শ্রমিক দিবসের ছুটিতে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বৃষ্টি ও ঝড়ের আশঙ্কা
শ্রমিক দিবসের ছুটিতে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বৃষ্টি ও ঝড়ের আশঙ্কা
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
এল নিনোর প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরে একের পর এক ক্রান্তীয় ঝড় তৈরি হওয়ায় শ্রমিক দিবসের ছুটির সপ্তাহান্তে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার আবহাওয়ায় এর প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে ‘ট্রপিক্যাল স্টর্ম মেরি’ পর্যবেক্ষণ করছেন আবহাওয়াবিদরা। ঝড়টি শক্তি বাড়িয়ে হারিকেনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঝড়টি বর্তমানে উত্তর দিকে এগোচ্ছে। বিভিন্ন কম্পিউটার মডেলের পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে, এটি দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলের কাছাকাছি চলে আসতে পারে। তবে মডেলগুলোর পূর্বাভাসে বেশ পার্থক্য রয়েছে। কিছু মডেলে ঝড়টিকে উপকূলের তুলনামূলক কাছে দেখানো হলেও বেশির ভাগ মডেল বলছে, ঝড়টি উপকূল থেকে দূরেই থাকবে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহান্তের দিকে মেরি আরও শক্তিশালী হয়ে হারিকেনে পরিণত হতে পারে। ঝড়টি দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলের কাছে এলে শ্রমিক দিবসের ছুটিতে বৃষ্টি, দমকা বাতাস ও বড় ঢেউ তৈরি হতে পারে।
জাতীয় আবহাওয়া সেবা মঙ্গলবার জানিয়েছে, শ্রমিক দিবসে সমুদ্রসৈকতে যাওয়া মানুষের জন্য বড় ঢেউ ও শক্তিশালী রিপ কারেন্টের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণমুখী উপকূলীয় এলাকায় ক্ষতিকর মাত্রার জলোচ্ছ্বাস বা উপকূল প্লাবনের মাঝারি সম্ভাবনাও রয়েছে।
এ ছাড়া ছুটির বিভিন্ন আয়োজন ও অনুষ্ঠানে হালকা বৃষ্টির প্রভাব পড়ার মাঝারি সম্ভাবনা রয়েছে। মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা অবশ্য কম বলে জানিয়েছে জাতীয় আবহাওয়া সেবা।
ঝড়টির গতিপথ শেষ পর্যন্ত যাই হোক, মেরির কারণে শ্রমিক দিবসের ছুটিতে সমুদ্রের ঢেউ ও রিপ কারেন্ট শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরে ক্রান্তীয় ঝড়ের কারণে তৈরি হওয়া বড় ঢেউ উপকূলীয় এলাকায় এরই মধ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
ঝড়ের গতিপথের পূর্বাভাস দিতে আবহাওয়াবিদরা ‘স্প্যাগেটি মডেল’ ব্যবহার করছেন। বিভিন্ন কম্পিউটার মডেলের পূর্বাভাস একসঙ্গে মানচিত্রে দেখানো হলে সেগুলো দেখতে অনেকটা ছড়িয়ে থাকা স্প্যাগেটির মতো মনে হয়। তাই এর নাম দেওয়া হয়েছে স্প্যাগেটি মডেল।
এসব মডেল বিশ্বের দ্রুতগতির কম্পিউটারে বিপুলসংখ্যক হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে তৈরি করা হয়। একটি ক্রান্তীয় ঝড় বা হারিকেন কোন দিকে যেতে পারে, তা বোঝার জন্য এগুলো ব্যবহার করা হয়। মডেলগুলোর রেখাগুলো যত কাছাকাছি থাকে, পূর্বাভাসের ওপর তত বেশি আস্থা রাখা যায়। রেখাগুলো দূরে দূরে ছড়িয়ে থাকলে পূর্বাভাসে অনিশ্চয়তা বেশি বোঝায়।
স্প্যাগেটি মডেলও এক ধরনের নয়। এর মধ্যে রয়েছে ডায়নামিক, পরিসংখ্যানভিত্তিক এবং এনসেম্বল বা সমন্বিত মডেল। ডায়নামিক মডেলগুলো আবহাওয়ার বিভিন্ন শারীরিক সমীকরণ বিশ্লেষণ করে পূর্বাভাস তৈরি করে। পরিসংখ্যানভিত্তিক মডেল অতীতের ঝড়ের আচরণ ও নির্দিষ্ট পরিস্থিতির তথ্য ব্যবহার করে পূর্বাভাস দেয়। আর এনসেম্বল মডেল একাধিক মডেলের পূর্বাভাস একত্র করে সম্ভাব্য গতিপথ নির্ধারণ করে।
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এসব মডেল পরিচালনা করে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সেবার জিএফএস এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর যৌথভাবে পরিচালিত ইসিএমডব্লিউএফ অন্যতম পরিচিত মডেল।
এসব মডেল দিনে একাধিকবার চালানো হয় এবং নতুন তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পূর্বাভাস পরিবর্তিত হতে পারে। তাই একটি নির্দিষ্ট পূর্বাভাসের চেয়ে কয়েক দফার পূর্বাভাসে ঝড়ের গতিপথ কোন দিকে যাচ্ছে, সেটি দেখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, কোনো পূর্বাভাসই শতভাগ নির্ভুল নয়। তবে স্প্যাগেটি মডেল ঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ সম্পর্কে ধারণা দিতে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকির জন্য আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন