বাজেট সংকটে রিভারসাইড কাউন্টিতে ৬২২ শেরিফের পদ কমানোর আশঙ্কা
বাজেট সংকটে রিভারসাইড কাউন্টিতে ৬২২ শেরিফের পদ কমানোর আশঙ্কা
ছবিঃ এলএবাংলাটাইমস
ক্যালিফোর্নিয়ার রিভারসাইড কাউন্টিতে বাজেট সংকটের কারণে শেরিফ বিভাগের ৬২২টি পদ কমে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কাউন্টি শেরিফ চ্যাড বিয়ানকো।
সর্বশেষ বাজেটে শেরিফ বিভাগের জন্য বরাদ্দ নিয়ে কাউন্টি বোর্ড অব সুপারভাইজারসের সমালোচনা করেছেন বিয়ানকো। তার দাবি, প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থ না পেলে কর্মীসংখ্যা কমানো ছাড়া বিভাগের সামনে আর কোনো পথ থাকবে না।
আইউইটনেস নিউজকে বিয়ানকো বলেন, এমন পরিস্থিতি আসতে পারে—এ কথা তিনি অনেক আগেই কাউন্টি কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলেন। তার অভিযোগ, কর্মকর্তারা সমস্যাটি সমাধানের বিষয়টি বারবার পিছিয়ে দিয়েছেন এবং এর পরিণতি নিয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দেখাননি।
বিয়ানকোর দাবি, কর্মীসংখ্যা কমানো এড়াতে শেরিফ বিভাগের আরও ১৫ কোটি ডলারের বেশি অর্থ প্রয়োজন। তবে বাজেট নিয়ে আলোচনার সময় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাউন্টি বোর্ড শেরিফ বিভাগের বাজেট কমায়নি; বরং প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার বাড়িয়েছে।
তবুও বিয়ানকো বলছেন, এই বাড়তি অর্থ প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। তার হিসাবে, বিভাগের অর্থ ঘাটতি প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এই ঘাটতি পূরণ না হলে ৬২২ জন ডেপুটি শেরিফের সমপরিমাণ পদ কমানোর পরিস্থিতি তৈরি হবে।
বিয়ানকো বলেন, “তারা জানে আমার বিভাগে কর্মীর ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। তারা জানে যে আমার ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঘাটতি রয়েছে। আর এই অর্থের পরিমাণ ৬২২ জন ডেপুটি শেরিফের পদের সমান। হিসাবটা খুবই সহজ।”
তবে রিভারসাইড কাউন্টির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেফ ভ্যান ওয়াগেনেন বাজেট নিয়ে শেরিফের অভিযোগের জবাব দিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাজেট শুনানির সময় শেরিফ বিভাগসহ বেশ কয়েকটি বিভাগ বর্তমান কর্মীসংখ্যা ধরে রাখতে অতিরিক্ত অর্থ চেয়েছিল।
তিনি বলেন, জননিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের মতো বিভিন্ন দপ্তরও বাজেট তৈরির সময় একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছিল। এসব অনুরোধের পেছনে বাস্তব পরিচালনাগত চাপ ছিল। কিন্তু সব বিভাগের অতিরিক্ত অর্থের দাবি মেটাতে যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন ছিল, তা কাউন্টির হাতে থাকা অতিরিক্ত রাজস্বের তুলনায় অনেক বেশি।
ভ্যান ওয়াগেনেন বলেন, সীমিত অর্থের মধ্যে বিভিন্ন অগ্রাধিকার সামলাতে হয়েছে বোর্ডকে। একই সঙ্গে কাউন্টির দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাজেট শুনানির সময় বোর্ড আর্থিক চাপ সামলানোর পাশাপাশি ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই এবং বড় ধরনের সেবা ব্যাহত হওয়া এড়ানোর চেষ্টা করার কথা জানিয়েছিল।
তবে বিয়ানকো কাউন্টি কর্মকর্তাদের এই অবস্থানকে ‘অসৎ’ বলে সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, এই বাজেটের ফলে কী ধরনের পরিণতি হতে পারে, কর্মকর্তারা তা ভালোভাবেই জানেন।
বিয়ানকোর মতে, কর্মী কমানোর প্রভাব পুরো কাউন্টিতে সমানভাবে পড়বে না। মোরেনো ভ্যালি, লেক এলসিনোর ও টেমেকুলার মতো যেসব শহর কাউন্টির শেরিফ বিভাগের সেবার জন্য চুক্তিভিত্তিক অর্থ দেয়, সেগুলোতে অর্থায়ন পুরোপুরি বজায় থাকবে।
তিনি বলেন, বরং কম জনসংখ্যার অসংগঠিত বা আনইনকরপোরেটেড এলাকাগুলোতেই কর্মী কমানোর প্রভাব বেশি পড়বে।
তবে ৬২২টি পদ কমানোর প্রয়োজন হলেও সব পদ সরাসরি ছাঁটাই করা হবে না বলে জানিয়েছেন বিয়ানকো। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, অবসর, বদলি এবং স্বাভাবিকভাবে পদ খালি হওয়ার মাধ্যমে প্রায় ২০০টি পদ কমানো হবে।
বাকি ডেপুটি শেরিফদের বেতন চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও জানিয়েছেন তিনি। এতে বিভাগের বাজেট নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে গেলেও প্রয়োজন হলে অর্থ ব্যয় চালিয়ে যাবেন বলে স্পষ্ট করেছেন বিয়ানকো।
এবিসি৭-এর প্রতিবেদক রব ম্যাকমিলান যখন জানতে চান, তাহলে কি বাজেটের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা হবে, বিয়ানকো সরাসরি বলেন, “হ্যাঁ।”
বাজেটের সীমা ছাড়িয়ে গেলে কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবেও তিনি একই কথা বলেন। অর্থাৎ প্রয়োজন হলে অনুমোদিত বাজেটের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতেও তিনি প্রস্তুত।
বাজেট সংকট নিয়ে শেরিফ ও কাউন্টি কর্মকর্তাদের মতপার্থক্যের কারণে রিভারসাইড কাউন্টিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জনবল ও সেবা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এলএবাংলাটাইমস/ওএম
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার করুন