জরুরি চিকিৎসায় প্রশিক্ষিত ছিলেন, তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।
পরে সিমি ভ্যালি পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এক ব্লক দূরে লুকিয়ে থাকা আলমানজাকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে।
মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁর মানসিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ২০২৫ সালের মার্চে আদালতের নিয়োগ করা একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ প্রাথমিকভাবে তাঁকে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার অযোগ্য বলে নির্ধারণ করেন। তবে কয়েক মাস পর, ২০২৫ সালের অক্টোবরে তাঁকে বিচারের জন্য মানসিকভাবে সক্ষম বলে ঘোষণা করা হয়।
২০২৬ সালের ৪ আগস্ট আলমানজা তাঁর বাবাকে হত্যাসহ অন্যান্য অপরাধের দায় স্বীকার করেন। একই সঙ্গে আগের একটি গুরুতর অপরাধের রেকর্ড এবং হত্যাকাণ্ডে অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টিও স্বীকার করেন।
১১ সেপ্টেম্বর আদালত তাঁকে ৩৯ বছর ৪ মাস থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
মামলাটির প্রধান কৌঁসুলি ও সিনিয়র ডেপুটি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি থেরেসা পোলারা বলেন, এই দোষ স্বীকারের মাধ্যমে বাবার ওপর চালানো নৃশংস সহিংসতা এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের দেওয়া হত্যার হুমকির জন্য আলমানজাকে জবাবদিহির আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরিবারের সদস্যরা যেন ধীরে ধীরে এই শোক কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন—এটাই তাঁদের আশা।
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন