ডানপন্থী ভাষ্যকার মিলো ইয়ান্নোপোলাসকে আটক করেছে আইসিই
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
ব্রিটিশ ডানপন্থী রাজনৈতিক ভাষ্যকার মিলো ইয়ান্নোপোলাসকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। বর্তমানে তাকে হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং বহিষ্কারের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
৪১ বছর বয়সী ইয়ান্নোপোলাস একসময় ব্রেইটবার্ট নিউজের সম্পাদক ছিলেন। তিনি র্যাপার কানিয়ে ওয়েস্টের রাজনৈতিক প্রচেষ্টার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। আইসিইর বন্দি তালিকার তথ্য অনুযায়ী, তাকে লুইজিয়ানায় আটক রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, ২২ জুলাই একজন অভিবাসন বিচারক ইয়ান্নোপোলাসকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত আদেশ দেন। কারণ, তিনি তার নির্ধারিত অভিবাসন শুনানিতে হাজির হননি। বহিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত তাকে হেফাজতেই রাখা হবে।
ইয়ান্নোপোলাস নিজেকে ইন্টারনেটের ‘সবচেয়ে চমকপ্রদ সুপারভিলেন’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তবে সমালোচকেরা তাকে ঘৃণাত্মক বক্তব্য ছড়ানোর জন্য অভিযুক্ত করে থাকেন।
ইংল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় কেন্টে বেড়ে ওঠা ইয়ান্নোপোলাসকে ২৭ আগস্ট নিউ অরলিন্স বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর আটক করা হয়।
ডিএইচএস জানিয়েছে, তিনি ২০১৯ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। এরপর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে থেকে যান। এ ঘটনাকে মার্কিন অভিবাসন আইন লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে ডিএইচএস তাকে ‘যুক্তরাজ্যের অবৈধ অভিবাসী’ বলে অভিহিত করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ বিষয়ে ওয়াশিংটনে ব্রিটিশ দূতাবাসের কাছে মন্তব্য চেয়েছে। তবে ইয়ান্নোপোলাস বিবিসির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি।
ডিএইচএস এক বিবৃতিতে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিবাসীদের উদ্দেশে বলেছে, ‘আটকে থাকা একটি পছন্দ’ এবং তাদের এখনই স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করা উচিত।
২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইয়ান্নোপোলাস ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম দিকের সমর্থকদের একজন। ওই বছর রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনের সময় তিনি ‘গেজ ফর ট্রাম্প’ নামে একটি অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন।
পরবর্তীতে ট্রাম্পের সমালোচক হয়ে উঠলেও রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছিলেন ইয়ান্নোপোলাস। চলতি বছরের মার্চে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ট্রাম্প ‘পথ হারিয়েছেন এবং বিদেশি স্বার্থের কাছে বিক্রি হয়ে গেছেন’।
ট্রান্সজেন্ডার মানুষ, মুসলিম, ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলন, নারীবাদী ও সমকামীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচিত ইয়ান্নোপোলাস। যদিও তিনি নিজেও একসময় নিজেকে সমকামী হিসেবে পরিচয় দিতেন। বর্তমানে তিনি নিজেকে ‘প্রাক্তন সমকামী’ হিসেবে দাবি করেন।
২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রচেষ্টায় কানিয়ে ওয়েস্টকে সহায়তা করেছিলেন ইয়ান্নোপোলাস। তিনি সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য মার্জরি টেলর গ্রিনের সঙ্গেও কাজ করেছেন। পরবর্তীতে গ্রিন ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে তার কঠোর সমালোচক হয়ে ওঠেন এবং শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন।
ইয়ান্নোপোলাস বিভিন্ন সময় নারীবাদ ও জন্মনিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্কিত কলাম লিখেছেন। আইসিইর অভিযান নিয়েও তিনি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। গত বছর এক পোস্টে আইসিই কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের সময় সম্পূর্ণ আইনি দায়মুক্তি দেওয়ার পক্ষে মত দেন।
২০২৫ সালে এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘লক্ষ লক্ষ মানুষকে বহিষ্কার করতে হবে। এটি ছাড়া আর কিছুই গুরুত্বপূর্ণ নয়।’ যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার প্রমাণ দেখাতে না পারা যেকোনো ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলেই বহিষ্কারের পক্ষেও তিনি মত দিয়েছিলেন।
ইয়ান্নোপোলাসের গ্রেপ্তারের কৃতিত্ব দাবি করেছেন ডানপন্থী ভাষ্যকার ও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী লরা লুমার। ইয়ান্নোপোলাসের সঙ্গে লুমারের আগে থেকেই বিরোধ রয়েছে।
শুক্রবার রাতে এক্সে লুমার দাবি করেন, ইয়ান্নোপোলাসকে যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানোর ফ্লাইট ইতোমধ্যে ছেড়ে গেছে। তিনি বলেন, ইয়ান্নোপোলাসকে আর কখনো যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীলদের অন্যতম বড় সম্মেলন সিপ্যাকে (CPAC) বক্তৃতা দেওয়ার আমন্ত্রণ বাতিল করা হয় ইয়ান্নোপোলাসের। তার বিরুদ্ধে শিশুদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ককে সমর্থন করার মতো মন্তব্যের অভিযোগ ওঠার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরে তিনি এ বিষয়ে ক্ষমা চান এবং ব্রেইটবার্ট নিউজ থেকে পদত্যাগ করেন। ইয়ান্নোপোলাস অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিলেন, তিনি নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলছিলেন।
একসময় ইয়ান্নোপোলাসকে ‘অল্ট-রাইট’ বা উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে নিয়মিতভাবে যুক্ত করা হতো। এই গোষ্ঠী রাজনৈতিক শুদ্ধাচার ও নারীবাদের বিরোধিতা করে এবং এর সঙ্গে নব্য-নাৎসি ও শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীদেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে।
তবে ইয়ান্নোপোলাস নিজেকে অল্ট-রাইটের অংশ মনে করেন না বলে জানিয়েছেন। যদিও অতীতে তিনি এই আন্দোলনকে ‘উদ্দীপনাময় ও উত্তেজনাপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন