কলোরাডো নদীর পানি কমে যাওয়ায় তিন অঙ্গরাজ্যে বড় ধরনের পানি কাটছাঁট
কলোরাডো নদীর পানি কমে যাওয়ায় তিন অঙ্গরাজ্যে বড় ধরনের পানি কাটছাঁট
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কলোরাডো নদীতে পানির সরবরাহ দ্রুত কমে যাওয়ায় পশ্চিমাঞ্চলের তিন অঙ্গরাজ্যে আগামী দুই বছরের জন্য বড় ধরনের পানি ব্যবহারে কাটছাঁট ঘোষণা করেছে ফেডারেল সরকার।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব রিক্লেমেশন জানায়, ক্যালিফোর্নিয়া, নেভাদা ও অ্যারিজোনা—এই তিন অঙ্গরাজ্যকে মিলিয়ে প্রতি বছর ১২ লাখ ৫০ হাজার একর-ফুট পানি ব্যবহার কমাতে হবে। এর পরিমাণ প্রায় ১৫৪ কোটি ঘনমিটার। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে এই কাটছাঁটের পরিমাণ বাড়তে পারে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পানি কমাতে হবে অ্যারিজোনাকে। তবে নদীর উজানে থাকা কলোরাডো, ইউটাহ, ওয়াইওমিং ও নিউ মেক্সিকোতে আপাতত কোনো কাটছাঁট আরোপ করা হয়নি।
অন্যদিকে প্রতিবেশী মেক্সিকোকে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো চুক্তির আওতায় বছরে আরও ২ লাখ ৫০ হাজার একর-ফুট, অর্থাৎ প্রায় ৩১ কোটি ঘনমিটার পানি ব্যবহার কমাতে হবে।
দীর্ঘস্থায়ী খরায় সংকট বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পানি ও বিজ্ঞানবিষয়ক সহকারী সচিব আন্দ্রেয়া ট্রাভনিসেক বলেন, কলোরাডো নদীর অববাহিকায় টানা ২৬ বছর ধরে দীর্ঘস্থায়ী খরা চলছে। ভবিষ্যতেও এই খরা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, পুরো নদী অববাহিকার পানি ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কলোরাডো নদীর পানি ব্যবহারের বর্তমান নিয়ম আগামী অক্টোবরেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। তবে নদীর পানি দীর্ঘমেয়াদে কীভাবে ভাগ করা হবে, তা নিয়ে সাতটি অঙ্গরাজ্য এখনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি।
গত শীতে কলোরাডো নদীর অববাহিকায় রেকর্ড পরিমাণ কম তুষারপাত হয়েছে। ফলে নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল কৃষক, শিল্প, বন্যপ্রাণী ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আরও চাপে পড়েছে। এ ছাড়া কয়েক ডজন নেটিভ আমেরিকান জনগোষ্ঠীসহ কোটি কোটি মানুষ এই নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল।
দুই বড় জলাধারে পানির স্তর নেমে গেছে
বছরের পর বছর অতিরিক্ত পানি ব্যবহার, খরা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাড়তে থাকা তাপমাত্রা কলোরাডো নদীর পানির সংকট আরও তীব্র করেছে।
কলোরাডো নদীর পানিতে পূর্ণ হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বড় জলাধার—লেক মিড ও লেক পাওয়েল—দুটিতেই পানির স্তর দ্রুত কমে যাচ্ছে।
সম্প্রতি লেক মিডে পানির স্তর প্রায় ৯০ বছর আগে জলাধারটি ভরাট শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। এর প্রায় এক সপ্তাহ পর একই রেকর্ডে পৌঁছায় লেক পাওয়েল। দুই জলাধারে থাকা পানির সম্মিলিত মজুতও প্রায় ৭০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
স্বল্পমেয়াদি সমাধান, স্থায়ী নয়
পানি ব্যবহারে কাটছাঁটের বিষয়ে অ্যারিজোনার পানি কর্মকর্তারা ক্যালিফোর্নিয়া ও নেভাদার সহযোগিতার প্রশংসা করেছেন।
অ্যারিজোনা ডিপার্টমেন্ট অব ওয়াটার রিসোর্সেসের পরিচালক টম বুশাটজকে বলেন, ২০২৭ ও ২০২৮ সালের জন্য নির্ধারিত এই কাটছাঁট সংশ্লিষ্টদের কিছুটা স্থিতিশীলতা দেবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে নদীর পানি কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, সে বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।
ক্যালিফোর্নিয়ার কলোরাডো নদী বিষয়ক প্রধান আলোচক জেবি হ্যাম্বি বলেন, বর্তমান পরিকল্পনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে কিছুটা স্বস্তি ও নিশ্চয়তা দেবে। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়, বরং স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত একটি ‘সেতু’ হিসেবে কাজ করবে।
নেভাদার কর্মকর্তারাও অ্যারিজোনা ও ক্যালিফোর্নিয়ার সঙ্গে সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে নদীর পানি ব্যবস্থাপনায় সাত অঙ্গরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ঐকমত্যই তাদের পছন্দের সমাধান বলে জানিয়েছেন তারা।
লাস ভেগাসেও পড়তে পারে প্রভাব
দক্ষিণ নেভাদায় পানি সংকটের কারণে ভবিষ্যতে বড় ধরনের আবাসন ও বাণিজ্যিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পরিবেশবাদীরা।
গ্রেট বেসিন ওয়াটার নেটওয়ার্কের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কাইল রোরিঙ্ক বলেন, নতুন বিমানবন্দর ও শপিং মল নির্মাণ এবং কিছু সরকারি জমি বিক্রির পরিকল্পনাও এগোয়নি। কলোরাডো নদীর পানির সংকটের ভয়াবহতা সরকারি নথিতেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তার মতে, আরও পানি কাটছাঁট হলে লাস ভেগাস মহানগর এলাকায় আবাসন ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের গতি কমে যেতে পারে।
রোরিঙ্ক বলেন, হুভার ড্যাম যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি ও সক্ষমতার প্রতীক। এর পানির স্তর কমে গেলে এবং সৌন্দর্য হারালে তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তবে একই সঙ্গে এটি আগামী ১০০ বছরের জন্য আরও টেকসইভাবে পানি ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি নেওয়ার বড় সুযোগও তৈরি করতে পারে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন